০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:২৮

উন্নয়নের নামে দেশে লুটপাট হয়েছে: তারেক রহমান

তারেক রহমান   © সংগৃহীত

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘১৭ বছর আমি দেশে ছিলাম না। শুনেছি অনেক উন্নয়ন হয়েছে কিন্তু বাস্তবে দেখলাম উন্নয়নের নামে লুটপাট হয়েছে। সময় এসেছে, আপনাদের কাছ থেকে যে অধিকার ছিনিয়ে নিয়েছিল, সেটির সঠিক প্রয়োগের। আমি আপনাদের কাছে ধানের শীষের প্রতীকে ভোট চাই।’

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের জনগণ ১২ ফেব্রুয়ারি তাদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। যারা জবাবদিহি করার মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে ‘গুপ্ত’ দলের লোকেরা জালিম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বাংলাদেশে নারী-পুরুষ মিলে মাঠে কাজ করে। নতুন জালিম যাদের মানুষ ‘গুপ্ত’ হিসেবে চেনে, সেই জালিমদের নেতা নারীদের নিয়ে ‌‘কলঙ্কিত’ শব্দ ব্যবহার করেছেন। এরা ইসলামের রাজনীতি করে কিন্তু এরা নারীদের নিয়ে কীভাবে ‘কলঙ্কিত’ শব্দ ব্যবহার করে? একটি দলের সমালোচনা করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘অতীত ইতিহাস মানুষ ভুলে যায়নি। ওই গুপ্ত দলের নেতাদের সহযোগিতায় এদেশের লক্ষ লক্ষ মা-বোন নির্যাতিত হতে হয়েছিল। তাদের ব্যাপারে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে। যারা নিজে দেশের মা-বোনদের সম্মান করতে জানে না, তাদের কাছ থেকে আর যাই হোক, ভালো কিছু আশা করা যায় না।’

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে ফরিদপুরের নির্বাচনি জনসভা মঞ্চে ওঠেন। ৩টা ২১ মিনিটে তার বক্তব্য শুরু করেন। তিনি ২৪ মিনিটের বক্তব্যে আরও বলেন, ‘ফরিদপুরের উন্নয়ন নিয়ে এ জেলার নেতারা যে দাবি তুলেছেন, এক সিটি করপোরেশন ও বিভাগ। আমরা রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে অবশ্যই সেটি পূরণ করা হবে।’ তারেক রহমান বলেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মোদারেরছ আলী ইছা। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারম্যান ‘গুপ্ত দল’ প্রসঙ্গে আরও বলেন, তারা বিকাশ নম্বর চাইছে, তারা এনআইডি কার্ড চাইছে। কেন চাইছে? তারা দেশের মানুষের সঙ্গে অনৈতিক আচরণ করছে। অথচ তারা বলেন সৎ মানুষের শাসন কায়েম করতে। দেশে এখনো গভীর ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের এ বিষয়ে সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে। আমরা যদি এই ষড়যন্ত্রকে ১২ তারিখে ঠেকিয়ে দিতে পারি, তবে ১৩ তারিখ থেকে জনগণের শাসন কায়েম হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এখন দেশ গঠন করতে হবে। আমাদেরকে নতুন স্কুল-কলেজ তৈরি করতে হবে, মিল-কলকারখানা, খাল কাটতে হবে। নদী খনন করতে হবে, কৃষকদের সুবিধার জন্য হিমাগার তৈরি করতে হবে, বহুকাজ আমাদের বাকি রয়ে গেছে। দেশকে পুনর্গঠন করতে হবে।’