দুই দিনের ব্যবধানে অবস্থান বদল করে জামায়াত প্রার্থীর সঙ্গে এনসিপির সংবাদ সম্মেলন
নির্বাচনী প্রচারণা স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ার দুই দিন পর চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা–কর্ণফুলী) আসনে ১১–দলীয় জোটের প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান চৌধুরীর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে কর্ণফুলী উপজেলার কলেজ বাজার এলাকায় আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য জুবাইরুল আলম মানিক।
সংবাদ সম্মেলনে জুবাইরুল আলম মানিক বলেন, চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী–চাঁদগাঁও) আসনে জোটের সিদ্ধান্ত ঘিরে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে আগের সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছিল। ‘এর সঙ্গে চট্টগ্রাম-১৩ আসনের কোনো সম্পর্ক নেই। বিভ্রান্তি এড়াতে আমরা সেদিন লিখিত প্রেসবিজ্ঞপ্তি দিয়েছিলাম।
তিনি অভিযোগ করেন, কিছু গণমাধ্যম প্রেসবিজ্ঞপ্তির বক্তব্যের বাইরে গিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংবাদ প্রকাশ করেছে। তিনি যোগ করেন, ‘আমরা কোথাও জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সমন্বয়হীনতার কথা বলিনি। অথচ সেটিই সংবাদে তুলে ধরা হয়েছে।’
এ সময় তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি পেশাদারিত্ব বজায় রেখে তথ্যভিত্তিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ১১ দলীয় জোট ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা বিব্রত নই। পরিবারের পাঁচ ছেলের মধ্যে কেউ একদিন ভাত না খেলে যেমন অস্বাভাবিক কিছু নয়, এটিও তেমনই। আমরা স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছি। আমাদের ছেলে আমাদের কাছেই ফিরে এসেছে।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আনোয়ারা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাস্টার আব্দুল গণি, কর্ণফুলী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাস্টার মনির আশরাফ, এনসিপির আনোয়ারা উপজেলার যুগ্ম সমন্বয়কারী জাফরুল ইসলাম চৌধুরীসহ উভয় দলের অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) জাতীয় নাগরিক পার্টি চট্টগ্রাম-৮ আসনে জোটের সিদ্ধান্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর প্রচারণা কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয়। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়।