০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:২৩

নানা আয়োজনে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে পিঠা উৎসব

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে পিঠা উৎসব  © টিডিসি ফটো

সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে (গবি) সপ্তমবারের মতো পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আয়োজিত এই উৎসবের উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন।

উৎসবে শিক্ষার্থীরা নানা নাম ও নকশার মুখরোচক পিঠা নিয়ে অংশ নেন। নারকেল পুলি, ইলিশ পিঠা, দুধ পুলি, ভাপা, পোয়া, পাটিসাপটা, ঘর কন্যা, কুটুম, হাতকুলিসহ বাহারি পিঠার পাশাপাশি বিক্রি করা হয় বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি, কেক, চা ও লাড্ডু। এ ছাড়া চুড়ি, ফিতা এবং গোলাপ ফুলও পাওয়া গেছে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন বলেন, 'আমরা প্রতি বছরই গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে পিঠা উৎসব আয়োজন করি। পিঠা যেমন বাঙালির ঐতিহ্য, তেমনি পিঠা উৎসবও গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। এবছর এখানে ২০ টি স্টল রয়েছে, প্রতিটি স্টলেই নানা ধরনের পিঠা পাওয়া যাচ্ছে।'

গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান বলেন, 'গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে প্রতিবছরই গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও আয়োজন করা হয়েছে। বাহারি স্বাদের পিঠার সমাহারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ঐতিহ্যের এই উৎসব প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।'

উদ্বোধন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও অন্যান্য শিক্ষকরা স্টলগুলো পরিদর্শন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ তাদের নিজস্ব স্টল দিয়ে অংশ নিয়েছে উৎসবে। শিক্ষার্থীরা তাদের স্টলে গ্রাম বাংলার নানা প্রকারের সুস্বাদু পিঠা প্রদর্শন করেছেন। স্টল ঘুরে উপাচার্য বলেন, ভবিষ্যতেও আরও বড় ও সমৃদ্ধভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হবে।

ক্যাম্পাসের পিঠা উৎসবে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়ে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী কাজী আবরার বলেন, 'শহরের হট্টগোল ও ব্যস্ত জীবনের মধ্যে গ্রামীণ পিঠার ঐতিহ্য ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। তবে এই উৎসবে স্টলগুলো এত সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে যে, মুহূর্তেই গ্রামে পৌঁছে যাওয়ার অনুভূতি হয়েছে। মায়ের বা দাদুর বাড়িতে পিঠা খাওয়ার সেই স্মৃতিগুলো মনে পড়ে গেছে।'

এবারের আয়োজনে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে প্রতিটি স্টলের নাম ছিল ভিন্নধর্মী ও আকর্ষণীয়। এর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য স্টলের নামগুলো হলো পিঠা পুলির ঝুলি, পিঠা গবেষণা কেন্দ্র, পৌষালী সমাহার, পিঠারণ্য, পথের পিঠাঘর, পিঠা ব্যালট ঘর, কুটুম বাড়ি, পিঠা নীড়, সমীকরণে পিঠা সাজাই, পিঠার সাত কাহন, আইনের পিঠা-ঘর, সামাজিক পিঠা ঘর, টোনাটুনির পিঠাঘর, পৌষের স্বাদ, পিঠা ও Poetry, পিঠা-পল্লী, স্বাদবিন্দু, ঐতিহ্যের টাঙ্গাইল ও আদিবাসী পিঠাঘর। কলাগাছ দিয়ে স্টল সাজিয়ে গ্রামীণ পরিবেশের আবহ তৈরি করা হয়। আলপনা, বেলুন, প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুনে রঙিন হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।

অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল পিঠা প্রদর্শনী, শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় নৃত্য ও লোকগান, সেরা স্টল নির্বাচন এবং পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সেরা স্টল নির্বাচিত হয়ে কৃতিত্ব অর্জন করে বাংলা বিভাগ। দ্বিতীয় সেরা কৃষি অনুষদ এবং তৃতীয় সেরা স্টলের পুরষ্কার পায় আইন বিভাগ। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে সন্ধ্যা ৭টায় স্টেজে গান পরিবেশন করবে জনপ্রিয় সংগীত ব্যান্ড অড সিগনেচার।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. সিরাজুল ইসলাম, রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো: ওয়াহিদুজ্জামান, বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষকমণ্ডলী, কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (গকসু) সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে গণ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (গবিসাস) উদ্যোগে প্রথমবারের মতো পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৭ ও ২০২০ সালে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ এই আয়োজন সম্পন্ন করে। সর্বশেষ, গত বছরও গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে শীতকালীন পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।