৩১ জানুয়ারি ২০২৫, ১৫:০৭

বাংলাদেশিদের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে ক্রোয়েশিয়ার শ্রমবাজার

  © সংগৃহীত

ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতো মধ্য-পূর্ব ইউরোপের দেশ ক্রোয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি শ্রমিকদের সুযোগ বাড়ছে। কয়েক বছর ধরে নির্মাণ, পর্যটন, হোটেলসহ নানা খাতে চাকরি নিয়ে বাংলাদেশ থেকে অনেক শ্রমিক দেশটিতে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। তবে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ভিসা প্রদানের বিষয়ে বেশ কঠোর হচ্ছে ক্রোয়েশিয়া সরকার।

বাংলাদেশে ক্রোয়েশিয়ার কোনো দূতাবাস নেই। কিন্তু দেশটির ব্যবসা খাতে বাংলাদেশের শ্রমিকদের অংশগ্রহণ বাড়ছে দিন দিন। ক্রোয়েশিয়ার ভিসা পেতে আগ্রহী কর্মীদের ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে যেতে হতো। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর থেকে ভিসা আবেদনে জমা নেওয়ার ঘোষণা দেয় ভিএফএস।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ভিএফএস বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংশ্লিষ্ট দেশের আইনি অনুমোদন স্বাপেক্ষে ভিসার আবেদনপ্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করে থাকে।

সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের প্রতিনিধি হিসেবে তার আবেদনকারীদের বায়োমেট্রিক ডেটা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভিসার আবেদন সংগ্রহ করে থাকে। কিন্তু কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে, ক্রোয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশিদের ভিসা প্রদানপ্রক্রিয়া কঠোর করতে যাচ্ছে।

ক্রোয়েশিয়া যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের বেশ কয়েকটি ফেসবুক গ্রুপে বাংলাদেশের নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের একটি চিঠি ছড়িয়ে পড়ে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে লেখা ওই চিঠিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ সরকারকে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলা হয়। এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশিত হয়।

সর্বশেষ ক্রোয়েশিয়ার বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমেও এই বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করে বলা হয়, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কিছু দেশের কর্মীদের ভিসা প্রদানের বিষয়ে কঠোর হচ্ছে ক্রোয়েশিয়া সরকার।

চিঠিটির সত্যতা জানতে নেদারল্যান্ডসে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে বারবার ফোন করেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। তবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, এ বিষয়ে তারা অবগত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, ক্রোয়েশিয়ায় বাংলাদেশের কোনো দূতাবাস নেই। নেদারল্যান্ডসে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস ক্রোয়েশিয়ায় বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে থাকে।

ক্রোয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম ভেচেরাইনলিস্ট জানায়, দেশটিতে বর্তমানে বৈধভাবে সাত থেকে আট হাজার বাংলাদেশি অবস্থান করছেন। বাংলাদশিসহ দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশের শ্রমিকদের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যমটি।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশিদের বিষয়ে বলা হয়, ২০২৩ সালে ১২ হাজার ৩০০ বাংলাদেশি কর্মীকে ভিসা প্রদান করে ক্রোয়েশিয়া সরকার। এর মধ্যে আট হাজার কর্মী ক্রোয়েশিয়ায় প্রবেশ করেননি। পত্রিকাটির ধারণা, এই কর্মীরা ইউরোপের শেনজেনভুক্ত অন্য কোনো দেশে চলে গিয়েছেন।

আর বাকি চার হাজার ৪০০ কর্মীর অর্ধেক ক্রোয়েশিয়া থেকে পালিয়ে গিয়েছেন। শুধু বাংলাদেশিই নয়, পত্রিকাটি বলছে, ভারত নেপাল, ফিলিপাইন ও মিসরের কর্মীদের অনেকেই এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন। তবে এই প্রবণতা বাংলাদেশিদের মধ্যে বেশি।

ক্রোয়েশিয়ার আরেক সংবাদমাধ্যম ক্রোয়েশিয়া উইক জানায়, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিদেশি কর্মীদের ভিসা প্রদানের শর্ত কঠিন করতে যাচ্ছে ক্রোয়েশিয়া সরকার। আর বাংলাদেশি কর্মীদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি হওয়ার কারণে ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের বেলায়ও শর্ত কঠিন হতে যাচ্ছে।

এরই মধ্যে নেরাদল্যান্ডসের বাংলাদেশ দূতাবাসকে ক্রোয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি অবহিত করেছে বলে দাবি পত্রিকাটির।

পরিস্থিতি সামলাতে ক্রোয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশিদের ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। ভিসার আবেদনকারীরা ক্রোয়েশিয়া থেকে পালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করছে কি না এবং কোনো ঝুঁকি তৈরি করেবে কি না, ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে এ বিষয়গুলো আরও যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে বলে জানায় সংবাদমাধ্যমটি।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণায়ের মুখপাত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাদ্যমটি জানায়, বাংলাদেশ সরকার সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ নেবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি নিয়ে তারা দূতাবাসের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।