‘বসে খাওয়া সংস্কৃতির প্রলোভন দেখাবেন না’
‘ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া এমপিদের মূল দায়িত্ব নয়, বরং এলাকার মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে সংসদে কথা বলাই একজন এমপির প্রকৃত দায়িত্ব। এমপিরা ত্রাণ বিতরণ বা ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভন দেখিয়ে গরীব মানুষের হক নষ্টকারী হবেন না।’ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও ঝালকাঠির-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. মাহমুদা আলম মিতু এমন মন্তব্য করেছেন। আজ রবিবার (৪ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেছেন তিনি।
ডা. মাহমুদা মিতু বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া কোনো এমপির মূল দায়িত্ব নয়। এলাকার মানুষের ভেতর থেকে ইনসাফ ও ন্যায়ের ধারণা তুলে আনা, তাদের কণ্ঠস্বর হয়ে সংসদে কথা বলাই একজন এমপির প্রকৃত দায়িত্ব। একজন এমপি হবে এলাকার মানুষ আর সংসদের মাঝখানের সেই সেতু, যে সেতু দিয়ে পার হবে মানুষের কথা, দাবি আর অধিকার। চাল-ডাল, ফ্যামিলি কার্ডের লোভ দেখাবেন না। বসে খাওয়ার সংস্কৃতির প্রলোভন দেখাবেন না।’
সিস্টেম পরিবর্তনের লড়াইয়ে মানুষকে শরিক করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সিস্টেম পরিবর্তনের লড়াইয়ে মানুষকে শরিক করুন। চাল-ডাল নয়, কাজের সুযোগ, ন্যায্য মজুরি, সামাজিক নিরাপত্তা আইন কার্যকর করা। ফ্যামিলি কার্ড কে পাবে, কে পাবে না এটা এমপির খেয়ালে নয়, স্পষ্ট মানদণ্ড, ডিজিটাল তালিকা ও আপিলের সুযোগ থাকতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভাকে শক্তিশালী করা, সব ক্ষমতা এমপি কেন্দ্রীকরণ নয়, স্থানীয় মানুষের সিদ্ধান্তে স্থানীয় সমস্যার সমাধান। এম পি চেয়ারম্যানদের জবাবদিহি করার সিস্টেম আনতে হবে।’ একই সঙ্গে চাকরি ও নিয়োগে স্বজনপ্রীতি বন্ধে দল, পরিচয়, তদবির নয় , মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
এনসিপির এই নেত্রী লেখেন, ‘নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, জমি দখল রাজনৈতিক পরিচয়ে অপরাধীর রক্ষা নয়, দ্রুত বিচার ও আইনের প্রয়োগ। ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প নির্ভরতা নয় হাসপাতালকেই এমনভাবে সিস্টেমিক করা যে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ভিআইপি মানুষ সবাই সমান চিকিৎসার সুযোগ পায়। গ্রামের স্কুলগুলোর অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। শহর গ্রামে শিক্ষার মান সমান রাখা। দরকার হলে ট্রেনিং দেওয়া।’
ডা. মাহমুদা মিতু বলেন, ‘এই লড়াই ৫৩ বছরের সিস্টেম পরিবর্তনের লড়াই। আপনাদের দায়িত্ব ৩০০ আসনে সৎ এবং যোগ্য লোক নির্ধারণ। অন্তত ১০০ জন হলেও হবে। এমপি হবে আইন প্রণেতা ও তদারককারী, ত্রাণ বিতরণকারী বা দালাল বা কার্ডের প্রলোভন দেখিয়ে গরীব মানুষের হক নষ্টকারী নয়।’