রাশিয়া নয়, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণই আমার এজেন্ডা: বাইডেন

পুতিন
বুধবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বৈঠকে বাইডেন ও পুতিন  © সংগৃহীত

রাশিয়া নয়, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণই আমার এজেন্ডা বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তবে তিনি বলেছেন, আমেরিকা সব সময়ই মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কথা বলে যাবে। বুধবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। বুধবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভার ১৮ শতকের গ্র্যান্ড ভিলায় বৈঠক শুরু করেন দুই নেতা। অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি, সাইবার হ্যাকিং এবং নির্বাচনে হস্তক্ষেপসহ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে তাদের। প্রায় দুই ঘণ্টা বৈঠকের পর পৃথক সংবাদ সম্মেলন করেন দুই নেতা।

জো বাইডেন জানান, পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে তিনি রাশিয়ার কারাবন্দি বিরোধীদলীয় নেতা অ্যালেক্সাই নাভালনির বিষয়টি তুলে ধরেছেন। কথা বলেছেন রাশিয়ায় আটক দুই মার্কিন নাগরিকের বিষয়েও। কিছু মৌলিক বিষয় থাকা দরকার যা সবাই মেনে চলতে পারে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হয়ে আমি কিভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কথা না বলে থাকতে পারি? মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন বা দেশটির নির্বাচনকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা সহ্য করা হবে না। ওয়াশিংটন এর প্রতিক্রিয়া জানাবে। এ বিষয়টি পুতিনকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও এসময় উল্লেখ করেন তিনি।

বাইডেন আরো জানান, তিনি বৈঠকে ইউক্রেন ইস্যুরও অবতারণা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে।

পুতিন জো বাইডেনকে একজন অভিজ্ঞ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে আখ্যায়িত করে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়ার সামরিকায়ন নিয়ে ওয়াশিংটন উদ্বেগ জানালেও তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ওই অঞ্চলে রাশিয়া সোভিয়েত আমলের অবকাঠামোগুলো পুনর্বহাল করছে। কিন্তু এক্ষেত্রে মস্কো আন্তর্জাতিক আইন পুরোপুরি অনুসরণ করতে চায়। আর্কটিক এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সহযোগী হওয়া উচিত।

প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে অন্য নেতাদের চেয়ে আলাদা বলে উল্লেখ করার পর বন্দুক সহিংসতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেন ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেন, দেশে যা কিছুই ঘটুক না কেন, একভাবে না একভাবে তার দায় নেতাদের, আমেরিকার রাস্তার দিকে তাকান, প্রতিদিনই সেখানে হত্যাকাণ্ড হচ্ছে। মুখ খোলারও সুযোগ পাওয়ার আগে গুলি করে খুন করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার চর্চা নিয়েও সমালোচনা করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি অভিযোগ করেন, বিশ্বজুড়ে সিআইএ-র গোপন কারাগার রয়েছে আর সেখানে মানুষকে নির্যাতন করা হচ্ছে। এভাবে মানবাধিকারের লঙ্ঘন নিয়ে রাশিয়া সবসময় কথা বলে যাবে।


মন্তব্য