২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:৪৫

জামায়াত নেতার সুরতহাল সম্পন্ন, মাথা-কপালে-নাকে আঘাতের চিহ্ন

জামায়াত নেতা মাওলানা রেজাউল করিম  © সংগৃহীত

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) সংসদীয় আসনে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার মঞ্চে হামলার শিকার হয়ে নিহত জামায়াত নেতা মাওলানা রেজাউল করিমের সুরতহাল রিপোর্ট সম্পন্ন হয়েছে। রিপোর্টে তার মাথার পেছনে থ্যাঁতলানো জখমসহ কপাল ও নাকে আঘাতের চিহ্নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে এই সুরতহাল সম্পন্ন হয়।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাসুদ জামালী সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতের মাথার পেছনের অংশ মারাত্মকভাবে থ্যাঁতলানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। এছাড়া তার কপাল ও নাকে গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, যা কোনো ভোঁতা অস্ত্র বা ভারী বস্তু দিয়ে আঘাতের ইঙ্গিত দেয়।

এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: কারিগরির ছুটির তালিকা প্রকাশ, দেখুন এখানে

নিহতের ছোট ভাই ও শিক্ষক মো. মাসুদুর রহমান জানান, আজ বিকেল ৫টায় শ্রীবরদী সরকারি কলেজ মাঠে প্রথম জানাজা এবং রাত সাড়ে ৮টায় নিজ গ্রাম গোপালখিলা স্কুলের মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পারিবারিক গোরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হবে। ভাই হত্যার বিচার দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমার ভাইকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এখন মামলার এজাহার প্রস্তুত করছি এবং দ্রুতই থানায় অভিযোগ দায়ের করা হবে।’

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদ মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে সামনের সারিতে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। গুরুতর আহত শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিমকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

নিহত মাওলানা রেজাউল করিম শ্রীবরদী উপজেলার গড়জরিপা ইউনিয়নের চাউলিয়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি ফতেহপুর ফাজিল মাদরাসার আরবি বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।