নিজ নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা দিতে যারা ব্যর্থ, মানুষের নিরাপত্তা দেবে কীভাবে : আদীব
ঢাকা-১৮ আসনের 'ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ' জোটের প্রার্থী ও এনসিপি নেতা আরিফুল ইসলাম আদীব বলেছেন, দেশে বর্তমানে বিএনপি সন্ত্রাসকে প্রতিপালন করছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাদের হামলার শিকার শুধু আমরা নই; দীর্ঘদিন ধরে যারা তাদের সঙ্গে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়েছে, একসঙ্গে জেল-জুলুম সহ্য করেছে- তারাও আজ বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলায় আহত ও নিহত হচ্ছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে তাদের দেড় শতাধিক নেতাকর্মী নিহত হয়েছে। যারা নিজেদের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ, তারা দেশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করবে? আজ বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) এক নারী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, নারীদের অধিকার রক্ষায় ঘর ও কর্মক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সম্মান নিশ্চিত করা হবে। নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়; এটি নারীর মৌলিক অধিকার। নারীরা নিরাপদ ও সম্মানিত না হলে দেশের সার্বিক অগ্রগতি কখনোই সম্ভব নয়। নারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে বিশেষ পরিবহন সার্ভিস চালু করা হবে, গণপরিবহনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এছাড়া নারীদের জন্য বিভিন্ন জায়গায় স্বাস্থ্যসম্মত পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার বিগত ১৭ বছরের শাসনামলে সংঘটিত সকল হত্যাকাণ্ডের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ যে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়ে আসছে, সেখানে প্রকৃত অর্থে নাগরিকের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফলে এতদিন যে সাংবিধানিক কাঠামোর অধীনে দেশ পরিচালিত হয়েছে, তা পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি। তাই মৌলিক সংস্কারের ভিত্তিতে প্রণীত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের জন্য গণভোটে ‘হ্যা’-কে বিজয়ী করতে হবে।
এনসিপির এই নেতা বলেন, এবারের নির্বাচন শুধু ক্ষমতা বদলের নির্বাচন নয়; এটি ভারতসহ অন্যান্য রাষ্ট্রের আধিপত্যবাদ থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার নির্বাচন। একই সঙ্গে এটি দেশের মানুষের বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও জীবনযাপনের স্বাধীনতা রক্ষার নির্বাচন। এসব লক্ষ্য সামনে রেখে আমরা এনসিপি-জামায়াতে ইসলামীসহ ১০ দল 'ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ' জোট গঠন করেছি।
জামায়াত-এনসিপি সমর্থিত ১০ দলীয় জোট মনোনীত এই প্রার্থী বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে- সকল হত্যাকান্ডের বিচার নিশ্চিত করা, রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার করা এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া। পাশাপাশি সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলাই 'ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ'-এর অঙ্গীকার।