ঈদের দিনও অবস্থানে ছাত্রলীগের বিক্ষুব্ধরা
গত ২৬ মে থেকে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যে টানা অবস্থান নেন তারা। বুধবার ঈদের দিন সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে নামাজ পড়ে আবারও সেখানে বসেছেন তারা।
ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি থেকে বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে কমিটি পুনর্গঠন না হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা রয়েছে তাদের। এর আগে দাবি না মানা হলে পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন সেখানে অবস্থান করবেন বলে ঘোষণা দেন তারা।
এদিকে সকালে ঈদের নামাজ পড়ে বিক্ষুব্ধ ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করে যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।
ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ ৩০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি থেকে বিতর্কিতদের বাদ না দেওয়া পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে অবস্থান করবেন ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতরা। এদিকে সদ্য ঘোষিত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি থেকে ১৯ জন ‘বিতর্কিত’ নেতাকে বাদ দেয়া হয়েছে। ওই ১৯ জনের পদ শূন্য ঘোষণা করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
তবে বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি থেকে বাদ পড়া ১৯ জনের নাম প্রকাশ করা হয়নি। নাম প্রকাশ না করার বিষয়টিকে ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া অংশ ‘প্রহসন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত একটার দিকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ১৯টি পদ শূন্য ঘোষণা করা হলো। পরবর্তীতে যাচাই-বাছাইপূর্বক পদগুলো পূরণ করা হবে।’
সংগঠনের কমিটিতে পদবঞ্চিতরা একে ‘নতুন একটি প্রহসন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে পদবঞ্চিতরা একে ‘শুভংকরের ফাঁকি’, ‘চাতুরী’ ও ‘সুপরিকল্পিত অপরাজনীতি’ হিসেবেও আখ্যা দিয়েছেন।
তবে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘পারিবারিক ও সামাজিক’ দিক বিবেচনায় কমিটি থেকে বাদ পড়া ‘বিতর্কিত’ ১৯ জন নেতার নাম প্রকাশ করবে না তারা। যাঁদের পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে, তাঁদের ব্যক্তিগতভাবে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি৷
ছাত্রলীগের গত কমিটির উপ দপ্তর সম্পাদক শেখ নকিবুল ইসলাম সুমন বলেন, সপ্তম দিনের মতো অবস্থান চলছে। দাবি আদায় না হলে এখানে ঈদ পালন করা হবে। এর আগে ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং আওয়ামী লীগের নেতারা আমাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা রক্ষা করা হয়নি।
ছাত্রলীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক সাঈফ বাবু বলেন, আমাদের দাবি যে যৌক্তিক তা ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। কমিটিতে ১৯ জনের পদ শূণ্য করা হয়েছে। কিন্তু তাদের তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া আরও যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তাদের পদ শূণ্য করা হোক। আর আমাদের আন্দোলন-সংগ্রাম হলো ছাত্রলীগকে বিতর্ক মুক্ত করার সংগ্রাম। প্রধানমন্ত্রী এখন দেশের বাইরে আছেন। তিনি দেশে ফেরার পর তার সাথে দেখা করে আমাদের অভিযোগগুলো উপস্থাপন করব।