অর্থের বিনিময়ে বদলে যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের নম্বর
টাকা পেলে স্নাতক-স্নাতকোত্তর স্তরের প্রাপ্ত নম্বর ও গ্রেড বদলে যাচ্ছে। সাপ্লিমেন্টারির পরে পরীক্ষা দিয়ে পাস করলে গ্রেড কার্ডে সেটি বদলাতেও নেওয়া হচ্ছে টাকা। এই অভিযোগ উঠছে ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। ফলপ্রকাশের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলেছেন এক ছাত্রী।
নম্বর বদল করতে গিয়ে কী ধরনের হেনস্থার মুখে পড়েছেন, তা উপাচার্য সুরঞ্জন দাসকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের তৃতীয় বর্ষের ওই ছাত্রী। চিঠিতে তিনি টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন। চিঠির প্রতিলিপি দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর দফতরেও।
ছাত্রীর অভিযোগ, দ্বিতীয় বর্ষের প্রথম সিমেস্টারের একটি পত্রে পাস করতে না-পেরে ফের পরীক্ষা দেন, পাসও করেন। কিন্তু গ্রেড কার্ডে নম্বর তোলা হচ্ছিল না। পরীক্ষা নিয়ামকের দফতরে গিয়ে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সুদীপ সাহা পাঁচ হাজার টাকা চান। সুদীপ তাঁকে জানান, গ্রেড আরও বাড়াতে চাইলে ১০ হাজার টাকা দিতে হবে।
ওই ছাত্রীর দাবি, সুদীপ জানিয়েছিলেন, এখানে সবই সম্ভব। তার জন্য টাকা দিতে হয়। এ সংক্রান্ত নথি ও কল রেকর্ড আছে। সুবিচার না-পেলে আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলে চিঠিতে জানিয়েছেন ওই ছাত্রী।
এ বিষয়ে উপাচার্য বলেন, তদন্ত করে দেখা হবে। দোষ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র সুদীপের দাবি, এ অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যে। সব তদন্ত কমিটিকে জানাবেন।
আরো পড়ুন: ‘তিন সিটের সোফা’র গল্পটা আসলে কী?
আনন্দবাজার জানিয়েছে, যাদবপুর ইউনিভার্সিটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’র (জুমস) মাধ্যমে ফল প্রকাশ করা হয়।। এর দায়িত্বে রয়েছে ওয়েবেল। বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’জনকে দায়িত্ব দেওয়া আছে ফল প্রকাশের জন্য। সুদীপ তাঁদের অন্যতম।
উপ-উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানান, ২০১৯ সালে সুদীপকে বিশ্ববিদ্যালয় এই দায়িত্ব দিয়েছিল। সুদীপ ছিলেন কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনের স্নাতকোত্তরের ছাত্র। সুদীপকে ডেকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁর কাছেও বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
ওই ছাত্রী চিঠিতে লিখেছেন, ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টি ছাত্র সংসদের (ফেটসু) কেউ পাঠিয়েছেন কি না, সুদীপ জানতে চেয়েছিলেন। সুদীপও ছাত্রাবস্থায় ফেটসু-র সদস্য ছিলেন। এর চেয়ারপার্সন অরিত্র মজুমদারকে বিষয়টি নিয়ে ফোন এবং মেসেজ করেও বক্তব্য জানা যায়নি।