০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:০৮

সাইকেল-হ্যান্ডমাইকে ব্যতিক্রমী প্রচারণায় মানুষের দোরগোড়ায় এমপি প্রার্থী

প্রচারণায় গাইবান্ধা-৩ আসনের স্বতন্ত্রপ্রার্থী মো. আজিজার রহমান  © টিডিসি সম্পাদিত

গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের নির্বাচনী মাঠে যেখানে প্রার্থীরা বিশাল কর্মীবাহিনী, বাহারি গাড়ির বহর আর উচ্চবাজেটের প্রচারণায় ব্যস্ত, সেখানে এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য নজর কেড়েছে স্থানীয়দের। একটি পুরনো সাইকেলের প্যাডেল চালিয়ে, কাঁধে ঝুলানো হ্যান্ডমাইক নিয়ে একাই গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ঘুরছেন এক স্বতন্ত্র প্রার্থী। তিনি স্থানীয় দড়ি জামালপুর রোকেয়া সামাদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আজিজার রহমান (বিএসসি)।

তার বাড়ি সাদুল্লাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের খোদা বকস গ্রামে। ব্যক্তিগত জীবনের মতো তার রাজনৈতিক প্রচারণাও সাদামাটািএবং সহজ-সরল। তার কাছে নেই কোনো মোটরসাইকেল, জীপ বা প্রচারণার গাড়ি। নেই কোনো বেতনভুক্ত প্রচারকর্মীর দল। আছে শুধু বহু বছরের পুরনো একটি বাইসাইকেল আর নির্বাচনের জন্য কেনা একটি হ্যান্ডমাইক।

প্রতিদিন ভোরে তিনি কাঁধে হ্যান্ডমাইক বেঁধে বেরিয়ে পড়েন বাইসাইকেল নিয়ে। সাইকেলে প্যাডেল চেপে ছুটে যান বিভিন্ন হাট-বাজার, গ্রামের চৌরাস্তা ও মানুষের দোরগোড়ায়। একাই সভা করেন, মতবিনিময় করেন ভোটারদের সঙ্গে। গাইবান্ধা-৩ আসনের প্রান্তিক অঞ্চলগুলোতে ইতোমধ্যে তিনি একাই এভাবে করেছেন শতাধিক সভা।

তার নির্বাচনী লড়াই এবারই প্রথম নয়। এর আগেও তিনি উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে এবং সংসদ উপ-নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। বিজয়ী হতে না পারলেও জনসেবার আগ্রহ থেকে তিনি মাঠে নেমেছেন বারবার। এবারও সে উদ্দেশ্যেই নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। প্রচারণায় তিনি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে সরাসরি এবং আত্মিক যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করছেন।

তার এই অনন্য প্রচারণা স্থানীয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেক নেটিজেন তার অধ্যবসায় ও সাদাসিধে প্রচারণাকে 'গণতন্ত্রের সৌন্দর্য' ও 'সত্যিকারের জনসংযোগ' বলে প্রশংসা করেছেন।

আজিজার রহমান বলেন, আমার কাছে বড় কোনো বাহন বা টিম নেই। কিন্তু মানুষের সাথে সরাসরি কথা বলার এই প্রচেষ্টায় আমি তাদের বিপুল সাড়া পাচ্ছি। আমি যদি নির্বাচিত হই, এলাকার মানুষকে সাথে নিয়েই উন্নয়নের কাজ করব।

এ আসনে বিএনপি, জামায়াতসহ মোট ১০ জন প্রার্থী রয়েছেন। প্রায় ৫ লক্ষ ৬ হাজার ভোটারের এ আসনে প্রচারণার শেষ সময়ে বড় দলের প্রার্থীরা যখন সর্বশক্তি নিয়ে চূড়ান্ত লড়াই করছেন, তখন আজিজার রহমানের এই নিঃসঙ্গ ও নিরেট প্রচেষ্টা স্থানীয়দের মনে আলাদা স্থান করে নিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার প্রচারণার ভিডিও ও ছবি সাড়া ফেলেছে। অনেকে তাকে ‘গণতন্ত্রের প্রকৃত সৈনিক’ বলে অভিহিত করছেন।

সাধারণ ভোটারদের ভাষ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হোন কিংবা না হোন, আজিজার রহমানের এই যাত্রা ইতোমধ্যেই একটি বড় বার্তা রেখে যাচ্ছে। রাজনীতির বাণিজ্যিকীকরণ ও জাঁকজমকের যুগে তিনি দেখিয়ে দিচ্ছেন, মানুষের কাছাকাছি যাওয়ার জন্য শুধু সদিচ্ছাই যথেষ্ট— বড় বাজেট বা বিশাল দল না হলেও চলে। তার সাইকেলচালিত এই অভিযান শুধু ভোটের প্রচারণা নয়, এটি এক প্রতীকী প্রতিরোধ, এক নীরব বিপ্লব।