বেগম রোকেয়া থেকে বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব: নারী জাগরণ থেকে গণজাগরণ

বেগম রোকেয়া থেকে বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব: নারী জাগরণ থেকে গণজাগরণ
প্রফেসর ড. মো. ছাদেকুল আরেফিন  © টিডিসি ফটো

স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। এই দেশের আপামর জনগণ যারা বাঙালী, বাংলা যাদের ভাষা। এই বাংলা ভাষাভাষীর বাঙালী জাতি একক জাতি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছে ১৯৭১ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে যা আজ স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। কিন্তু এই বাঙালী জাতি ছিল একদিন অবহেলিত, নিষ্পেষিত, অধিকারহীন অবস্থার এক জাতি। পৃথিবীর কোথাও যে জাতি মর্যাদা পেত না, এমনকি ভালো করে চিনতোও না পৃথিবীর মানুষ এই বাংলা ভাষা ভাষীর মানুষকে।

যতটুকু জানতো তা হলো দারিদ্র, অবহেলিত, বন্যা, খরা আর ক্ষুধায় জর্জরিত অনুন্নত এক জনগোষ্ঠী হিসাবে। কুসংস্কার, নিরক্ষরতা, অজ্ঞতা সবমিলিয়ে পিছিয়ে পড়া জাতি হিসাবে পরিচিত ছিল এই অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর। একদিকে কুসংস্কার ও অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজ অন্যদিকে অনুন্নত অর্থনীতি যা বাঙালীকে করেছিল অধিকারহীন আর অবহেলিত। সামাজিক বিষয়গুলো বিবেচনা করলে দেখা যায় এই বাঙালী সমাজ সে সময়ে শিক্ষায় পিছিয়ে- বিশেষ করে নারী শিক্ষায়, কুসংস্কারাচ্ছন্ন জনগোষ্ঠী, প্রচলিত প্রথা বেষ্টিত মানসিকতা, সংস্কৃতির অনগ্রসরতাসহ সকল ক্ষেত্রেই পশ্চাৎপদতা। আর অর্থনৈতিক দিক দিয়ে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় কৃষি নির্ভর অর্থনীতি- কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সকল ক্ষেত্রেই অনুন্নয়নের অবস্থা বিরাজমান।

ঠিক এই রকম আর্থ-সামাজিক অবস্থায় নারী শিক্ষার অগ্রদূত হিসেবে আর্বিভাব হয় বেগম রোকেয়া। ১৮৮০ খ্রীস্টাব্দে জন্ম নেয় বেগম রোকেয়া রংপুর জেলায় পায়রাবন্দ গ্রামে। পারিবারিক প্রভাব পরিবেশে বেগম রোকেয়া শিক্ষায় আগ্রহী হয়ে উঠে। পরবর্তীতে স্বামীর সহযোগিতাও তাকে উদ্যোগী করে তুলে নারী শিক্ষার বিস্তারে ভূমিকা রাখতে। প্রাসঙ্গিকভাবে বলা প্রয়োজন তৎকালীন আর্থ-সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় বেগম রোকেয়া প্রভাবিত হয়েছিলেন নারী শিক্ষা বিস্তারে।

আরও পড়ুন: বঙ্গমাতার আদর্শ সকলের অনুসরণ করতে হবে: সৌমিত্র শেখর

অজ্ঞতা, নিরক্ষরতা, আর অধিকারহীনতায় জর্জরিত নারী সমাজকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করে অধিকার সচেতনতায় নারী জাগরণের প্রকৃত উদ্যোগ নিয়েছিলেন বেগম রোকেয়া মাত্র ৫ জন ছাত্রী নিয়ে ভাগপুরে প্রথম সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল স্থাপন করে। বেগম রোকেয়া তাঁর লেখনি এবং প্রতিষ্ঠানিক উদ্যোগ গুলোর মধ্যদিয়ে নারী জাগরণের পথ উন্মুক্ত করেছিলেন। বেগম রোকেয়ার প্রকাশিত ও অপ্রকাশিত গ্রন্থ এবং প্রবন্ধ সমূহের প্রমান পাওয়া যায় নারী শিক্ষা, নারী অধিকার তথা নারী জাগরণের সর্বোপরি সামাজিক আন্দোলনের অনন্যদিক নির্দেশনা। বেগম রোকেয়ার সমসাময়িক সময় থেকে ১৯৪৭ সালের ভারতবর্ষ বিভক্ত হওয়া পর্যন্ত অনেক নারী নেতৃত্বের ভূমিকা দেখা যায়।

