২২ বছর পর রাজশাহী যাচ্ছেন তারেক রহমান
দীর্ঘ ২২ বছর পর রাজশাহীতে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামীকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন তিনি। তারেক রহমানের এই রাজশাহী সফরকে কেন্দ্র করে বিভাগজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বিএনপি।
সফর উপলক্ষে আজ বুধবার বেলা দুইটার দিকে মাদ্রাসা মাঠে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বিএনপি। এতে বক্তব্য দেন দলের রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত, রাজশাহী-২ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু, মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন-অর-রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন।
সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দ শাহীন শওকত বলেন, তারেক রহমানের রাজশাহী আগমনকে ঘিরে বিভাগের সব জেলায় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং নেতা-কর্মীরা নিজ নিজ এলাকায় ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছেন। তিনি উল্লেখ করেন, তারেক রহমান দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলেন এবং বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর জনগণের মনে যে শোক কাজ করছিল, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের পর তা নতুন প্রত্যয় ও চেতনায় রূপ নিয়েছে। সারা বাংলাদেশ আজ নতুনভাবে উজ্জীবিত।
শাহীন শওকত আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন এবং জবাবদিহিমূলক সংসদ ও নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবেন। উত্তরবঙ্গের সন্তান হিসেবে এই অঞ্চলের মানুষের তাঁর প্রতি বিশেষ আবেগ ও ভালোবাসা রয়েছে। এছাড়া আগামীকাল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ফাইনাল পরীক্ষা থাকায় পরীক্ষার্থীরা যেন নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেন, সে বিষয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের সহযোগিতা করার বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মিজানুর রহমান মিনু বলেন, আগামীকালের জনসভা শুধু মাদ্রাসা মাঠেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এটি পুরো রাজশাহী মহানগরজুড়ে এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হবে। দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের পর দেশ এখন পরিবর্তনের পথে এবং জনগণ তারেক রহমানের নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে আছে। এই জনসভা থেকেই তারেক রহমান ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরবেন।
মিজানুর রহমান মিনু আরও উল্লেখ করেন, তারেক রহমান ইতোমধ্যে জনকল্যাণে মায়েদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, বয়স্কদের জন্য হেলথ কার্ড ও কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ডসহ নানা পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। শহীদ জিয়া যেমন বরেন্দ্র প্রকল্পের মাধ্যমে এই অঞ্চলকে সবুজ করেছিলেন, তেমনি তারেক রহমান আইটি প্রজেক্টের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবেন। রাজশাহীকে ভারতের হায়দরাবাদ বা স্টকহোমের মতো ‘আইটি সিটি’তে রূপান্তর করা হবে। এছাড়া চারটি স্পেশালাইজড ইপিজেড স্থাপন এবং হারানো রেশম শিল্পকে ফিরিয়ে আনা বিএনপির অন্যতম লক্ষ্য।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জনসভায় রাজশাহীর ১৩টি আসনসহ উত্তরবঙ্গের মোট ৩৯টি সংসদীয় আসনের বিএনপির প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মিজানুর রহমান মিনু জানান, ২০০৪ সালে স্টেডিয়ামে বিভাগীয় কর্মী সম্মেলনের পর এটিই তারেক রহমানের সবচেয়ে বড় সমাবেশ হতে যাচ্ছে। নিরাপত্তার কারণে তাঁর যাতায়াতের রুট প্রকাশ করা না হলেও, আগামীকাল দুপুর ১২টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে তিনি জনসভায় উপস্থিত হবেন বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে।