বাউফলে নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ বিএনপি-জামায়াতের
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসন। একটি সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক হামলা ও মামলার ঘটনা ঘটেছে এ আসনে। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা পরস্পরবিরোধী নানা অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলনও করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক খালিদুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, নদীবেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে জামায়াতের কর্মীদের ওপর নিয়মিত হামলা করছেন বিএনপির সমর্থকরা। এসব হামলায় তাদের অন্তত ১০ জন সমর্থক গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়াও জামায়াত কর্মীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটিয়েছে বিএনপি সমর্থকরা। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ভোটের মাঠে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
একই সময় কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম জানান, বিএনপির প্রার্থী সহিদুল আলম তালুকদার নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদকে একটি উঠান বৈঠকে প্রকাশ্যে রগ কেটে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এছাড়াও একটি জানাজা নামাজে ড. শফিকুল ইসলামের কান্নার ঘটনা নিয়ে কটূক্তি করেছেন, যা মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। তাই জামায়াতে ইসলামী এ বিষয়ে সহিদুল আলমের বিরুদ্ধে রিটার্নিং অফিসারের কাছে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ দাখিল করেছে।
অন্যদিকে গতকাল বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপি নেতা মোহাম্মদ রুহুল। তিনি অভিযোগ করেন, গত ৮ জানুয়ারি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকরা একটি বিদ্যালয়ের কক্ষে নির্বাচনী সভা করেছেন। এ সময় একজন সাংবাদিকের উপস্থিতিতে ছাত্রদল নেতারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করেন। তখন জামায়াতে ইসলামীর নেতারা ছাত্রদল নেতাদের ওপর হামলা চালিয়ে ৩ জনকে আহত করেন।
পরবর্তীতে কয়েক দফায় বিএনপি সমর্থকদের ওপর হামলা চালায় জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকরা। এসব ঘটনায় তারা থানায় অভিযোগ করলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। অপরদিকে জামায়াতের মিথ্যা অভিযোগ আমলে নিয়ে বিএনপি নেতাদের বাড়িঘরে হানা দিয়ে পুলিশ গ্রেফতার করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নদীবেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে ৮ জানুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর বৈঠককে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর থেকে রাজনৈতিক মাঠে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। এখন পর্যন্ত একাধিক হামলা ও মামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব সংঘর্ষে উভয় দলের অন্তত ২০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। ঘটনার পর জহিরুল ইসলাম নামের একজন ছাত্রদল নেতাকে পুলিশ গ্রেফতার করে। এ পরিস্থিতিকে ঘিরে দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও একটি বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
এছাড়া গত বুধবার রাতে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে দুর্বৃত্তরা অগ্নিসংযোগ করে। যদিও বিএনপির অভিযোগ, ওই অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জামায়াতের সমর্থকরা জড়িত।
এ বিষয়ে বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, সহিংসতার ঘটনায় দুটি মামলা এফআইআরভুক্ত করা হয়েছে এবং একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পক্ষপাতের অভিযোগ সত্য নয়। সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে সব অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিদ্যালয়ে সভা সংক্রান্ত অভিযোগটি নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে এবং শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে।
বাউফলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। সরকারি বিভিন্ন সংস্থা মাঠে কাজ করছে। আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগগুলো নিয়ে ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটি কাজ করছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।