তবে ১৯৪৭ পরবর্তী তৎকালীন পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠীর পূর্বপাকিস্তান তথা বাঙালী জনপদের উপর শোষণ প্রক্রিয়ায় প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ আন্দোলন বিকশিত হয়। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের শাসকদের উর্দু ভাষা রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে। এই সময়ে বঙ্গবন্ধুশেখ মুজিবুর রহমানসহ আপামর বাঙালী জনগণ নিজের ভাষা, মায়ের ভাষা বাংলা ভাষা প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন শুরু করেন যা ১৯৫২ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি বাঙালীর রক্তের ঋণে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ১৯৪৭ ও ১৯৪৮ সাল থেকেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার দাবীতে আপামর বাঙালীকে সচেতন ও সংগঠিত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যান সভা, সমিতি এবং প্রচারণার মধ্য দিয়ে।

১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ এই চার বছরের ঘটনা প্রবাহ এবং নানা আন্দোলন সংগ্রাম এর অভিজ্ঞতার আলোকে বঙ্গবন্ধুর আত্মউপলব্ধি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তাঁর প্রণীত এবং আমার ভাষায় ‘বঙ্গবন্ধুর ব্রেইন চাইল্ড’ ১৯৬৬ এর ৬ দফা, যা বাঙালীর ম্যাগনাকাটা নামে অভিহিত। বঙ্গবন্ধু বুঝে গিয়েছিলেন বাঙালী জাতিকে অবদমিত করতে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠি নানা ষড়যন্ত্র করে প্রথম আঘাতটি হেনেছে একটি জাতির মূল উপাদান ভাষাকে, সংস্কৃতিকে, ঐতিহ্যকে, নস্যাৎ করার প্রচেষ্টার মধ্যদিয়ে। এছাড়াও রয়েছে অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিকসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে শোষণ ও বঞ্চনার প্রচেষ্টা। উল্লিখিত প্রতিটি ক্ষেত্রেই পশ্চিম পাকিস্তান ও তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানের মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরী করে নানা ষড়যন্ত্র শোষণ ও শাষন করার প্রচেষ্টা।

এই বাস্তবতায় বঙ্গবন্ধুর প্রস্তাবিত ৬ দফা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক হয়ে দাড়ায় পূর্বপাকিস্তান তথা বাঙালী জনপদের আপামর জনগণের কাছে। বঙ্গবন্ধুর ৬ দফাই ছিল মূলত বাঙালীর স্বাধীকার থেকে স্বাধীনতার মধ্যদিয়ে বাঙালী জাতি রাষ্ট্র গঠনের দূরদর্শী প্রস্তাবনা। আর এই সময়ে ৬ দফা দাবী আদায়ের পক্ষে গণজাগরণের প্রেক্ষাপটে উপস্থিত বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব।

বেগম ফজিলাতুন্নেছা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর সহধর্মীনী। বেগম ফজিলাতুন্নেছা যার ডাক নাম রেনু, জন্ম ১৯৩০ সালের ৮ আগস্ট। খুব শৈশবে পিতৃ-মাতৃহারা ফজিলাতুন্নেছা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন শেখ মুজিব এর সাথে। ফজিলাতুন্নেছা ছিলেন শেখ মুজিব এর চাচাত বোন। ফজিলাতুন্নেছার বয়স যখন তিন বছর তখন শেখ মুজিবের সাথে বিয়ে হয়। শেখ মুজিবের বয়স তখন ১৩ বছর।

