০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮:৪৩

৩৮ হাজার কোটি টাকায় ত্রিশালে হচ্ছে অলিম্পিক কমপ্লেক্স

ত্রিশালে অলিম্পিক কমপ্লেক্স নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে  © সংগৃহীত

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ঠিক পাশেই বিস্তীর্ণ এক এলাকা, প্রকৃতির অপূর্ব সুন্দর দৃশ্যে ভরপুর। এখানে কোথাও কোথাও ছড়িয়ে জলাভূমি, আবার কোথাও তাল গাছসহ দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির গাছের ছায়া। জলাভূমির পাশ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে খিরু নদী ও নাগেশ্বরী নদীর সংযোগস্থল, যা এলাকায় প্রাণের সঞ্চার ঘটাচ্ছে। জলাভূমির একটু দূরেই আছে বিশাল বিশাল কয়েকটি পুকুর, যা পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। এই নদী, পুকুর ও জলাভূমি মিলিয়ে প্রকৃতির এক চমৎকার সমাহার সৃষ্টি করেছে।

পুরো এলাকাই এমন এক নির্মল প্রাকৃতিক পরিবেশের অধিকারী, যা ময়মনসিংহের ত্রিশালে সেনাবাহিনীর ট্রেনিং এরিয়ার অংশ। এই জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ স্থানটিই বাংলাদেশ অলিম্পিক কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য নির্বাচিত হয়েছে।

অবশ্য, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে এই কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা বেশ কয়েক বছর ধরেই আলোচনায় ছিল। তবে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় জায়গা সংকটের কারণে উদ্যোগটি বারবার থমকে যায়। অবশেষে বর্তমান সভাপতি ও সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের আন্তরিক উদ্যোগ ও সক্রিয় ভূমিকায় ত্রিশালে ১৭৩ দশমিক ২ একর জমিতে অলিম্পিক কমপ্লেক্স নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমপ্লেক্সে যাতায়াত সহজ করতে সেনাবাহিনী নিজ অর্থায়নে অতিরিক্ত ৯ একর জমিও ক্রয় করেছে। প্রস্তাবিত এই কমপ্লেক্সটির অবস্থান রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ৮৬ কিলোমিটার এবং ময়মনসিংহ শহর থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে মাস্টারপ্ল্যান উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক কর্নেল মো. কুতুবউদ্দিন খান। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কমপ্লেক্সটিতে তিনটি আধুনিক ইনডোর স্টেডিয়ামসহ ফুটবল, হকি, টেনিস, অ্যাথলেটিক্স, শুটিং রেঞ্জ, আবাসন ব্যবস্থা, মিডিয়া সেন্টার এবং পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা থাকবে। এ ছাড়া ইনডোর ও আউটডোর মিলিয়ে এখানে মোট ৩৩টি খেলাধুলা আয়োজনের সুযোগ থাকবে। তবে কেবল ক্রিকেট, গলফ ও রোইংয়ের মতো হাতে গোনা কয়েকটি খেলা প্রাথমিকভাবে এই পরিকল্পনার বাইরে রাখা হয়েছে।

অলিম্পিক কমপ্লেক্সের নির্মাণ কাজের তত্ত্বাবধান করছেন সেনাবাহিনী ২৪ বিগ্রেড, প্রকল্পের নিরাপত্তা ও কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করছে তারা। নির্মাণে কাজ করছে দেশীয় প্রকৌশলী প্রতিষ্ঠান “ভিত্তি”, পাশাপাশি যুক্ত আছে আমেরিকান সংস্থা ডিএলএ, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় বড় স্টেডিয়াম ও ক্রীড়া স্থাপনা নির্মাণের বিস্তৃত অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের।

এই কমপ্লেক্সের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হলেও প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ নির্মাণ কাজ শুরু করতে এখনো প্রয়োজনীয় অর্থায়নের অপেক্ষায় সংশ্লিষ্টরা। এ নিয়ে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, 'যত তাড়াতাড়ি অর্থ তত তাড়াতাড়ি কমপ্লেক্স। সব কিছু প্রস্তুত, শুধু বাধা অর্থ। অর্থ সংস্থানে আমাদের সচিব (ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আমরা গালফ কান্ট্রিস এবং আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সহায়তাও নেব ৷ সকলের সহায়তায় আমরা কমপ্লেক্স করব।'

পূর্ণ সহায়তার আশ্বাস দিয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব উল আলম বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য স্বপ্নের স্থাপনা হবে। আর্থিক বিভাগের সঙ্গে কথা হয়েছে। আইনগত বাধা নেই যেহেতু ক্রীড়াঙ্গনের অবকাঠামো। যত ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন করা হবে।’ 

এই কমপ্লেক্সের সম্ভাব্য ব্যয় ও সময়সীমা নিয়ে স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে প্রকল্প-১ (একটি ইনডোর স্টেডিয়াম, জমি উন্নয়ন ও অন্যান্য) করতে ২ হাজার কোটি টাকা লাগবে। সেটা হতে ২ থেকে আড়াই বছর লাগবে। পুরো মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করতে ৩৪-৩৮ হাজার কোটি।