০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩:০১

সিলেটে নির্বাচনী সংলাপ: ‘ সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদার করতে হবে’

নির্বাচনী সংলাপ শেষে  © টিডিস ফটো

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নির্বাচনে কমিশনের ভূমিকায় ঘাটতি রয়েছে। কমিশনের দুর্বলতার কারণে নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী বা সম্প্রদায় হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও জোরদার করতে হবে।

আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সিলেটে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন : সিলেট অঞ্চলের প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতকরণে নাগরিক সমাজের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক নির্বাচনি সংলাপে এসব কথা বলেন বক্তারা। বেলা ১১টায় নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের উদ্যোগে এ সংলাপের আয়োজন করা হয়।

এতে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট বিভাগের চার জেলার ১৯টি আসনের প্রার্থীদের হলফনামার বিশ্লেষণ তুলে ধরেন শাবিপ্রবির পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের একদল শিক্ষার্থী। এই হলফনামার বিশ্লেষণ ও আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে নানা অসংগতি এবং নির্বাচনের কমিশনের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা তুলে ধরেন বিভিন্ন সংস্থা, সম্প্রদায়, পেশাজীবী, মানবাধিকার সংগঠন ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠানের শুরুতে সূচনা বক্তব্য দেন শাবিপ্রবির পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মো. সাহাবুল হক।

অনুষ্ঠানে শাবিপ্রবির পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাতে আমরা একজন সেরা প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারি, সেই চেষ্টা আমাদের থাকতে হবে। সুশাসনের জন্য এটা জরুরি। আমাদের শিক্ষার্থীরা যা উপস্থাপন করেছে, আমরা দেখছি সিলেটের সংসদীয় আসনগুলোতে প্রার্থীদের মধ্যে ব্যবসায়ীদের সংখ্যা বেশি। আশির দশকে ব্যবসায়ীরা সরাসরি রাজনীতিতে আসেনি। প্রথমে রাজনৈতিক দলগুলোকে তাঁরা অর্থসহায়তা দিতেন। পরে তাঁরা দেখলেন এমপি হলে বিশেষ সুবিধাও পাওয়া যায়। পরে নব্বইয়ের দশক থেকে তারা এমপি নির্বাচন করা শুরু করেন। এটি এখনো বিদ্যমান।’

সিলেটে নারী প্রার্থীদের সংখ্যা খুবই কম উল্লেখ করে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সিলেটে জেলার সভাপতি সৈয়দা শিরিন আক্তার বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে অনেকগুলো রাজনৈতিক দল তেমন কোনো নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেননি। রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ৫ শতাংশ নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দিবে। কিন্তু তারা কথা রাখেননি। দেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে হয়ত তারা দেয়নি। কিন্তু নারীর ক্ষমতায়নে প্রার্থী দিতে হবে। এছাড়া ভোটের আগেই সিলেটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে, বিশেষ করে নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর লোকদের প্রতি হয়রানি বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা দুর্বল ও ভঙ্গুর দেখতে পাচ্ছি।’

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সিলেট মহানগরের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রার্থীদের মধ্যে স্বচ্ছতা থাকা জরুরি। যদি প্রার্থী ঋণগ্রস্ত হয়, তাহলে ওই প্রার্থী জনগণের উন্নয়ন কীভাবে নিশ্চিত করবেন। প্রার্থীরা স্থানীয় উন্নয়নের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, এগুলো তো স্থানীয় সরকারের কাজ।’

সংলাপে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সিলেট জেলার সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনে একটি রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় গেলে দেশে স্থিতিশীলতা আসবে। আপনারা যারা নাগরিক সমাজের মানুষ আছেন, আশাকরি, নতুন সরকার আসার পরও আপনাদের চাপটা অব্যাহত রাখবেন।’

সংলাপে শাবিপ্রবির পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের প্রধান সৈয়দ আশরাফুর রহমানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন সিলেট-১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্যপ্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল মনোনীত সিলেট-১ আসনে সংসদ সদস্যপ্রার্থী প্রণব জ্যোতি পাল, বিএনপির সিলেট মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সিলেট মহানগরের নায়েবে আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সিলেট জেলার সভাপতি সৈয়দ ফরহাদ হোসেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নুরুল হুদা জুনেদ, সিলেট-৩ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যপ্রার্থী মইনুল বাকের, সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী, বর্তমান সভাপতি মুকতাবিস-উন-নুর, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সাংবাদিক হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্টের সিলেটের সভাপতি শাহজামান চৌধুরী, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) সিলেট ইউনিটের সমন্বয়ক ইরফানুজ্জামান চৌধুরী, নৃতাত্ত্বিক সম্প্রদায় উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক লক্ষীকান্ত সিংহ, এনসিপির সিলেট জেলা আবু সাদেক খাইরুল, বৈষম্যেবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আসাদুল্লাহ আল গালিব প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. দিলারা রহমান ও নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা ‘ইম্প্যাক্ট ইনিশিয়েটিভের’ সহ-সমন্বয়ক মুহাম্মদ আয়াজ উদ্দিন।

সংলাপ আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থার জোট ‘ভয়েস নেটওয়ার্ক’ ও নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা ‘ইম্প্যাক্ট ইনিশিয়েটিভ’।