০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:০৬

নুরের আসনে বিলুপ্ত দুই উপজেলায় বিএনপির নতুন কমিটি

বিএনপির নতুন কমিটি   © টিডিসি ফটো

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরকে সহযোগিতা না করায় বিলুপ্ত হওয়া গলাচিপা, দশমিনা উপজেলায় বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গলাচিপা উপজেলা, দশমিনা উপজেলা ও গলাচিপা পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন এসব কমিটিতে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে ভিপি নুরের পক্ষে কাজ করবেন এমন নেতাকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। 

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে জানানো হয়, গলাচিপা উপজেলা বিএনপির ২১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিতে সাবেক গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব গোলাম মোস্তফা আহ্বায়ক ও সাবেক সহ সভাপতি আলতাফ হোসেন সদস্য সচিব করে আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে। 

দশমিনা উপজেলা বিএনপির ১৬ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিতে সিদ্দিক আহম্মেদ মোল্লা আহ্বায়ক এবং বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম শানু সদস্য সচিব মনোনীত হয়েছেন।

এছাড়া গলাচিপা পৌর বিএনপির আংশিক আহ্বায়ক কমিটিতে সাবেক পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম খান আহ্বায়ক ও সাহেব আলী মাতাব্বরকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। এর আগে ভিপি নুরের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা না রাখার অভিযোগে গত ১৭ জানুয়ারি গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। ফলে ১৭ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই তিনটি ইউনিট সাংগঠনিকভাবে কমিটিহীন ছিল।

এছাড়া গলাচিপা উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক কমিটিতে আছেন- সাবেক উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহরাব মিয়া (সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক), যুগ্ম আহবায়ক পদে আছেন ১০ জন। তারা হলেন- জাহাঙ্গীর হোসেন, শহীদুল ইসলাম তালুকদার, আব্দুস সোবাহান, মো. নেছাররাড়ী, সোনিয়া আফরোজ, রেনু আক্তার, আলী আহম্মেদ আকন, ফোরকান খান, মকবুল খান ও আশরাফ উজ্জামান। এছাড়া ৮জন আছেন সদস্য- আনোয়ারা শাহজাহান, শাহ মেহেদী ফাহাদ( গোলাপ), চাঁন মিয়া মুসল্লি, হুমায়ন কবির, আবুল কালাম আজাদ, একলাস মাতবর, মাসুম প্যাদা ও মামুন। দশমিনা উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক কমিটির মধ্যে রয়েছেন যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে মো. ইসমাইল মেলকার, আব্দুল হাই পঞ্চায়েত, মো. আমিন হাওলাদার মো. বাচ্চু সিকদার, ডা. গোলাম মোস্তফা, মমিন তালুকদার, মাহাবুর রহমান, মো. জালাল মেলকার, শহীদুল আলম বয়াতি, মজিবুর রহমান, খাইরুল ইসলাম খান, নাসির উদ্দিন বাবুল। সদস্য হিসেবে রয়েছেন রাশাদ আকন ও শাহিন মেম্বার।

এ প্রসঙ্গে নুরুল হক নুর বলেন, বিএনপি পটুয়াখালী-৩ আসনে আমাকে ‘ট্রাক’ প্রতীকে নির্বাচন করার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দিয়েছে। আমার পক্ষে মাঠে কাজ করার জন্য গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলার বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্দেশনা দিয়েছেন। যারা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে জোট প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেননি, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। আজ দুই উপজেলায় বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন কমিটিকে জোটের প্রার্থীকে বিজয়ী করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

নুর আরও বলেন, যারা দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে জোট প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন, তাদের নিয়েই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দের প্রতি আমার আহ্বান থাকবে—ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটিগুলো দ্রুত পুনর্গঠন করবেন। যারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন এবং জনগণকে কষ্ট দিয়েছেন, তারা যেন কোনোভাবেই নতুন কমিটিতে দায়িত্ব না পান—সে বিষয়টি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।

উল্লেখ্য, পটুয়াখালী-৩ আসনটি জেলার অন্যতম আলোচিত আসন। এখানে বিএনপির জোট সমঝোতার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দলীয় প্রার্থী না দিয়ে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে। তিনি নিজ দলের ‘ট্রাক’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

অন্যদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য  হাসান মামুন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘ঘোড়া’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় তাকে বিএনপি থেকে (৩০  ডিসেম্বর) বহিষ্কার করা হলেও তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াননি। তার পক্ষে স্থানীয় বিএনপির একটি অংশ প্রকাশ্যে অবস্থান নেয়ায় সাংগঠনিক সংকট তৈরি হয়। নতুন ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনায় ভিপি নুরের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আশা করছে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।