২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২২:২৬

বিএনপির হামলায় উপজেলা জামায়াত সেক্রেটারি নিহত

মাওলানা রেজাউল করিম  © সংগৃহীত

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে চেয়ার বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জামায়াতে উপজেলা সেক্রেটারি নিহত হয়েছেন।

আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে নেওয়ার পথে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হয়েছেন। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর-৩ আসনে জামায়াত মনোনীতি প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল। 

জানা গেছে, আজ দুপুরে ঝিনাইগাতী মিনি স্টেডিয়াম মাঠে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে চেয়ার বসানোকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ইশতেহার অনুষ্ঠানে বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল এবং জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে চেয়ার বসানোকে কেন্দ্র করে প্রথমে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত শতাধিক কর্মী-সমর্থক আহত হন।

পরে সন্ধ্যায় দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিমকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান বলে নিশ্চিত করেছেন শেরপুর-৩ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল।

আহতদের ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও শেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত কয়েকজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনার খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

সংঘর্ষের পর শ্রীবরদীতে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন নুরুজ্জামান। তিনি বলেন, ঝিনাইগাতী থেকে ফেরার পথে বিএনপির সমর্থকরা আমাদের ওপর ইট পাটকেল ছোড়ে এবং দেশীয় অস্ত্রসহ আমাদের ওপর আক্রমণ করেন। সেখানে আমাদের শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয় সূত্র ও উপজেলা প্রশাসন জানায়, ঝিনাইগাতি ও শ্রীবরদী উপজেলা নিয়ে গঠিত শেরপুর-৩ আসনের বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের নিয়ে ঝিনাইগাতি উপজেলা প্রশাসন ‘নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানের’ আয়োজন করেন। সকাল থেকেই বিভিন্ন দলের প্রার্থী ও তাদের সমর্থকেরা অনুষ্ঠানস্থলে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে প্রার্থীরা মঞ্চে আসার পর সামনের সারিতে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এরপর উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের নেতাকর্মীরা আগে থেকেই সামনের চেয়ারে বসা থাকলেও বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল সেখানে না পৌঁছায় তার নেতাকর্মীরা অপেক্ষা করছিলেন। তবে বিএনপির নেতাকর্মীরা দর্শক সারিতে সামনে চেয়ারে বসতে না পেয়ে ক্ষুব্ধ হন। এ সময় জামায়াতের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাগবিতণ্ডা থেকে চেয়ার ছোড়াছুড়ি শুরু হয়। এক পর্যায়ে অনুষ্ঠানস্থল রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ভেঙে ও পুড়িয়ে দেওয়া হয় বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল। লন্ডভন্ড হয়ে যায় অনুষ্ঠান মঞ্চ।