০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:২৯

চট্টগ্রাম-১৩ আসনে বিএনপির প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর

বিএনপির প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজামের নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়  © টিডিসি

চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) সংসদীয় আসনে আবারও নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের নির্বাচনী কার্যালয়।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের ১ নম্বর খাসখামা ওয়ার্ডের কলঘরের দুয়ার এলাকায় অবস্থিত ওই নির্বাচনী কার্যালয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরে আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে নেতাকর্মীরা কার্যালয়ে এসে ভাঙচুরের চিহ্ন দেখতে পান।

সরেজমিনে দেখা যায়, কার্যালয়ের ব্যানার ও লিফলেট ছেঁড়া অবস্থায় পড়ে আছে। ভেঙে ফেলা হয়েছে বেশ কয়েকটি চেয়ার। ডেকোরেশনের কাপড়ও ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।

উপস্থিত নেতাকর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, রাত ১২টা পর্যন্ত কার্যালয়ের সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। সকালে এসে তারা ভাঙচুরের দৃশ্য দেখতে পান। তাঁদের দাবি, গুপ্ত কোনো চক্র অন্য দলের কর্মীদের ভিড়ে মিশে এমন হামলা চালাতে পারে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও আনোয়ারা থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান তারা। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা ইকবাল হাসান জুয়েল বলেন, ‘নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করতেই পরিকল্পিতভাবে এমন হামলা চালানো হচ্ছে। প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা ও দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।’

নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব শাহরিয়ার ইকবাল বলেন, ‘বিষয়টি ইতিমধ্যে আমি আমাদের উচ্চপদস্থ নেতাদের জানিয়েছি। এই হামলা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও নির্বাচনী পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক। অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।’

জানতে চাইলে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি জেনেছি। পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গেছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে একই এলাকায় বৃহত্তর সুন্নী জোট মনোনীত প্রার্থী এস এম শাহজাহানের নির্বাচনী কার্যালয়েও হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় এলাকায় নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।