০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:০০

টুঙ্গিপাড়ায় খেলাফত মজলিস প্রার্থীর প্রচাররে বাধা ও হুমকির অভিযোগ

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতারা  © টিডিসি

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী ও তার কর্মী-সমর্থকদের নির্বাচনী প্রচারে বাধা, ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির এক নেতার সমর্থকদের বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট বিএনপি নেতারা।

আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে গোপালগঞ্জের ঘোনাপাড়া এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী আব্দুল আজিজ (মাক্কী)।

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল আজিজ বলেন, ‘পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী তিনি তাঁর নেতাকর্মীদের নিয়ে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার কুশলী ইউনিয়নের নিলফা ও খালেক বাজার এলাকায় প্রচারণায় গেলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এস এম জিলানীর কর্মী-সমর্থকেরা সেখানে বাধা সৃষ্টি করেন। তাঁর অভিযোগ, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোক্তার মোল্লা ও তাঁর ভাই মিরাজ মোল্লার নেতৃত্বে তাদের প্রচারণায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, এ সময় উত্তেজনাকর পরিবেশ তৈরি করে ‘জামাত-শিবির রাজাকার, এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়’—এ ধরনের স্লোগান দেওয়া হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তোলে। এতে তাদের নেতাকর্মীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে সেখান থেকে সরে যেতে বাধ্য হন।

আব্দুল আজিজ জানান, ঘটনার বিষয়টি তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে যান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছে বলেও তিনি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচনে সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড চাই। বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন কতটা নিরপেক্ষ হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।’ তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

অভিযোগ অস্বীকার করে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোক্তার মোল্লা বলেন, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী বা তার সমর্থকদের প্রচারণায় কোনো ধরনের বাধা বা হুমকি দেওয়া হয়নি। তিনি দাবি করেন, একটি বক্তব্যের প্রতিবাদে তারা স্লোগান দিয়েছেন মাত্র, কাউকে প্রচার করতে বাধা দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল আলম বলেন, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী সকালে ফোনে বিষয়টি জানিয়েছেন। এরপর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।