একটি দল অনস্টেজ হ্যাঁ ভোট, কার্যক্রমে না ভোটের পক্ষে: আসিফ
বিএনপিকে ইঙ্গিত করে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ বলেছেন, একটি দল এবং প্রশাসনের কেউ কেউ গণভোটে না ভোট দেয়ার পক্ষে কার্যক্রম চালাচ্ছে। নানা ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা যদিও তাদেরকে দেখেছি যে তারা অনস্টেজ সামনে এসে গণভোটে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে বলছে। কিন্তু মাঠ পথে তাদেরকে আমরা এ ধরনের আচরণ করতে দেখছি। যেটা তাদের দ্বিমুখী ভূমিকা বলে আমরা মনে করি। এক ধরনের মুনাফিকি তারা করছেন বলে আমরা মনে করি। এই বিষয়টা আসলে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশের সকল নাগরিক স্পষ্টভাবে জানা প্রয়োজন যে সকল রাজনৈতিক দলের অবস্থানটা কি। আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
এসময় তিনি আরও বলেন, তাদের জন্মটা যেভাবে হয়েছিল এক ধরনের কিংস পার্টি হিসেবে। তারা গত দেড়টা বছর আমাদেরকে কিংস পার্টি বলে এসেছেন। কিন্তু আমরা দেখছি তারা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে তাদের প্রার্থী নির্ধারণ করেছেন। আপনারা জানেন, যেকোন রাজনৈতিক দলের জন্য প্রার্থী নির্ধারণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তিনি অভিযোগ করেন রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার সরকারি চাকরিজীবীদের মতাদর্শ যাচাই করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন জেলায় রিটার্নিং কর্মকর্তারা এনএসআই এর মাধ্যমে প্রিজাইডিং অফিসার নির্ধারণের ক্ষেত্রে সেখানকার সরকারি এবং আধা সরকারি চাকরিতে যারা আছেন তাদের তথ্য নিচ্ছেন। যদিও এনএসআই কিংবা কোন রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার এ ধরনের ইনফরমেশন দেয়ার কথা না। তারা আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি যে তারা মিড লেভেলের এবং উপরের লেভেলেরও হয়তো কারো কারো সহায়তায় এই তথ্যগুলো নিচ্ছেন এবং সেখানে তারা স্পেসিফিকলি রাজনৈতিক মতাদর্শ রেখে প্রিজাইডিং অফিসার নির্ধারণ করছেন। রাজনৈতিক মতাদর্শে আগে দেখেছি চাকরি হতে, এর আগে প্রমোশন হতে দেখেছি। এখন প্রিজারং অফিসার নির্ধারণটা আমরা রাজনৈতিক মতাদর্শ দেখে হতে দেখছি। যখন একটা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শে প্রিজাইডিং অফিসাররা দায়িত্বে থাকবেন তখন স্পষ্টভাবেই এই নির্বাচনটা একটা কারচুপির নির্বাচন হতে যাচ্ছে। একটা ইঞ্জিনিয়ারিং করার মন মানসিকতা তাদের মধ্যে আছে বলে স্পষ্টভাবে প্রতিয়মান হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রতি এবং সরকারের প্রতি অনুরোধ থাকবে যে, রাষ্ট্রীয় যেসব প্রতিষ্ঠানগুলো এ ধরনের কাজ করার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। যদি তা না করা হয় তাহলে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাচ্ছে।