২২ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:৩৮

প্রচলিত বিদ্রুপকে ‘ব্যঙ্গ’ করতে চেয়েছিলেন জানিয়ে দুঃখ প্রকাশ ব্যারিস্টার আরমানের

সম্প্রতি একটি পডকাস্টে কথা বলেন ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাশিম আরমান  © সংগৃহীত

পডকাস্টে বিশেষ ধর্মীয় শ্রেণিকে নিয়ে ‘বিদ্রুপাত্মক’ মন্তব্যের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন ঢাকা-১৪ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। নিজে বিদ্রুপ নয়, বরং সমাজে প্রচলিত বিদ্রুপ ও আইরনিকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন করতে চেয়েছিলেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে এই দুঃখ প্রকাশ করেন আরমান। পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আসসালামু আলাইকুম। সাম্প্রতিক একটি পডকাস্টে আমার বলা একটি কথায় অনেকেই কষ্ট পেয়েছেন— এটা জেনে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। পডকাস্টটি ছিল একটি অনানুষ্ঠানিক পরিবেশে, যেখানে আমি মূলত সমাজে প্রচলিত বিদ্রুপ ও আইরনিকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেই প্রেক্ষাপট সবার কাছে স্পষ্ট হয়নি এবং আমার বক্তব্য অনেকের মনে আঘাত দিয়েছে— এ দায়িত্ব আমি এড়াতে পারি না।’

তিনি লিখেছেন, ‘প্রিয় দ্বীনি ভাই ও বোনেরা, আমি আপনাদেরই একজন। আমাদের অনেকের জীবনেই ‘হুজুর মানেই পিছিয়ে পড়া’ বা ‘ফ্যানাটিক’— এই ধরনের তকমা জুড়ে দেওয়া হয়েছে। বড় হতে হতে আমিও বারবার শুনেছি, কেউ জানলে যে আমি শিবির করি— তখন বলা হতো, ‘তোমার চাপাতি কই?’ বা ‘পাঞ্জাবির নিচে কি এখন তলোয়ার বের হবে?’ এসব মন্তব্যের সঙ্গে আমি বহুদিন ধরেই পরিচিত।’

ব্যারিস্টার আরমান লিখেছেন, ‘অনেক সময় পক্ষপাত ও প্রোপাগান্ডার মোকাবিলার একটি উপায় হিসেবে আমরা রসিকতাকেই বেছে নিই— যেন বোঝানো যায়, তোমরা যা-ই বলো, তাতে আমরা বিচলিত নই। সেই জায়গা থেকেই কথাটি এসেছিল। তবে এটাও সত্য, এই শব্দগুলো ও বক্তব্যের পেছনে দীর্ঘদিনের বৈষম্য, অবমাননা ও বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতার ইতিহাস জড়িয়ে আছে, যা অসংখ্য মানুষের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।’

‘এই বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই আমি নিজে হেঁটেছি’ উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, ‘সেই হিসেবে আমার আরও সচেতন হওয়া উচিত ছিল। তাই যারা কষ্ট পেয়েছেন, বিভ্রান্ত হয়েছেন বা আহত বোধ করেছেন— আপনাদের সবার কাছে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। আমার উদ্দেশ্য কখনোই অবমাননা করা ছিল না, তবুও যদি আমার কথায় তা হয়ে থাকে, সেই দায় আমি বিনা দ্বিধায় স্বীকার করছি।’

তিনি লিখেছেন, ‘আমার দ্বীন, আমার বিশ্বাস, আমার ধর্মই আমার পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমি তা গর্বের সঙ্গে ধারণ করি এবং আল্লাহ চাইলে তার জন্য জীবন দিতেও প্রস্তুত। দোয়া করবেন, যেন ভবিষ্যতে আমি আরও সংবেদনশীল, দায়িত্বশীল এবং ন্যায়ভিত্তিকভাবে কথা বলতে পারি।’