৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:৪৮

যে কারণে আর প্রচারণায় দেখা যাবে না মেঘনা আলমকে

নির্বাচনী প্রচারণায় মেঘনা আলম  © সংগৃহীত

ক্রমাগত নিরাপত্তা হুমকি ও হয়রানির কারণে নির্বাচনী প্রচারণায় সাময়িক বিরতি নিচ্ছেন ঢাকা-৮ আসনের গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী ও মডেল মেঘনা আলম। কোনো গানম্যান বরাদ্দ না দিয়ে কার্যত হিংস্র পরিবেশের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলেও মনে করছেন তিনি। প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণা টিমের বিশ্বস্ত সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

সূত্র বলছে, সরকারের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী এমপি প্রার্থীদের গানম্যান দিয়ে নিরাপত্তা দেওয়া হবে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এই ঘোষণা কি সরকারের প্রকৃত কমিটমেন্ট, নাকি শুধুই ধোঁকা? কারণ ঢাকা-৮ এর একমাত্র নারী প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও মেঘনা আলম এখনো কোনো ধরনের সরকারি নিরাপত্তা পাননি। এমনকি তার প্রচারণায় পরিকল্পিতভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

তাদের অভিযোগ, মেঘনা আলমের নারী কর্মীদের গায়ে লেজার লাইট ফেলে অপমান ও ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে। অথচ গানম্যানের কোনো খোঁজ নেই। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দায় চাপাচ্ছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ওপর, ডিএমপি বলছে নির্বাচন কমিশনের কথা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলছেন স্পেশাল ব্রাঞ্চ দেখবে, সব জায়গায় লিখিত আবেদন দেওয়ার পরও আজ পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তারা আরও বলছেন, বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতারা প্রকাশ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় যৌন হুমকি (sexual threats) দিচ্ছেন মেঘনা আলমকে। দায়িত্বশীল নেতাদের সরাসরি ট্যাগ করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একইসঙ্গে এই আসনের বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাসের ভেরিফাইড সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকেও রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে এআইনির্ভর অশ্লীল ও মানহানিকর ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে, যা নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং নারীর প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানোর পরোক্ষ সমর্থনের ইঙ্গিত দেয়। এই ধরনের রাজনৈতিক সন্ত্রাস, নারীবিদ্বেষী আচরণ ও আইনবহির্ভূত সংস্কৃতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মেঘনা আলম।

মেঘনা আলম বলছেন, চাইলেই তিনি মিস বাংলাদেশ হিসেবে সৌন্দর্য জগতে থেকে আরও খ্যাতি ও আরামদায়ক জীবন বেছে নিতে পারতেন। সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে হিসেবে নিশ্চিন্ত জীবন যাপন করাও তার জন্য কঠিন ছিল না। কিন্তু একজন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃত ও সার্টিফায়েড রাজনৈতিক প্রশিক্ষক হিসেবে তিনি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন এই রাষ্ট্র ও সমাজ সংস্কারের দায়িত্ববোধ থেকে। তিনি হতে চান অবহেলিত নারী ও পুরুষের কণ্ঠস্বর। তিনি স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি হতে চান। নারীদের অনলাইন ও অফলাইন হয়রানি থেকে রক্ষা করতে তিনি গড়ে তুলছেন সাইবার নিরাপত্তা সেল ও আইনি সহায়তা সেল।

এ ছাড়া সংসদ সদস্য হতে পারলে তিনি শত শত মিথ্যা মামলায় জর্জরিত নিরীহ মানুষকে মুক্ত করার জন্য লড়বেন এবং হাদি হত্যা, ফেলানী হত্যাসহ রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার শিকার সকল মানুষের বিচারের দাবি সংসদে তুলে ধরবেন উল্লেখ করে আরও বলা হয়, তার নিরাপদ ও নারীবান্ধব ঢাকা-৮ গঠনের স্বপ্নকে অঙ্কুরেই দমিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। তাকে কোনো গানম্যান বরাদ্দ না দিয়ে কার্যত হিংস্র পরিবেশের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এই বৈষম্যমূলক আচরণ শুধু একজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে নয়, এটি নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণের বিরুদ্ধেই একটি ভয়ংকর বার্তা।