দক্ষিণ কোরিয়া

বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেতে ৮ ঘণ্টায় দিতে হয় ৫০০ নম্বরের পরীক্ষা

দক্ষিণ কোরিয়া
‘কলেজ স্কলাস্টিক এবিলিটি টেস্ট’  © ফাইল ফটো

দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা মানে রীতিমতো একটা যুদ্ধের ময়দান— যেখানে একজন শিক্ষার্থীকে টানা ৮ ঘণ্টা পরীক্ষা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করতে হয়। দেশটির শিক্ষার্থীদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ভর্তি পরীক্ষা মানে জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। 

দক্ষিণ কোরিয়ার শিক্ষার্থীদের জীবনে সবচেয়ে প্রতিযোগিতাপূর্ণ এ পরীক্ষায় কৃতকার্য হতে শুধু পরীক্ষার দিন নয়, বরং দীর্ঘ দিন ধরে প্রস্তুতি নিতে হয়, প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দিনে অন্তত ১৫-১৬ ঘণ্টা অধ্যয়ন করতে হয়। 

তবে এ পরীক্ষায় ‘সেকেন্ড টাইম রয়েছে’, অর্থাৎ একবার ব্যর্থ হলে শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরের বছর পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ রয়েছে।

ভর্তি পরীক্ষার দিন শিক্ষার্থীদের দ্রুত ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিতে ঢেলে সাজানো হয় ট্রাফিক ব্যবস্থা। যানজট এড়াতে ব্যাংক-বীমা, বাজার এবং অফিস-আদালত এক ঘণ্টা দেরিতে খোলা হয়।

এছাড়া কোনো শিক্ষার্থীর পরীক্ষার হলে আসতে দেরি হয়ে গেলে তাদের চিন্তিত হতে হয় না। তাদের সেবায় নিয়োজিত থাকেন পুলিশ অফিসাররা। যথাসম্ভব দ্রুত পুলিশের গাড়িতে করে করে কিংবা বাইকে করে ভর্তি পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার হলে পৌঁছে দেয়া হয়।

প্রতি বছর নভেম্বর মাসের তৃতীয় বৃহস্পতিবারে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার নাম দেয়া হয়েছে ‘কলেজ স্কলাস্টিক এবিলিটি টেস্ট’।

ভর্তি পরীক্ষায় কোরিয়ার ইতিহাস, ইংরেজি এবং গণিত থেকে প্রশ্ন আসে। অধিকাংশ বিষয়ের পরীক্ষা এমসিকিউ আকারে নেয়া হলেও শুধু গণিতের পরীক্ষা নেয়া হয় লিখিত আকারে। তবে প্রত্যেক বিষয়ের পরীক্ষার মাঝে বিরতির ব্যবস্থাও রয়েছে। 

২০২১ সালের ১৮ নভেম্বরে অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষায় প্রায় ৫ লাখ ৯ হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। তবে যাদের শরীরে করোনা উপসর্গ রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় তারাও পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ পেয়েছেন। 

তবে করোনার প্রকোপ থাকায় ২০২০ সালের নভেম্বরের পরিবর্তে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের বৃহস্পতিবারে সে পরীক্ষা নেয়া হয়।

‘কলেজ স্কলাস্টিক এবিলিটি টেস্ট’ এর সময়সূচি

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়া প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাও কম নয়। তবে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনার ভালো পরিবেশ পাওয়া যায় না বলে জানান এ ভর্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা। 

একটা দীর্ঘ সময় ধরে নেয়া এ ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পরীক্ষার দিন কেন্দ্রগুলোর আশেপাশে সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়। এমনকি লিসেনিং টেস্ট নেয়ার ৩০ মিনিট সময় ধরে বিমান উঠা-নামাও বন্ধ রাখা হয়। সেদিন শিক্ষার্থীদের জন্য যেন থমকে যায় পুরো দক্ষিণ কোরিয়া! 

সূত্র: বিবিসি, এবিসি নিউজ 


x