পিতৃমাতৃহীন ফজিলাতুন্নেছা ওরফে রেনুকে ছেলের বউ হিসাবে কোলে তুলে নেন শেখ মুজিব এর মা সাহারা খাতুন। সুতরাং ফজিলাতুন্নেছা এর সৌভাগ্য হয়েছিল শেখ মুজিবের মা এবং বাবার স্নেহে বেড়ে উঠার। আর শিশুকাল থেকেই ফজিলাতুন্নেছা ওরফে রেনুর পরিচয় ঘটেছিল স্বামী শেখ মুজিব এর আদর্শ, স্বভাব, আচরণ, ইচ্ছা-অনিচ্ছার সাথে। বলা যায় স্বামী শেখ মুজিবের মন-মনন সবকিছুই তার আত্মস্থ ছিল। আর এজন্যই তিনি সহজাত হয়েছিলেন স্বামী শেখ মুজিবের সারাজীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে। ধাপে ধাপে বেড়ে ওঠা ফজিলাতুন্নেছা হয়ে উঠেছিলেন আত্মবিস্বাসী, সাহসী এবং অভিজ্ঞতালব্ধ, যা হয়েছিল শেখ মুজিব এর সাহচর্যে। 

ফজিলাতুন্নেছা ছিলেন অত্যন্ত সাহসী, দৃঢ়চিত্ত ও দূরদর্শী এবং উপস্থিত বুদ্ধি সম্পন্ন নারী। যার প্রমাণ পাওয়া যায় আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বন্দী শেখ মুজিব-কে প্যারোলে মুক্তির বিরোধীতা করার জোড় সিদ্ধান্তে। বেগম ফজিলাতুন্নেছা বঙ্গবন্ধুশেখ মুজিবের প্যারোলে মুক্তির বিরোধীতা করে বলেছিলেন- ‘তুমি যদি ওই নেতাদের কথায় প্যারোলে যাও তাহলে আমি পল্টন ময়দানে তোমার বিরুদ্ধে বক্তব্য দেব’ (বেবী মওদুদ, বঙ্গবন্ধুশেখ মুজিব ও তার পরিবার, পৃ: ২০, ফেব্রুয়ারি ২০১০)।

সাহস ও সিদ্ধান্তে অটল বেগম ফজিলাতুন্নেছা সর্বক্ষণ শেখ মুজিবের আদর্শে ছায়ার মতো প্রভাবিত করেছেন অতন্দ্র প্রহরী হিসাবে। প্রাপ্ত তথ্য মতে জানা যায় ১৯৪৬ সালের দাঙ্গায় এবং দুর্ভিক্ষের সময় স্বামী শেখ মুজিব যখন মানুষের পাশে দাড়িয়েছেন, মানুষের সেবা করেছেন তেমনি একইভাবে একই মনোভাব নিয়ে সার্বক্ষণিক সমর্থন দিয়েছেন বেগম ফজিলাতুন্নেছা। এছাড়াও ৫৪’এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের প্রচারনা ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে অকুন্ঠ সহযোগীতা, উদ্বুদ্ধকরণ ও গণজাগণের উৎসাহ প্রদানসহ নানা কাজে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থেকেছেন অন্তরাল থেকে। 

শেখ মুজিব প্রণীত ৬ দফা প্রচারে বেগম ফজিলাতুন্নেছা নিজ হাতে লিফলেট বিলি করেছেন। নেতাকর্মীদের মধ্যে ৬ দফা সম্বলিত লিফলেট বন্টন করেছেন প্রচারের জন্য। এছাড়া দলের নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ, বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সময়ে সভার ব্যবস্থা ও সহযোগীতা করাসহ প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে ছায়ার মতো নেপথ্যে থেকে সাহস যুগিয়েছেন। ষাটের দশক থেকে শুরু করে প্রতিটি সময়ে তাঁর আত্মত্যাগ আজ গণজাগরণের সহায়ক শক্তি হিসাবে প্রমাণিত। আদর্শ সংসার, ছেলে মেয়েদের আদর্শবাদী করে গড়ে তোলা, শেখ মুজিব সহ অন্যান্য নেতাকর্মীদের মামলা পরিচালনায় আইনজীবীদের নির্দেশনা, নেতাকর্মীদের সহযোগীতা এবং শেখ মুজিবের কাছে সিদ্ধান্ত পৌছে দেয়া থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বেগম ফজিলাতুন্নেছা হয়ে উঠেন বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। 

