স্কুল হবে ল্যাবরেটরি, কমিউনিটি ক্লিনিক মিনি হাসপাতাল’—৬ পয়েন্টে ইশতেহার তাসনিম জারার
‘স্কুল হবে ল্যাবরেটরি, কমিউনিটি ক্লিনিক হবে মিনি হাসপাতাল’—এই লক্ষ্য সামনে রেখে ঢাকা-৯ আসনের জন্য ছয় পয়েন্টে ইশতেহার ঘোষণা করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে সামাজিক যোগযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, নাগরিক সেবা, অর্থনীতি ও এমপির জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ঢাকা-৯ এলাকার মানুষের প্রতি রাষ্ট্রীয় বৈষম্যের তীব্র সমালোচনাও করেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে তাসনিম জারা বলেন, ভোটের সময় নেতারা এলেও ভোটের পর তারা উধাও হয়ে যান। রাষ্ট্র এই এলাকার মানুষকে কেবল ‘রাজস্ব আদায়ের উৎস’ হিসেবে দেখে। টাকা নেওয়ার সময় উপস্থিত থাকলেও সেবা দেওয়ার সময় থাকে না। তিনি নিজেকে ‘পেশাদার রাজনীতিবিদ’ নয়, বরং এই এলাকার ‘ঘরের মেয়ে’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, ঢাকা-৯ কে অবহেলার দিন শেষ।
গ্যাস, রাস্তা ও জলাবদ্ধতা
ইশতেহারের প্রথম দফায় তিনি গ্যাস সংকট, জলাবদ্ধতা ও ভাঙাচোরা রাস্তার কথা তুলে ধরেন। তার ভাষায়, গ্যাসের বিল দেওয়া হলেও চুলা জ্বালালে বাতাস বের হয়, যা সরাসরি প্রতারণা। সমাধান হিসেবে তিনি ‘সেবা না দিলে বিল নয়’ নীতির কথা বলেন। তিতাস গ্যাস গ্যাস সরবরাহে ব্যর্থ হলে বিল মওকুফ, এলপিজির সিন্ডিকেট ভাঙা, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও রাস্তা কাটার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন।
কমিউনিটি ক্লিনিক হবে মিনি হাসপাতাল
স্বাস্থ্য খাতে তাসনিম জারা বলেন, ৭–৮ লাখ মানুষের জন্য মাত্র একটি বড় হাসপাতাল—মুগদা মেডিক্যাল—চরম অবহেলার উদাহরণ। তিনি মুগদা হাসপাতালে জনবল ও যন্ত্রপাতি বাড়ানোর পাশাপাশি পাড়ার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে ‘মিনি হাসপাতাল’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে সারা বছরব্যাপী ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে স্থায়ী মশা নিধন স্কোয়াড গঠনের কথাও জানান।
মাদকমুক্ত রাস্তা
তৃতীয় দফায় তিনি মাদক সিন্ডিকেটের দখলে চলে যাওয়া রাস্তাঘাটের কথা তুলে ধরেন। সন্ধ্যার পর নারীদের চলাচলের নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্কুল-কলেজ ও কর্মস্থলগামী সড়কে সিসিটিভি ও উচ্চক্ষমতার বাতি বসানো হবে। মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং নারীবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি।
স্কুল হবে ল্যাবরেটরি
শিক্ষা খাতে অপরিকল্পিত কারিকুলাম ও ভর্তি বাণিজ্যের সমালোচনা করে তাসনিম জারা ঘোষণা দেন, স্কুল ভর্তিতে এমপির কোনো কোটা থাকবে না। তার বরাদ্দ থেকে স্কুলগুলোতে আধুনিক সায়েন্স ল্যাব, লাইব্রেরি, ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব ও কোডিং শেখানোর ব্যবস্থা করার কথা বলেন। পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য, সহশিক্ষামূলক কার্যক্রম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
অর্থনীতি ও জীবিকা
পঞ্চম দফায় তিনি তরুণদের বেকারত্ব, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পুঁজি সংকট এবং কর্মজীবী মায়েদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। ‘স্টার্ট-আপ ঢাকা-৯’ ফান্ড গঠন, জামানত ছাড়া সহজ শর্তে ঋণ, প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিউনিটি ডে-কেয়ার সেন্টার এবং অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার কথা বলেন তিনি।
এমপির জবাবদিহিতা
শেষ দফায় তাসনিম জারা বলেন, তিনি ‘অতিথি পাখি’ নন। নির্বাচিত হলে এক মাসের মধ্যে এলাকায় স্থায়ী কার্যালয় চালু করা হবে, যেখানে সন্ধ্যায়ও সেবা পাওয়া যাবে। অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য ডিজিটাল ওপেন ড্যাশবোর্ড চালু এবং কোনো প্রটোকল ছাড়াই সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের অঙ্গীকার করেন তিনি।
পোস্টের শেষ অংশে ডা. তাসনিম জারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর স্বচ্ছ রাজনীতির সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেই তিনি রাজনীতিতে এসেছেন। তার ইশতেহার কোনো ফাঁকা প্রতিশ্রুতি নয়, বরং এলাকাবাসীর সঙ্গে একটি চুক্তি। ঢাকা-৯ এর গ্যাস-পানি, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার অধিকার আদায় এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে আসন্ন নির্বাচনে ‘ফুটবল’ মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি লেখেন, “আপনারা আমার শক্তি হোন, আমি আপনাদের কণ্ঠস্বর হব। বিজয় আমাদের হবেই, ইনশাআল্লাহ।”