ওজিলের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচে মাঠ মাতাল রোহিঙ্গা খেলোয়াড়রা
কক্সবাজারের উখিয়ার মধুরছড়া রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে অনুষ্ঠিত হলো এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। আশ্রয়শিবিরের ভেতরের বড় মাঠ ঘিরে ম্যাচ উপভোগ করতে জড়ো হন কয়েক হাজার দর্শক। যেখানে শুরু থেকেই বাড়তি উত্তেজনা ছিল, তবে সেই উত্তেজনা চূড়ায় পৌঁছায় যখন আকাশি নীল জার্সি পরে মাঠে নামেন জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী সাবেক তারকা ফুটবলার মেসুত ওজিল।
ওজিল মাঠে নামতেই ‘ওজিল, ওজিল’ ধ্বনিতে পুরো মাঠ প্রকম্পিত করে তোলেন দর্শকেরা। প্রিয় তারকাকে কাছে পেয়ে অনেক রোহিঙ্গা তরুণ খেলোয়াড়ও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। খেলা চলাকালেই তাকে জড়িয়ে ধরেন কেউ কেউ, কেউ-বা আবার মোবাইল ফোনে সেলফি তোলার সুযোগও নেন। মুহূর্তেই ম্যাচটি কেবল একটি প্রীতি খেলা না থেকে স্মরণীয় এক অভিজ্ঞতার মঞ্চ হয়ে ওঠে।
এ সময়ে মাঠে ফুটবলের ধরণও বদলে যায়। রোহিঙ্গাদের খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক তারকার সঙ্গে পাল্লা দিতে মরিয়া, আর ওজিল নিজেও তার অভিজ্ঞতা ও নিখুঁত শট দেখিয়ে সবাইকে মুগ্ধ করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই গোলপোস্টের দিকে বল এগিয়ে নিয়ে যান ওজিল। কয়েকজন রোহিঙ্গা খেলোয়াড় তাকে আটকানোর চেষ্টা করলেও তার লক্ষ্যভেদী শট জালে গিয়ে পুরো মাঠে উল্লাস ছড়িয়ে দেয়। দর্শকেরাও দাঁড়িয়ে করতালি ও উচ্ছ্বাসে গোল উদ্যাপন করেন।
খেলা শেষে বিজয়ী দলের অধিনায়কের হাতে বিশ্বকাপের আদলে তৈরি ট্রফি তুলে দেন ওজিল। তার উপস্থিতিতে মধুরছড়া আশ্রয়শিবিরের ছোট মাঠটি হয়ে ওঠে আনন্দ, আবেগ ও প্রেরণার এক মিলনমেলা।
উল্লেখ্য, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ছেলে বিলাল এরদোগান, জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী সাবেক ফুটবলার মেসুত ওজিল এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘টিকা’র চেয়ারম্যান আরন আবদুল্লাহসহ ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন তারা।
সফরে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনকালে সংক্ষিপ্ত প্রীতি ফুটবল ম্যাচের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যোগদান করেন তারা। পরে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে রোজার প্রথম ইফতার করেন ওজিল। এ বিষয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন ওজিল।
কয়েকটি ছবি শেয়ার করে ওজিল লেখেন, ‘রমজানের প্রথম দিন বাংলাদেশের কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিলাল এরদোগানের সাথে। আমরা একটি ফিল্ড হাসপাতাল, স্কুল এবং বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কিছু অবিশ্বাস্য কাজ করতে দেখেছি। টিকা এবং ডায়ানেট ভাকফিকে সব ধন্যবাদ। তবে, আমরা আমাদের রোহিঙ্গা ভাই-বোনদের জন্য আরো কিছু করতে পারি। আসুন একসাথে আমরা একটি ভিন্ন কিছু করি।’
গেল বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাংলাদেশ সফরের দ্বিতীয় দিনে বিশেষ বিমানে চড়ে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছেন তারা। এরপর কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ে কমিশনার মহাম্মদ মিজানুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সেখানে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সংক্ষিপ্ত ব্রিফিং করেন বিলাল এরদোগান। সেখান থেকে সড়কপথে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবির দেখতে যান তারা। এ ছাড়া ক্যাম্প ৯-এ তুরস্কের ফিল্ড হাসপাতাল, ক্যাম্প ১৬-তে তুরস্কের সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থার শিক্ষা-সংস্কৃতি কেন্দ্র ঘুরে দেখেন তারা।