২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:২৩

হাসনাত আব্দুল্লাহকে সবচেয়ে জেনুইন এবং সাহসী মনে হয়েছে: সালমান মুক্তাদির

সালমান মুক্তাদির এবং হাসনাত আব্দুল্লাহ  © সংগৃহীত ও সম্পাদিত

কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে ১০-দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষে অবস্থান নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ও অভিনেতা সালমান মোহাম্মদ মুক্তাদির।

তিনি বলেছেন, এই মুহূর্তে তাকে (হাসনাত আব্দুল্লাহ) আমার কাছে সবচেয়ে জেনুইন এবং সাহসী মনে হয়েছে। ভবিষ্যতে যদি সে ভুল পথে যায়, তাহলে সেটা আমাদের মতো মানুষের জন্য শুধু বিব্রতকরই হবে— যারা প্রকাশ্যে তার পক্ষে কথা বলেছি।

তাছাড়াও, জাতীয় নাগরিক পার্টি নেতা নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী, বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস, স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী তাসনিম জারাসহ কয়েকজনকে নিয়েও তিনি মন্তব্য করেছেন।

বুধবার (২৮ ডিসেম্বর) দেওয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া সালমান মুক্তাদিরের পোস্টটি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল:

এর আগেও বলেছি—এই মুহূর্তে রাজনীতিতে যে একজনের ওপর আমার বিশ্বাস আছে, তিনি হাসনাত। একই সঙ্গে এটাও স্পষ্ট করে বলেছি, তার কিছু মতের সঙ্গে আমি একমত নই। তবু মতভেদের বাইরে গিয়েও কিছু বিষয় মনে করিয়ে দিতে চাই।

প্রথমত, তার নিজের লোকজনই একসময় তার কাঁধে বন্দুক তুলে দিতে পারে— হয়তো সেটার শুরু ইতোমধ্যেই হয়ে গেছে।

দ্বিতীয়ত, হাসনাত নিজের অবস্থান নিয়ে একেবারে পরিষ্কার। আমি তার সব মতের সঙ্গে একমত না হলেও, এই স্পষ্টতাকে আমি সম্মান করি। বাকিদের মধ্যে এই স্বচ্ছতা খুব কমই দেখি।

তৃতীয়ত, এর মানে কি সে কখনোই আমাদের বিপক্ষে যাবে না? আমি জানি না। আমি কেবল আশা রাখছি। এই মুহূর্তে তাকে আমার কাছে সবচেয়ে জেনুইন এবং সাহসী মনে হয়েছে। ভবিষ্যতে যদি সে ভুল পথে যায়, তাহলে সেটা আমাদের মতো মানুষের জন্য শুধু বিব্রতকরই হবে—যারা প্রকাশ্যে তার পক্ষে কথা বলেছি।

আর একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—যদি আমার সঙ্গে তার সব মত না মেলে, তবু কেন তাকে জেনুইন মনে হলো? এই জায়গাটাই তো আমাদের চর্চা করা দরকার। মতভেদ থাকলেই কি ঝগড়ায় নামতে হবে? মতভেদ কি ভদ্র, সভ্য উপায়ে প্রকাশ করা যায় না?

তার বন্ধুর আচরণ ভালো লাগেনি। জামায়াতের সঙ্গে জোট ভালো লাগেনি। এনসিপি ভালো লাগেনি। বিএনপি ভালো লাগেনি। তবুও ব্যক্তি হিসেবে হাসনাতকে আমার কাছে ভালো প্রার্থী মনে হয়েছে।

তাসনিম জারাকেও ভালো প্রার্থী মনে হয়েছে। নাসিরকে খারাপ প্রার্থী মনে হয়েছে—অনেকের কাছে আবার সে ভালো। তাই যাকে ভালো লাগে, তাকে ভোট দিন। আমার কথায় আপনাদের আদর্শ বদলাতে হবে—এমন কোনো কথা নেই। এমনও হতে পারে, কাল দেখব—হাসনাত আমাদের পেটাচ্ছে, আর নাসির আমাদের বাঁচাচ্ছে।

তাসনিম জারা ঘুষ খাচ্ছে। তারেক রহমান ছাত্র মারছে। সবকিছুই হতে পারে। তাই মতামত দিতে থাকুন। সব মানুষের মত এক হবে না। কিন্তু রাজনৈতিক সংলাপই রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরি করে। কোন প্রার্থীকে কেন ভালো লাগে, আর কেন ভালো লাগে না—সেটা বলুন। ৮ আসনের মধ্যে একটাকেও আমার ভালো লাগেনি—সবাই নার্সিসিস্টিক।

তবে তাসনিম জারাকে ভালো লেগেছে। তার ব্যাকবোন আছে। আমার দৃষ্টিতে, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে রুচিশীল নির্বাচন প্রচারণা তারই।

সিস্টেম আর আইনের প্রতি তার সম্মান অনন্য। তার কোনো ত্রুটি থাকলে সেটা ধরিয়ে দিন—দেখুন সে কীভাবে উত্তর দেয়, কীভাবে সংশোধন করে। নাকি বাচ্চাদের মতো রিয়্যাক্ট করে। হাসনাতকে ভালো লেগেছে তার কঠোর অবস্থান আর স্পষ্ট কণ্ঠের জন্য। কোনো ভান নেই। কান্নাকাটি একটু বেশি করে—কিন্তু এটা ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য, এটা নিয়ে আঘাত করা ঠিক না। প্রার্থী হিসেবে তার কাছ থেকে আমার প্রত্যাশা অনেক বেশি।

ভয় একটাই—শেষ মুহূর্তে যেন ব্যারিস্টার সুমনের মতো মারা না দেয়। সুমনও খুব স্বচ্ছ আর সরাসরি ছিলেন। মির্জা আব্বাস আগেও ক্ষমতায় ছিলেন। চাঁদাবাজির অভিযোগগুলো যেভাবে সামলানো হয়েছে, তাতে আস্থা আসে না। তারেক রহমানের পিআর গেম খুব শক্তিশালী।

বাংলাদেশের মানুষ আবেগপ্রবণ। একটু চেয়ার সরিয়ে দিলে, মেয়েকে বাবার পাশে পানি দিলে, সুন্দর করে দু-একটা কৌতুক করলে মানুষ ভাবে—এই আমাদের নেতা। কিন্তু প্রকৃত নেতৃত্ব বোঝা যাবে তখনই, যখন তাকে অস্বস্তিকর বাস্তবতার মুখোমুখি হতে দেখব।

তার অস্পষ্ট বক্তব্য প্রমাণ করবে সে মানুষ-খুশি করতে চায়, আর তার স্পষ্ট ও কঠিন অবস্থান প্রমাণ করবে সে সত্যিই দেশের জন্য শক্ত নেতা কি না। নইলে সুন্দর কথা তো আমার ব্যক্তিগত পছন্দ ড. ইউনূসও বলেছেন—তাকে এত করুণভাবে ব্যর্থ হতে দেখে আমি বিব্রত। বাকি থাকে জামায়াত।

তাদের নেতারা পডকাস্টে গিয়ে কখনো শরিয়া, কখনো হাইব্রিড শরিয়ার কথা বলেন— তাদের আসল আদর্শ কী, কাকে তারা খুশি করতে চায়, নিজেদের সমর্থকদের সহিংসতা তারা নিন্দা করবে কি না—এর কোনো পরিষ্কার ছবি তারা দিতে পারেনি। সামির স্ক্যান ট্রাই করতে গিয়ে নিজেই মার খেল, দলীয় লোকজনও গালি খেল।