শেরপুরে জামায়াত নেতার জানাজায় মানুষের ঢল
শেরপুরে বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলায় নিহত জামায়াত নেতা মাওলানা রেজাউল করিমের জানাজায় ঢল নেমেছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে শ্রীবরদী সরকারি কলেজ মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম জানাজা শুরু হওয়ার আগেই ঝিনাইগাতি ও শ্রীবরতি উপজেলা থেকে হাজার হাজার জনতা উপস্থিত হন।
জানা গেছে, জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে শেরপুরের শ্রীবরদীতে নিয়ে আসা হয়। প্রথম জানাজার পর রাত আটটায় গোপালখিলায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হবে।
এদিকে শেরপুরের ঘটনায় ওসি ও ইউএনওকে প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। জামায়াত নেতার নিহতের ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। জেলার ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন : শেরপুরের ঘটনায় ইউএনও-ওসি প্রত্যাহার
পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোকে সহনশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও বিভিন্ন ভিডিও ক্লিপ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এসব ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘পুলিশ তদন্ত করছে। যারা দোষী, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্দোষ কাউকে হয়রানি করা হবে না।’
উল্লেখ্য, বুধবার (২৮ জানুয়ারি) শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে প্রশাসনের আয়োজনে সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ার নিয়ে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এদিন দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঝিনাইগাতী মিনি স্টেডিয়াম ও বাজারে এ সংঘর্ষ হয়। এতে শ্রীবরদী জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম মারা গেছেন। আহত হয়েছেন উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী। রাত সাড়ে ৭টার দিকে পুলিশ ও সেনাবাহিনী দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।