২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের: তারেক রহমান
ক্ষমতায় গেলে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এতে বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির মজুতও বাড়ানো সম্ভব হবে।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের র্যাডিসন ব্লু হোটেলে ‘দ্য প্ল্যান: ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান-চট্টগ্রাম ডিভিশন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনায় রয়েছে সারা দেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করার। এই পানিগুলো যদি আমরা খালের মধ্যে ধরে রাখতে পারি, তাহলে জলাবদ্ধতা কমবে, পানির স্তর রক্ষা হবে এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অনেক সমস্যা দূর হবে।’
তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা শুধু চট্টগ্রামের সমস্যা নয়, ঢাকাসহ দেশের সব বড় জেলা ও উপজেলাতেই এ সংকট রয়েছে। সমস্যাটিকে সামগ্রিকভাবে চিন্তা করতে হবে। এ জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে খাল খনন। কারণ সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়, অথচ বের হওয়ার পথ না থাকায় এই পানি দীর্ঘদিন আটকে থাকে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী তাসনুভা তাছরিনের প্রশ্নের জবাবে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশের ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংক ঋণের প্রক্রিয়া অনেক সময় জটিল। সহজে ঋণ পাওয়া যায় না।আমাদের পরিকল্পনা আছে আইন ও নীতি যতটুকু সম্ভব পরিবর্তন করে ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংক ঋণ সহজ করা।’
তিনি বলেন, বিদেশে পড়াশোনা করতে যাওয়া অনেক শিক্ষার্থী পরিবারগত অর্থ সংকটের কারণে ভিসা ও বিমানের টিকিটের খরচ বহন করতে পারছে না। এ ধরনের শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারিভাবে ‘স্টুডেন্ট লোন’ প্রদানের বিষয়টি পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এমবিবিএস তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ রাফসানের পরিবেশ-সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, একসময় ২০ ফুট গভীরে গেলে পানির স্তর পাওয়া যেত, এখন ৪০০ থেকে ৫০০ ফুট নিচে গেলেও অনেক জায়গায় পানি পাওয়া যায় না। নদীগুলোতেও পানি নেই। ফলে মানুষের স্বাভাবিক চাহিদা মেটাতে ভূগর্ভস্থ পানি তুলে নিতে হচ্ছে, যা ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে।
তিনি বলেন, গ্রামের অনেক মানুষ অনেক দূরে গিয়ে পানি সংগ্রহ করছে। এতে নানা রোগ, বিশেষ করে চর্মরোগ বেড়ে যাচ্ছে। পানি ধরে রাখতে পারলে এসব সমস্যার সমাধান হবে।
পরিবেশ দূষণ প্রসঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশ একটি ছোট দেশ, কিন্তু জনসংখ্যা বিশাল। মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাস, যানবাহন, শিল্পকারখানা, সব মিলিয়ে প্রতিদিনই দূষণ বাড়ছে। তবে হঠাৎ সব বন্ধ করে দিলে অনেক মানুষ বেকার হয়ে যাবে। তাই দূষণ নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার।
তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনায় বছরে ২০ থেকে ৩০ কোটি গাছ লাগানো হবে। পাঁচ বছরে প্রায় ১৫০ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য রয়েছে। দেশের প্রায় এক লাখ নার্সারির ওপর জোর দিয়ে এসব গাছ উৎপাদন করা হবে।’
পঞ্চম বর্ষের মেডিকেল শিক্ষার্থী জিয়ানের প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে নাকি কেবল প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ থাকবে, এ বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল। যদি প্রতিশ্রুতি পালন না করা হয়, তাহলে মানুষ পরেরবার ভোট দেবে না।’
তিনি বলেন, ‘হয়তো শতভাগ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন সম্ভব নাও হতে পারে, কিন্তু আমি চেষ্টা করবো। চেষ্টা করলে আপনারা পাশে থাকবেন। না করলে আপনারা সাপোর্ট দেবেন না। একটা রাজনৈতিক দল হিসেবে সাপোর্ট হারানোর ঝুঁকি কেউই নিতে চায় না।’
সাউদার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সাদনান তায়েজের প্রশ্নে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্যের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, প্রাইভেট হোক বা পাবলিক, সব শিক্ষার্থীই সমান সুযোগ-সুবিধা পাবে। এ ক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য থাকবে না। সরকার পরিকল্পনায় সবাই সমানভাবে অংশ নেবে।
চিটাগং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির ব্যবসা বিভাগের এক শিক্ষার্থীর প্রশ্নে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি প্রসঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, প্রথম কাজ হবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শক্তিশালী করে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।’
তিনি বলেন, ‘দুর্নীতিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। একটি হলো ব্যক্তিগত স্বার্থে জড়িত কিছু মানুষ, আরেকটি হলো পেশাদার অপরাধী। পেশাদার অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকার চাইলে শক্তভাবে ব্যবস্থা নিতে পারে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।’