০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৭:১৬

যে কারণে দলে দলে পাকিস্তান ছাড়ছেন শিক্ষিত তরুণেরা

চাকরির সুযোগ কমে যাওয়ায় দলে দলে দেশ ছাড়ছেন পাকিস্তানের শিক্ষিত তরুণেরা। শুধু ২০২২ সালেই আট লাখের বেশি তরুণ চাকরির সন্ধানে পাকিস্তান ছেড়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির অভিবাসন ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক ব্যুরো।

সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, এ সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। করোনা মহামারির আগে ২০১৯ সালে এ সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ২৫ হাজার ৮৭৬। তার আগের বছর পাকিস্তান ছাড়েন আরও কম—৩ লাখ ৮২ হাজার ৪৩৯ জন।

পাকিস্তানে চলছে চরম অর্থনৈতিক সংকট। দেশটিতে কর্মসংস্থান কমেছে, বেকারত্ব ক্রমেই বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে বিদেশে পাড়ি জমানোই উত্তম মনে করছেন তরুণেরা। দেশ ছেড়ে তারা ইউরোপ ও আমেরিকার দেশগুলোতে হন্যে হয়ে কর্ম খুঁজছেন। 

পাকিস্তান ছেড়ে উন্নত জীবন ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের প্রত্যাশায় কানাডার টরোন্টোতে এসেছেন তাহির।  তিনি বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছিলাম, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বিদেশে পাড়ি জমানোর জন্য আমার একটি কার্যকর পরিকল্পনা ও একটি শক্তিশালী পাসপোর্ট দরকার হবে। তাই আগেই চলে এসেছি। আমি এদেশেই স্থায়ী হওয়ার উপায় খুঁজছি।

পাকিস্তানে আগে থেকেই অর্থনৈতিক সংকট চলছিল। করোনা মহামারি আর গত বছরের প্রলয়ংকরী বন্যা এ পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। অনেক জায়গায় দেখা দিয়েছে খাবারের সংকট। বেড়েছে মূল্যস্ফীতি। সেই সঙ্গে মুদ্রাবাজারে ডলারের বিপরীতে পাকিস্তানের রুপির ক্রমাগত দরপতন অব্যাহত রয়েছে।

খাবার ও জ্বালানির বাড়তি দামের লাগাম টানা এবং চলমান অর্থনৈতিক সংকট থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে পাকিস্তান সরকার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ঋণ নিয়ে সংকট সামলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে তরুণদের দেশ ছেড়ে যাওয়ার প্রবণতা পাকিস্তানকে দীর্ঘ মেয়াদে ভোগাতে পারে।

এ বিষয়ে পাকিস্তানের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগবিষয়ক মন্ত্রী আহসান ইকবাল বলেন, ‘শিক্ষিত তরুণদের এভাবে দেশ ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগের। এ সংখ্যা কমিয়ে আনার দায়িত্ব আমাদের। সেই সঙ্গে তরুণদের দেশেই যথাযথ কাজের পরিবেশ দেওয়ার দায়িত্ব রয়েছে। এ জন্য সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। তাই আশা করা হচ্ছে, এতে মেধাবী তরুণদের দেশ ছাড়ার প্রবণতা কমবে।’

পাকিস্তান থেকে মেধাবী তরুণদের বিদেশে চলে যাওয়া ঠেকাতে আরও উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা চালু ও তরুণদের কাজের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে বলে মত দিয়েছেন দেশটির সাবেক অর্থমন্ত্রী মিফতাহ ইসমাইল। তিনি বলেন, দেশে যদি তরুণদের যথাযথ পরিবেশ দেওয়া যায়, তাহলে তাঁরা বিদেশে যাবেন না।