যুক্তরাষ্ট্রের অনেক প্রতিষ্ঠানে প্রচলিত ‘৯৯৬’ সংস্কৃতি কী?
সপ্তাহে ৬ দিন, দৈনিক ১২ ঘণ্টা- এমন সংস্কৃতি ক্রমেই যুক্তরাষ্ট্রের অনেক প্রতিষ্ঠানে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ৯৯৬ মূলত সপ্তাহে ৬ দিন সকাল ৯ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত কাজ করার রীতিকে বোঝায়। অর্থাৎ দৈনিক ১২ ঘণ্টা, সপ্তাহে মোট ৭২ ঘণ্টা। ২০১০ সালে এ ধারণাটি প্রথম উদ্ভূত হয় চীনের প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান থেকে।
পরবর্তীতে ‘অ্যান্টি-৯৯৬’ আন্দোলন শুরু হলে, চীনের প্রযুক্তি খাতে এ রীতির বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো একে 'আধুনিক দাসত্ব' হিসেবে আখ্যা দেয়। এমনকি কর্মরীতি অনুসরণের ফলে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ ওঠে। ২০২১ সালে চীনের সর্বোচ্চ আদালত এটিকে অবৈধ ঘোষণা করে। যদিও অনেক প্রতিষ্ঠানই এই নিষেধাজ্ঞা মানে না। তবে এ প্রবণতা যুক্তরাষ্ট্রেও ছড়িয়ে পড়েছে, বিশেষ করে সিলিকন ভ্যালিতে।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান আইনের অন্তর্ভূক্ত ওয়াতল্ড ওয়েস্টে এই রীতি অবৈধ নয়। তাদের বৈধ আইনে প্রাপ্তবয়স্কদের কর্মঘণ্টার কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। যদি কেউ স্বেচ্ছায় বেশি ঘণ্টা কাজ করতে চায়, সেটি সে করতে পারবে। ব্রিটিশ আইনানুসারে, সাপ্তাহিক সর্বোচ্চ কর্মঘণ্টা ৪৮ ঘণ্টা। তবে এখানে একটি বড় ফাঁক রয়েছে। কর্মীরা চাইলেই নিয়োগকর্তার সাথে চুক্তি সাপেক্ষে অধিক ঘণ্টা কাজ করতে পারবে। সেক্ষেত্র তাদের জন্য বেতন ও শেয়ার বৃদ্ধি করা হবে।
আরও পড়ুন : ৭ ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দিল হামাস
তবে কিছু কিছু কোম্পানি এ বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে। যেমন লং আইল্যান্ডভিত্তিক এআই স্টার্ট-আপ ‘রিলা’ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ৯৯৬ সংস্কৃতিতে কাজ করতেই হবে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতেই বলা রয়েছে, যারা ৯৯৬ সংস্কৃতিতে আগ্রহী নন, তাদের আবেদন করার প্রয়োজন নেই।
আবার ‘ফেলা অ্যান্ড ডেলিলাহ’ নামের কোম্পানিটি কর্মীদের স্বেচ্ছার ভিত্তিতে, ৯৯৬-এ অংশগ্রহণের জন্য বেতন ও শেয়ার বাড়িয়ে দিয়েছে। এ কর্মসংস্কৃতি নিয়ে আছে নান মতবিরোধ। অতিতিক্ত কাজের চাপ মানসিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলে।
সূত্র: ইন্ডিপেনডেন্ট