০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯:৪৬

প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে বিএনপিতে যোগ দিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি

শরাফ উদ্দিন আজাদ সোহেল (গোল চিহ্নিত) ও এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজানের (বাম পাশে) হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দিচ্ছেন শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি  © সংগৃহীত ও সম্পাদিত

লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরাফ উদ্দিন আজাদ সোহেল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দিয়েছেন। রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে জেলা শহরের গোডাউন রোড এলাকার বশির ভিলা হলরুমে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বিএনপিতে যোগদানের ঘোষণা দেন তিনি। এ সময় নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণাও দেন। তার নির্বাচনী প্রতীক কাপ-পিরিচ।

যোগদান অনুষ্ঠানে দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং লক্ষ্মীপুর-৪ প্রার্থী দলের সহ-শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান উপস্থিত ছিলেন। শরাফ উদ্দিনের প্রার্থিতা ঘোষণার পর দুজনের হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেন শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। আওয়ামী লীগের এই নেতার বিএনপিতে যোগদানকে ঘিরে উপজেলাতে চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা।

স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, ২০১৪-২০১৮ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন শরাফ উদ্দিন আজাদ সোহেল। ওই সময়ে তার অনুসারীরা ভোট কারচুপি, বিএনপি অফিস ভাঙচুর এবং বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মারধরে জড়িত ছিল। এ ছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রজনতাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আন্দোলনে বাধা দানের অভিযোগও রয়েছে এই আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর দীর্ঘদিন আড়ালে চলে যান শরাফ উদ্দিন আজাদ সোহেল। তবে হঠাৎ করেই জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডির) ছত্রছায়ায় তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। গত ৯ ডিসেম্বর জেএসডির এক সমাবেশ থেকে আজাদ সোহেলের কর্মীরা বিএনপি কর্মীদের মারধরও করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা বিএনপির একজন নেতা বলেন, আশরাফ উদ্দিন নিজান টাকা দিয়ে একের পর এক আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দলে ভেড়াচ্ছেন। শুধু বিজয়ের জন্য তিনি দলের আদর্শকে জলাঞ্জলি দিচ্ছেন। এটা বিএনপির সাথে বেইমানি করার শামিল।

এ ব্যাপারে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, শরাফ উদ্দিন আজাদ সোহেল একসময় বিএনপির একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। কিছুদিন আওয়ামী লীগ করলেও তারেক রহমানের প্রতি সম্পূর্ণ আস্থা নিয়ে তিনি বিএনপিতে পুনরায় ফিরে এসেছেন এবং আমাদের দলীয় প্রার্থী আশরাফ উদ্দিন নিজানের প্রতি সম্পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। তার এই সিদ্ধান্তে তারেক রহমানের হাত এবং আমাদের জেলা বিএনপিকে শক্তিশালী হবে।

সংবাদ সম্মেলনে শরাফ উদ্দিন আজাদ সোহেল বলেন, আজ থেকে আমি বিএনপি ও ধানের শীষের পক্ষে কাজ করব। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আমি আমার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছি। ধানের শীষের প্রার্থী এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী শরাফ উদ্দিন আজাদ সোহেল বিএনপিকে সমর্থন জানিয়েছেন।

এ সময় জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, সদর উপজেলা (পূর্ব) বিএনপির সভাপতি মাঈন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজ, জেলা ওলামা দলের সভাপতি শাহ মোহাম্মদ এমরান, লক্ষ্মীপুর পৌর বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম লিটন, রামগতি উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন, সদস্য ও লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আ ন ম মঞ্জুর মোর্শেদ, রামগতি পৌরসভা বিএনপির সভাপতি শাহেদ আলী পটু ও চন্দ্রগঞ্জ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম ইউছুফ ভূঁইয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি তানিয়া রব, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী খালেদ সাইফুল্লাহসহ মোট নয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।