২২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:১৯

সবচেয়ে বেশি ঋণখেলাপি বিএনপির প্রার্থী, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্বতন্ত্র-জাতীয় পার্টি, জামায়াত কত তম?

বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি ও কমিউনিস্ট পার্টি'র লোগো  © টিডিসি সম্পাদিত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে ২৫ শতাংশরই কোনো না কোনো ঋণ বা দায় আছে। ঋণখেলাপি প্রার্থীর সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে বিএনপি। এরপর পর্যায়ক্রমে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জাতীয় পার্টির অবস্থান। এই তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

টিআইবি জানায়, এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়া ১০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিএনপির প্রার্থীদের ৫৯ দশমিক ৪১ শতাংশই ঋণখেলাপি; যা দলগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এই হার ৩২ দশমিক ৭৯ শতাংশ। আর তৃতীয় স্থানে থাকা জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের মধ্যে ২৬ দশমিক ৯৭ শতাংশের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির তথ্য পাওয়া গেছে।

চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে আছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ও জামায়াতে ইসলামী; এই দুই দলের হার যথাক্রমে ২৫ শতাংশ ও ২২ দশমিক ২৬ শতাংশ।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান অভিযোগ করেন, যোগসাজশের মাধ্যমে ঋণখেলাপিদের নাম কর্তনের সুযোগ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ব্যবসাভিত্তিক রাজনীতির কাছে ইসি জিম্মি। অনেক প্রার্থী ঋণখেলপি হওয়া সত্ত্বেও সুযোগ দেয়ায় ইসি সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেনি।

টিআইবির তথ্যমতে, এ বছর প্রার্থীদের মধ্যে ৪৮ শতাংশের বেশি প্রার্থীর মূল পেশা ব্যবসায়ী। আইন ও শিক্ষক পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন যথাক্রমে ১২ দশমিক ৬১ এবং ১১ দশমিক ৫৬ শতাংশ প্রার্থী। রাজনীতিকে পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ প্রার্থী। অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্যের ভিত্তিতে কোটিপতি প্রার্থীদের সংখ্যা ৮৯১ জন। তাদের মধ্যে ২৭ জন শতকোটি টাকার মালিক।

এবারের নির্বাচনে ইসলামপন্থী দলগুলোর প্রার্থীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মোট প্রার্থীর ৩৬ ভাগের বেশি ইসলামপন্থী দলগুলোর। যা বিগত ৫টি নির্বাচনের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে, প্রতিবারের মতো এবারও নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ ৫ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি। এছাড়া, ৫৩০ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে বর্তমানে রয়েছে, যা মোট প্রার্থীর ২২ দশমিক ৬৬ শতাংশ। আর অতীতে ৭৪০ জন বা ৩১ দশমিক ৬৪ শতাংশ প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা ছিল।