আরও পড়ুন: বঙ্গমাতা বঙ্গবন্ধুর আন্দোলন-সংগ্রামে অনুপ্রেরণার উৎস: বশেফমুবিপ্রবি ভিসি

প্রাসঙ্গিকভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বাঙালী স্বাধীকার থেকে স্বাধীনতার গণজাগরণে অন্যতম মূখ্য ভূমিকা পালন করেন শেখ মুজিবের পাশে ছায়ার মতো থেকে। একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বাঙালীর জাতিসত্ত্বা প্রতিষ্ঠায় জাতিরাষ্ট্র বাংলাদেশ গঠনে প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামের সাথে এবং শেখ মুজিবের পাশে থেকে সংসারের অন্তরালে নানা সাংগঠনিক কাজে সহায়তা করেছেন। যা গণজাগরণে উদ্বুদ্ধ ও ঐক্যবদ্ধ করতে সহায়ক হয়েছে। আর তার প্রমাণ পাওয়া যায় ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের সময়ে। আপামর বাঙালীর গণজাগরণের মধ্যদিয়ে ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ মুজিব-কে মুক্ত করার ইতিহাসে। আর এই ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় ৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে গণজোয়ার, ৭১’এর মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের গণজাগরণ তার বাস্তব প্রমাণ। বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কখনো প্রত্যক্ষ কখনো নেপথ্যে থেকে আপামর বাঙালীর গণজাগরণে সক্রিয় ভূমিকা রেছেছেন। প্রাপ্ত তথ্যমতে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ এর জনসভায় বঙ্গবন্ধুশেখ মুজিব যে ভাষণ দিয়েছিলেন সে ক্ষেত্রেও বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। 

জানা যায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ঐ জনসভায় যোগ দিতে যাওয়ার আগ মুহূর্তে বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বলেছিলেন ‘সারা দেশের মানুষ তোমার দিকে তাকিয়ে আছে। তুমি তাদের নিরাশ করবে না। তোমার মনে যা বলে তুমি তাই বলবে’ (বেবী মওদুদ, বঙ্গবন্ধুশেখ মুজিব ও তার পরিবার, পৃ: ২০-২১, ফেব্রুয়ারি ২০১০)। এর পরবর্তী ইতিহাস এখন সবার জানা আছে। আমার বিশ্লেষণে বঙ্গবন্ধু সেদিন তার ভাষণে- ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ উচ্চারণের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। আর এর মধ্যদিয়েই আপামর বাঙালী জনগণ গণজাগরণে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়েছিলো। 

প্রসঙ্গত: ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু যে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে ছিলেন সেটি ছিল আমার বিশ্লেষণে প্রশাসনিক বা অফিসিয়াল ঘোষণা। তার প্রমাণ পাওয়া যায় পরবর্তীতে ১০ এপ্রিল স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে। যুদ্ধকালীন সময়ে পাকিস্তানে কারাবন্দী বঙ্গবন্ধু আর বাংলাদেশে গৃহবন্দী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। এই যুদ্ধকালীন সময়েও বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোপনে নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগসহ নানাবিধ কাজ করেছেন জীবনের ঝুকি নিয়ে।

অতএব একথা অবধারিতভাবে বলা যায় যে, স্বাধীন বাঙালী জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আপামর বাঙালীকে ঐক্যবদ্ধ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করতে যে গণজাগরণ তৈরী করে ছিলেন তার অন্যতম ভূমিকায় ছিলেন অন্তরালের নেপথ্য মহীয়সী নারী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। সবশেষে বলতে হয়, শতশত বছরের অবহেলিত বাঙালী জনগোষ্ঠিকে (বিশেষকরে নারী শিক্ষার মাধ্যমে) নারী জাগরণের পথ উন্মুক্ত করেছিলেন বেগম রোকেয়া, ঠিক তেমনিভাবে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ, উদ্বুদ্ধ তথা গণজাগরণে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন আন্তরালে থেকে যাওয়া নেপথ্য মহীয়সী ব্যক্তিত্ব বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। 

লেখক, উপাচার্য, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। 


x

সর্বশেষ সংবাদ