২৫ নভেম্বর ২০১৯, ১১:১৩

লন্ডারিং নিয়ে বই লেখা অধ্যাপকের বিরুদ্ধেই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ!

  © বিবিসি

মাদক পাচার ও সংগঠিত অপরাধ সম্পর্কিত একটি বই লিখেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। অথচ তার বিরুদ্ধেই আড়াই মিলিয়ন ডলার লন্ডারিংয়ের অভিযোগে ভেনেজুয়েলা থেকে গ্রেফতার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ।

আইনজীবীরা দাবি করেছেন, ব্রুস ব্যাগলে এই টাকা সুইজারল্যান্ড এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে পেয়েছিলেন। নিজের জন্য প্রায় আড়াই লাখ ডলার রেখেছিলেন তিনি।

মাত্র চার বছর আগে তিনি আমেরিকাতে মাদক পাচার, সংগঠিত অপরাধ এবং সহিংসতা শীর্ষক একটি বইয়ের সহ-লেখক ছিলেন। যেখানে বলা হয়, ‘অর্থ পাচার একটি সমৃদ্ধিশালী কাজ।’

সিবিএস নিউজের সাথে কথা বলতে গিয়ে মিয়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক স্টাডিজের অধ্যাপক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি একদম ভাল বোধ করছি। দোষী নই। আমি এটাই মনে করি, তারা সব ভুল বুঝেছে।’

নিউ ইয়র্কের কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, ব্যাগলে ফ্লোরিডার একটি ব্যাংকে একটি সংস্থার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলছেন যারা তাকে এবং তার স্ত্রীকে কর্মকর্তা এবং পরিচালক হিসাবে তালিকাভুক্ত করেছিল।

২০১৭ সালের নভেম্বরে অ্যাকাউন্টটি সংযুক্ত আরব আমিরাত-ভিত্তিক একটি খাদ্য সংস্থার কাছ থেকে তহবিল গ্রহণ করতে শুরু করে। সংস্থাটি একজন কলম্বিয়ান নাগরিক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল। ওই কলম্বিয়ান ব্যক্তি বিদেশি অ্যাকাউন্টগুলো পরিচালনা করতেন।

কীভাবে ভেনিজুয়েলা থেকে এই তহবিল আত্মসাৎ করা হয়েছিল সেটাও প্রকাশ করা হয়নি। ব্যাগলের বইয়ে মানি লন্ডারিং ট্র্যাকিং করা বা খুঁজে বের করাকে একটি অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে।

আইনজীবীরা দাবি করেন, অ্যাকাউন্টে আসা নগদ অর্থ ছিল ভেনিজুয়েলার একটি ঘুষ এবং দুর্নীতি প্রকল্পের আয়। তেলসমৃদ্ধ ভেনিজুয়েলায় উচ্চ পর্যায়ের দুর্নীতি থেকে যে আয় হয়েছে সেই অর্থ পাচারের জন্য আমেরিকার অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে।

মামলাটি মার্কিন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের একটি অংশ। ভেনিজুয়েলায় উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষ দেশত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে। ব্যাগলের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ে ষড়যন্ত্রের এবং সরাসরি মানি লন্ডারিংয়ে জড়িত থাকার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ২০ বছর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

মিয়ামির কেন্দ্রীয় আদালতে হাজির হওয়ার পরে তাকে তিন লাভ ডলারের বিনিময়ে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এই অধ্যাপক তার একাডেমিক ক্যারিয়ারের পাশাপাশি একজন বিশেষজ্ঞ সাক্ষী হিসাবে আদালতে মামলার প্রমাণও সরবরাহ করেছেন। এমনকি মার্কিন কংগ্রেসে সিনেট কমিটির সামনে সাক্ষ্যও দিয়েছেন তিনি।

ব্যাগলের বিরুদ্ধে বর্তমানের এই মামলা সম্পর্কে এফবিআইয়ের সহকারী পরিচালক উইলিয়াম এফ সুইনে জুনিয়র বলেছেন, ‘অপরাধীরা তাদের অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ বাড়িয়ে তোলার জন্য অনেকগুলো পদ্ধতি ব্যবহার করে, তবে সফল হওয়ার জন্য তাদের এই অর্থ লুকানো এবং সরানোর একটি উপায় প্রয়োজন হয়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যেমন দাবি করি যে, ব্যাগলে একজন আমেরিকান অধ্যাপক, যিনি অবৈধভাবে প্রাপ্ত তহবিলের অর্থ সহজে হাতিয়ে নেয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। সেই অপরাধে নিজের ভূমিকার জন্য মুনাফাও সংগ্রহ করেছেন। এভাবে ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে এই ব্যক্তি, সফলভাবে বিদেশে অবৈধ কার্যকলাপ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন।’

একাডেমির অ্যাটর্নি, ড্যানিয়েল ফোরম্যান মিয়ামি হেরাল্ড পত্রিকাকে বলেছেন যে তিনি নিরপেক্ষভাবে এই মামলাটি পরিচালনা করার পরিকল্পনা করেছেন। মিয়ামি বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে,ব্যাগলে প্রশাসনিক ছুটিতে আছেন এবং তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তার ‘ব্যক্তিগত বিষয়’ বলে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। খবর: বিবিসি বাংলা।