মিরসরাই- ১ আসনের নির্বাচনী মাঠে লড়াই জমেছে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম-১ মিরসরাই আসনে জমে উঠেছে প্রার্থীদের প্রচারণা। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার ১৬ ইউনিয়ন ও ২ পৌরসভায় চালাচ্ছেন নির্বাচনি প্রচারণা। দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে চাইছেন ভোট।
নিজেদের মতো করে গণসংযোগ এবং উঠান বৈঠক, পাড়া বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। আবার পছন্দের প্রার্থীর জন্য ভোট চেয়ে প্রচার প্রচারণা কমতি নেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও।
এ আসনে বিএনপি মনোনীত নুরুল আমিন, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত অ্যাডভোকেট ছাইফুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত অ্যাডভোকেট ফেরদৌস আহমদ চৌধুরী, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ মনোনীত রেজাউল করিম, জাতীয় পার্টি মনোনীত সৈয়দ শাহাদাৎ হোসেন, মুসলিম লীগ মনোনীত শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, জাসদ (আসম আঃ রব) মনোনীত একেএম আবু ইউসুফ প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন।
তবে নির্বাচনি মাঠে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ- এ চার দলের মনোনীত প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকেরা তুমুল প্রচারণা চালাচ্ছেন।
স্থানীয় ভোটাররা জানান, ভোটের মাঠে অন্যান্য প্রার্থীদের চেয়ে ধানের শীষের প্রার্থী নুরুল আমিন ও দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীর অ্যাডভোকেট ছাইফুর রহমান এগিয়ে আছেন। তবে বেশিরভাগ ভোটার নীরব থাকায় তার দুইজনের মধ্যে কার জেতার সম্ভাবনা বেশি সে ব্যাপারে এখনই কিছু আন্দাজ করা যাচ্ছে না।
এছাড়া তরুণ ভোটার এবং আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক নির্বাচনের ফলাফলে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন সচেতন মহল।
এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। প্রচারণার মাঠে দুই দলের প্রার্থী সমানভাবে এগিয়ে থাকলেও তরুণ ভোটাররা ভোটের সমীকরণ বদলে দিতে পারে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের ভাষ্য, এবারের নির্বাচনে অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙ্গে সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবে বিএনপি।
এদিকে জামায়াতে ইসলামীও সুসংগঠিত হয়ে মাঠে নেমেছে। তাদের কর্মী বাহিনীর পাশাপাশি মহিলা কর্মীরাও প্রচারণা চালাচ্ছেন।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা নিয়ে বিস্তৃত মিরসরাই উপজেলার এ নির্বাচনি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৬৭৪। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯৬ হাজার ৮৫৯ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮১১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার আছে ৪ জন। এ আসনে এবার ১৮ থেকে ৩৩ বছর বয়সের ভোটার রয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৭২ জন। জয় পরাজয়ে এ সংখ্যাটি ভূমিকা রাখবে বলে নির্বাচন বিশ্লেষকদের ধারণা।
জানা যায়, পূর্বে এ আসনে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ৬ বার, বিএনপির ওবায়দুল হক খোন্দকার ও এম এ জিন্নাহ দুইবার করে এবং জাতীয় পার্টির আবু ছালেক একবার নির্বাচিত হয়েছেন।
মিরসরাই উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা নুরুল কবির বলেন, মানুষ অতীতে সব দলকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এনেছে। কিন্তু মিরসরাই কিংবা দেশের মানুষের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয়নি। এবার সবাই জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিয়েছে। আশা করছি, মিরসরাইবাসী অ্যাডভোকেট ছাইফুর রহমানকে বিপুল ভোটে জয়ী করবে, ইনশাআল্লাহ।
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আজিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, বিএনপি থেকে ত্যাগী ও মাঠের নেতাকে মনোনয়ন দিয়ে দল সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতদিন রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় আমরা আলাদা আলাদা গ্রুপ করেছি। ধানের শীষকে বিজয়ী করতে সব গ্রুপকে নিরসন করে নুরুল আমিন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে আমরা মিরসরাইয়ের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ভোটে ধানের শীষকে জয়যুক্ত করবো, ইনশাআল্লাহ।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নুরুল আমিন চেয়ারম্যান বলেন, মিরসরাই বিএনপির বিগত ৩০ বছরের ইতিহাসে নির্বাচনকে ঘিরে সকল নেতৃবৃন্দ একসাথে কাজ করছে। এর আগে কোন প্রার্থীর পক্ষে শতভাগ ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার নজির নেই।
দীর্ঘ ১৭ বছর মানুষ ভোট দিতে পারেনি, ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। এবার ভোট দিতে সবাই মুখিয়ে আছে। ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষের বিজয় হবে, ইনশাআল্লাহ।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট ছাইফুর রহমান বলেন, মানুষ পরিবর্তন চায়। পুরো উপজেলায় ভোটারদের কাছ থেকে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয় আমরা জয়ী হবো, ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, আমি যদি নির্বাচিত হই মিরসরাই উপজেলাকে একটি টেকসই ও মানবিক উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলবো। সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার অবসান ঘটিয়ে নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করবো।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রির্টানিং অফিসার সোমাইয়া আক্তার বলেন, নির্বাচনে মিরসরাই আসনে পোস্টাল ব্যালট রেজিষ্ট্রেশন করেছেন ৬ হাজার ৫৭২। পোস্টাল ছাড়া ভোটার হলো ৩ লাখ ৮০ হাজার ১০২টি ভোট। মোট কেন্দ্র ১০৬টি, মোট বুথের সংখ্যা ৭১৮।
১০৬টি কেন্দ্রে সিসি ক্যামরা স্থাপনের কাজ চলছে। মিরসরাই থানায় ৪৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ২১টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, জোরারগঞ্জ থানার ৫৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৮টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের জন্য প্রিজাইডিং অফিসার ১১২ জন, সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার ৭৩৬ জন, পোলিং অফিসার ১ হাজার ৫০৮ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।