০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৪

মাধবপুরে প্রতিপক্ষের ব্যানার সরানোর ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট ছাত্রদল নেতার

পোস্টকারী ছাত্রদল নেতা এবং তার দেওয়া ফেসবুক পোস্ট  © টিডিসি সম্পাদিত

হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ঘোনাপাড়া থেকে ধানের শীষ ব্যতিত অন্যান্য দলের ব্যানার সরিয়ে ফেলার ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট দিয়েছেন ইউনিয়ন ছাত্রদলের এক নেতা। তার দেয়া এমন পোস্ট ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক এবং চলছে ব্যাপক সমালোচনা।

পোস্ট দেয়া ছাত্রদল নেতার নাম জাবেদ আলী রাসেল। তিনি বহরা ইউনিয়ন ছাত্রদলের নেতা বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দেয়া পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমাদের ঘোনাপাড়া এমন একটি গ্রাম, মাশাল্লাহ ধানের ব্যানার ছাড়া আর কোনো ব্যানার নেই। আজকে ফাইনাল করে দিছি।’ পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে নানা মন্তব্য দেখা যায়।

মুসা আহমেদ অপু নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী সে পোস্টের কমেন্টে লিখেন, চাচা, ঘোনাপাড়া বাজারে আমার বড়ই গাছে একটা ব্যানার এখনো রয়েছে, সেটা খোলা হয়নি।

এর আগেও এসব বিষয়ে বিভিন্ন প্রার্থী তাদের ব্যানার সরিয়ে ফেলা এবং ছেঁড়ার অভিযোগ করেছেন। মাওলানা গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর ‘মোমবাতি’প্রতীকের ব্যানার বারবার ছিড়ে ফেলার অভিযোগ করে আসছেন। তাছাড়াও মাধবপুর উপজেলা ও বহরা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ধানের শীষ প্রতীক ছাড়া অন্য প্রার্থীদের ব্যানার সরিয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।

গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর কয়েকজন কর্মী অভিযোগ করেন, প্রায়ই তাদের ব্যানার ছেঁড়া বা খুলে নেওয়া হচ্ছে, কিন্তু এর কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের মতে, প্রকাশ্যে এমন পোস্ট সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশের জন্য হুমকি তৈরি করছে।

এ বিষয়ে উপজেলা ও বহরা ইউনিয়নের বিএনপির কয়েকজন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা মন্তব্য করতে রাজি না হলেও তারা বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ও জামায়াত জোটের হবিগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী আব্দুল কাদের বাচ্চু বলেন, ঘটনা সত্য হলে এটি দুঃখজনক। অবশ্যই তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।

এ বিষয়ে মাধবপুরের ইউএনও ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা জাহিদ বিন কাসেমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে অভিযুক্ত জাবেদ আলী রাসেলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।