কোচিং সেন্টারে উত্তরা সেক্টর-৬ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির মাসিক চাঁদা নির্ধারণ, মানতে পারছেন না পরিচালকরা
উত্তরা সেক্টর-৬ নম্বরে অবস্থিত কোচিং সেন্টারসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জন্য মাসিক সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ করে দিয়েছে উত্তরা সেক্টর-৬ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে এই ফি পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। তবে সোসাইটির এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা।
গত ৮ জানুয়ারি উত্তরা সেক্টর-৬ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম আনোয়ারুল ইসলাম পলাশ স্বাক্ষরিত একটি লিখিত নোটিশ জারি করা হয়। নোটিশে বলা হয়, উত্তরা সেক্টর-৬ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সেক্টরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সামাজিক সালিশ, জাতীয় দিবস উদযাপন ও বার্ষিক পুনর্মিলনীর মতো কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এসব কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে চালিয়ে নিতে নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধসহ উল্লেখযোগ্য ব্যয় বহন করতে হচ্ছে সোসাইটিকে।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে যানজট নিরসন ও রাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগ দিতে হয়েছে। ফলে নিরাপত্তা খাতে ব্যয়ও বেড়েছে। এর প্রেক্ষিতে আগে স্থগিত থাকা কোচিং সেন্টারগুলোর মাসিক সার্ভিস চার্জ পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে আবাসিক এলাকায় কোচিং সেন্টার পরিচালনার জন্য সার্ভিস চার্জের বিষয়টি একেবারেই অযৌক্তিক বলে মনে করছেন কোচিং সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে তারা ব্যবসা পরিচালনা করছেন। সিকিউরিটি এবং ময়লা পরিস্কারের জন্য ফ্ল্যাট প্রতি মাসিক ৩০০ টাকা করে দিতে হচ্ছে। এরপরও এ ধরনের চার্জ কোচিং পরিচালনায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। এই চাপ কাটিয়ে উঠতে শিক্ষার্থীদের ভর্তি ফি বৃদ্ধি করতে হবে।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে একটি কোচিং সেন্টারের এক বলেন, ‘আবাসিক এলাকায় কোচিং সেন্টার পরিচালনার জন্য এমন উচ্চ অঙ্কের মাসিক সার্ভিস চার্জ আরোপ করা অযৌক্তিক। একটি রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী ব্যক্তির কারণে এমন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে বলে দাবি তার।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তরা সেক্টর-৬ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম আনোয়ারুল ইসলাম পলাশ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমাদের সোসাইটিতে বর্তমানে ৩০ জন নিরাপত্তা প্রহরী কর্মরত আছেন। তারা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন, অথচ মাসিক বেতন পান মাত্র ১৪ হাজার টাকা। এসব গার্ডের জীবনমান উন্নয়নের জন্য আমাদের আরও অর্থের প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, ‘সেক্টরের ময়লা পরিষ্কারের জন্য সার্বক্ষণিক একটি গাড়ি ভাড়া করে রাখা হয়েছে। এ কাজে সাতজন কর্মচারী নিয়োজিত আছেন, যাদের নিয়মিত বেতন দিতে হয়। পাশাপাশি সোসাইটির অফিস পরিচালনাতেও উল্লেখযোগ্য ব্যয় হচ্ছে। এসব কারণেই সব ধরনের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ওপর সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে।’
প্রতিষ্ঠানভেদে এই ফি ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে জানিয়ে এম আনোয়ারুল ইসলাম পলাশ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সোসাইটির আওতায় থাকা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ফি দিত। তবে গত ৫ আগস্টের পর তারা এটি বন্ধ করে দেয়। তাই এখন পুনরায় সার্ভিস চার্জ চালু করা হয়েছে। এটি সোসাইটির সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থেই করা হয়েছে।’