ইসরায়েলকে অপরাধের জন্য দায়ী করলে আলোচনায় আগ্রহী ইরান
ইসরায়েলের চলমান হামলার প্রেক্ষিতে কূটনৈতিক সমাধানে ফিরতে ইচ্ছুক ইরান, তবে তার আগে চাই ইসরায়েলের জবাবদিহিতা—জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ কথা বলেন।
আরাঘচি বলেন, “ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বরাবরই শান্তিপূর্ণ এবং এটি আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর তত্ত্বাবধান ও নজরদারির আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু এমন একটি রাষ্ট্র—যেটি কোনো গণবিধ্বংসী অস্ত্র চুক্তির সদস্য নয়—তাদের দ্বারা তত্ত্বাবধানাধীন পারমাণবিক স্থাপনায় সশস্ত্র হামলা চালানো আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।”
তিনি জানান, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স (E3) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে এই হামলার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কোনো নিন্দা না আসায় তিনি ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছেন।
আরাঘচি স্পষ্ট করে বলেন, “ইরান আবার কূটনৈতিক আলোচনার কথা ভাবতে পারে, যদি এই আগ্রাসন বন্ধ হয় এবং আগ্রাসনকারীকে আন্তর্জাতিক অপরাধের জন্য দায়ী করা হয়।”
তবে আলোচনার শর্তস্বরূপ তিনি ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে কোনো আপসের সুযোগ নেই বলেও উল্লেখ করেন। “আমরা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছি—ইরানের প্রতিরক্ষা ক্ষমতা নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না,” বলেন তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ইরান ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউরোপের তিন দেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে চায় এবং ভবিষ্যতে ফের বৈঠকে বসতে প্রস্তুত।
এই মন্তব্য ইঙ্গিত দেয়, উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি শান্ত করতে কূটনৈতিক পথ এখনো একেবারে বন্ধ হয়নি—তবে তার জন্য শর্তসাপেক্ষে দায় স্বীকার এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই ইরানের মূল দাবি।