মাশরাফির ভাই ইয়াবাসহ আটক দাবি করা ভুয়া ভিডিও ফেসবুকে

মোরসালীনকে নিয়ে ভুয়া ভিডিও
মাশরাফির ভাই মোরসালীন আটক দাবি করা ভিডিওটির স্ক্রিনশট  © স্ক্রিনশট

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও নড়াইল-২ আসনের (লোহাগড়া ও সদর) সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মুর্তজার ছোট ভাই মোরসালিন বিন মুর্তজা ইয়াবাসহ আটক দাবি করে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটির দাবির সত্যতা মেলেনি। আড়াই বছর আগে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইয়াবাসহ আটক এক ব্যক্তির ভিডিওকে ভুলভাবে মাশরাফির ভাই বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

মাশরাফির ভাই মোরসালিন বিন মুর্তজাও একজন পেশাদার ক্রিকেটার।

গত ৬ জুন ‘মন পাখি’ নামের একটি ফেসবুক পেজে ‘ব্রেকিং নিউজ, নড়াইলের মাসরাফির ছোট ভাই ইয়াবা নিয়েই আটক’ শিরোনামে একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়। এ ছাড়া কয়েকটি পেজে ও অ্যাকাউন্ট থেকে একইভাবে ভিডিওটি শেয়ার দেওয়া হয়।

মূলত ভিডিওটি ২০১৮ সালের ৯ নভেম্বরের। সেদিন দৈনিক ইত্তেফাকের অনলাইনের খবরে বলা হয়, এক হাজার ৫০টি ইয়াবাসহ চারজনকে আটক করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। ইয়াবাগুলো অভিনব কায়দায় খোরমার ভেতর ঢুকিয়ে পাচার করা হচ্ছিল। এ সময় চারজনকে আটক করা হয়।

আটক চারজনের নাম রুবেল, জালাল, নাহিদ এবং সাব্বির। রুবেল নড়াইল সদরের লঙ্কারচর গ্রামের সাহেদ আলীর ছেলে। জালাল ও নাহিদ শেখের বাড়ি কক্সবাজারে। সাব্বির আহমেদের বাড়ি খুলনায় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।

তবে ভিডিওতে জিজ্ঞাসাবাদে রুবেল পরিচয় দেওয়া যুবকের বাড়ি নড়াইলের লোহাগাড়া বলে উল্লেখ করেন। এ ছাড়া মাশরাফি ও মোরসালিনের বাবার নাম গোলাম মর্তুজা স্বপন। কিন্তু ইত্তেফাকের খবরে রুবেলের বাবার নাম বলা হয়েছে সাহেদ আলী।

ইউটিউবের ‘আলমগীর হোসাইন শিমুল’ নামক চ্যানেলে ‘ইয়াবার খুরমা খেজুর!!!’ শিরোনামে মূল ভিডিওটিও পাওয়া গেছে। যা ২০১৮ সালের ৯ নভেম্বর আপলোড করা হয়। সেখানকার বর্ণনায়ও ঘটনাটি শাহজালাল বিমানবন্দরের বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়াও টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসি নিউজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও ‘এবারে খেঁজুরেও ইয়াবা!’ শিরোনামে এ সংক্রান্ত নিউজের ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওর ক্যাপশনে আলমগীর হোসেন শিমুলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে কয়েকদিন ধরে বেশ কয়েকটি পেজ ও অ্যাকাউন্ট থেকেও ভিডিওটি শেয়ার করা হয়। সেগুলোতেও ভুলভাবে মাশরাফি বিন মুর্তজার ছোট ভাইয়ের কথা বলা হয়।


মন্তব্য