উস্কানিমূলক বক্তব্যে কী বলেছিলেন বিএনপি নেতা
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের ওপর দফায় দফায় হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন ও প্রক্টর মোহাম্মদ তানভীর হায়দার আরিফসহ অন্তত দুই শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের পক্ষ নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাথী উদয় কুসুম বড়ুয়ার একটি বক্তব্য ভাইরাল হয় এবং সংগঠন থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে বিএনপি নেতা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ‘কুলাঙ্গার’ বলে সম্বোধন করে বলেন, ‘চট্টগ্রামের ভিসি সাহেব এসে দেখে গেছেন, তদন্ত করে গেছেন। আমরা বলতে চাই, এ ধরনের ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত, সড়ক অবরোধ থাকবে। কোনো আন্দোলনের কর্মসূচি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হয় না। আমরা ভিসির সঙ্গে আলোচনা করলে, ভিসির বাপেও এ সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। এ উশৃঙ্খল কুলাঙ্গার ছেলেগুলো ভিসিকেও মানে না। আমরা বলতে চাই গতকাল সারারাত ধরে এই কুলাঙ্গার ছেলেরা আমাদের গ্রামের মা-ভাইবোনের ওপর নিরস্ত্র হামলা করেছে, এদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘মনে রাখবেন আমাদের মধ্যে ষড়যন্ত্র হতে পারে। কেউ কেউ দলের প্রশ্ন আনতে পারে। আমরা স্পষ্ট বলতে চাই, আমরা জুবরার সন্তান, এখানে কোনো দল নেই। আমরা সবাই এলাকার নাগরিক, আমাদের এলাকার নিরাপত্তার জন্য আমরা সবাই এক ও অভিন্ন। আমরা কোনো ধরনের ফ্যাসিস্ট শক্তির কাছে মাথা নত করব না। অনতিবিলম্বে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘২৪ ঘন্টার মধ্যে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে না পারলে, আমরা জুবরার জনগণ বিশ্ববিদ্যালয় ঘেরাও করব। এর জন্য জীবন গেলে জীবন দেব। আমার মা-বোনের ইজ্জতের চেয়ে জীবন বড় নই, আমার এলাকার সন্তানের চেয়ে আমার জীবন বড় নই, সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবেন, আন্দোলনকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নেওয়ার জন্য আমরা ২৪ ঘন্টা সময় দিয়েছি। এখন আমি ভিসির সঙ্গে কথা বলব।
সমস্যা সমাধানে ২৪ ঘন্টা সময় দিচ্ছি, না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাব এবং রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়ক অবরোধ করব। সোজা আঙুলে ঘি উঠে না। কোনো আন্দোলন বা অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে, কোনো আলোচনা-আপোষের মাধ্যমে সমাধান পাবেন না। এ আন্দোলনে সবাইকে সম্পৃক্ত থাকার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।’