ট্যাটু আঁকার রঙে আর্সেনিক-পারদ-সীসা, ধারণা নেই অনেকের
নিজেকে সাজাতে আমরা সবার থেকে ভিন্ন এবং সুন্দর হতে চাই। মানুষের শরীর সাজানোর একটি অংশ হলো ট্যাটু বা উল্কি। পশ্চিমাবিশ্বে সাধারণ ফ্যাশন ট্যাটু আঁকা। ইদানীং আমাদের দেশেও কিছু মানুষের কাছে এটি ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। যুগ যুগ ধরে শরীরকে ক্যানভাস বানিয়ে আঁকা হচ্ছে নানা নকশা।
বিভিন্ন চিত্রশিল্পী, গায়ক, খেলোয়াড়, অভিনেতা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে নানা রঙের ও ধরনের উল্কি-ট্যাটু দেখা যায়। ট্যাটু নাক কান ফুটানোর মতোই ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন। আমরা যেমন নাক কান ফুটিয়ে তাতে অলংকার পরি; হাতে, আঙুলে, গলায়, কানে, এমনকি ভ্রুতে যেমন গয়না পরার চল রয়েছে, ট্যাটুও তেমন অলংকার হচ্ছে দিন দিন।
জার্মানিতে পরিচালিত একটি জরিপে দেখা গেছে, ৩৫ বছরের নিচে যাদের বয়স তাদের পাঁচজনের মধ্যে একজনের গায়ে ট্যাটু আঁকা রয়েছে। আর এখন এসে দেখা যাচ্ছে, এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরবি ভাষায় বিভিন্ন প্রকারের উল্কি-ট্যাটু আঁকার প্রবণতা। কিছু লোক আবার কালিমাসহ কোরআন-হাদিসের বিভিন্ন বাণী ব্যবহার করে ট্যাটু করছেন।
উল্কি হলো ‘শরীরের চামড়ায় সুঁই বা এ জাতীয় কোনো কিছু দিয়ে ক্ষত করে তাতে বাহারি রং দিয়ে নকশা করা। এ ধরনের ট্যাটু বা উল্কি সাধারণত স্থায়ী হয়ে থাকে এবং সহজে ওঠানো যায় না।’ স্বাভাবিকভাবে এই উল্কি-ট্যাটু আঁকা হয় বিদ্যুৎচালিত একটি যন্ত্রের সাহায্যে। যেটা দেখতে অনেকটা ডেনটিস্টের ড্রিল মেশিনের মতো।
মেশিনের মাথায় রয়েছে অত্যন্ত সূক্ষ্ম সুঁই। সুঁইয়ের মাথায় রং লাগানো থাকে। প্রতিবার সুঁইকে যখন চামড়ার ভেতরে প্রবেশ করানো হয়, সেই সঙ্গে রংও ভেতরে প্রবেশ করে। রঙের পরিমাণ এক মিলিলিটারেরও কম হয়। চামড়ার যে স্তরে রংটি লাগানো হয়, তার নাম ডের্মিস।
তবে ট্যাটু করালেই তো হবে না। তার সঙ্গে যে শরীরে নানা ধরনের রোগও এসে জুড়ে বসতে পারে, তা জানা আছে? চিকিৎসকদের মতে, বেশির ভাগ মানুষেরই ধারণা নেই ট্যাটু আঁকার রঙে আর্সেনিক, বেরিলিয়াম, ক্যাডমিয়াম, পারদ, সীসার মতো অনেক যৌগ থাকে। যা হার্ট, লিভার, ফুসফুস, কিডনির ক্ষতি করে। তাই স্থায়ী ভাবে শরীরে ট্যাটু করার আগে জেনে রাখতে হবে সেখান থেকে কী ধরনের শারীরিক সমস্যা হতে পারে।
অ্যালার্জির সমস্যা
ট্যাটু থেকে অনেকেরই ত্বকে অ্যালার্জি হতে পারে। ট্যাটুর রঙে থাকা বিভিন্ন ধাতু থেকে র্যাশ হতে পারে। ট্যাটু করা জায়গা ফুলে লাল হয়ে সেখান থেকে চুলকানিও হতে পারে।
সংক্রমণ
ট্যাটু করার সময়ে যথাযথ পরিচ্ছন্নতা, নিয়ম মেনে না চললে নানা রকম সংক্রমণ হতে পারে। শুধু তা-ই নয়, ট্যাটু করার সুচ থেকেও শরীরে নানা ধরনের ব্যাক্টেরিয়া প্রবেশ করতে পারে।
রক্তবাহিত রোগ
যে হেতু সুচের সাহায্যে দেহে বিভিন্ন নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়, তাই এর সঙ্গে রক্তবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ারও যোগ রয়েছে। ট্যাটু করার সময়ে যন্ত্রপাতি যদি ভাল করে পরিষ্কার করা না হয়, সে ক্ষেত্রে হেপাটাইটিস বি, সি এবং এইচআইভি-র মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।
তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা