উদ্ভাবনী বাংলাদেশ: চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য একটি উদীয়মান রোল মডেল
- অধ্যাপক ড. মোঃ আকতারুজ্জামান
- প্রকাশ: ১৮ নভেম্বর ২০২১, ০৩:২৮ PM , আপডেট: ১৮ নভেম্বর ২০২১, ০৭:৫১ PM
চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো সম্মুখ সারির প্রতিষ্ঠান এবং সেই লক্ষ্যেই তাদের কাজ করা উচিত। একটি উদাহরণ দিয়ে শুরু করা যাক। একদিন আমি ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির ভর্তি অফিস দিয়ে যাচ্ছিলাম। তখন দেখলাম একজন ভর্তিচ্ছু ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয় এবং তার বিভিন্ন বিভাগ সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। কিছুক্ষণ পরে আমি দেখতে পেলাম যে ড্যাফোডিল ক্রুজার রোবট নামক একজন ভর্তি সহকারী তাকে সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়ে সাহায্য করছে। সেখানে প্রতিদিন অনেক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী উপস্থিত হন এবং অনুরূপ তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করেন। রোবটটি ভর্তি কর্মকর্তাদের সহায়তা করে এবং কাজটিতে অত্যন্ত দক্ষ সে।
একইভাবে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হচ্ছে ব্যবসায়িক সাফল্য নিয়ে ধারণা করার জন্য, রোবট ব্যবহার করা হচ্ছে গার্মেন্টস শিল্পে। এমন আরো অনেক উদাহরণ সারা দেশ জুড়ে বিদ্যমান। সুতরাং, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব এখন একটি বাস্তবতা এবং আমাদের যা কিছু আছে তা পুঁজি করে দ্রুত অগ্রসর হওয়া উচিত।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষার গুরুত্ব অনুধাবন করেছিলেন। ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের প্রথম বিজয় দিবসে রাষ্ট্রপতির নির্বাহী আদেশে ইউজিসি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার সূচনা করেন। পরবর্তীতে ১৯৭৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ইউজিসি’র কার্যক্রম শুরু হয়। বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিলেন 'সোনার বাংলা’ - একটি ক্ষুধামুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।
একই দর্শন বহন করে বর্তমান ডিজিটাল বিশ্বে তার স্বপ্ন ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’- এ রূপান্তরিত হয়েছে। দিনে দিনে তা ‘উদ্ভাবনী বাংলাদেশ’ গঠনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আর এটি হচ্ছে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও তার সম্মানিত আইসিটি উপদেষ্টার দূরদর্শী নেতৃত্বে। একটি নিরাপদ, উন্নত ও উদ্ভাবনী দেশের মর্যাদায় পৌঁছাতে ভিশন ২০২১, ভিশন ২০৩০, ভিশন ২০৪১, ভিশন ২০৭১ এবং ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ দিয়েছেন তারা।
এসব লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন তখনই সম্ভব হবে, যখন আমরা উচ্চমানের শিক্ষা ও গবেষণার প্রসার এবং একটি উদ্ভাবনী শিক্ষা ইকোসিস্টেম তৈরি করতে পারবো। এরই লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) আগামী ১০ থেকে ১১ ডিসেম্বর ২০২১ থেকে 4th Industrial Revolution and Beyond (IC4IRB.ORG) বিষয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করতে যাচ্ছে, যেটির সার্বিক তত্ত্বাবধান করছেন ইউজিসির সম্মানীত সদস্য অধ্যাপক ড. মোঃ সাজ্জাদ হোসেন।
বাংলাদেশের জাতির পিতার ১০০তম জন্মবার্ষিকী এবং দেশের ৫০তম স্বাধীনতার বার্ষিকীতে (ইউজিসি) অত্যাধুনিক চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কৌশল ব্যবহার করে স্থানীয় সমস্যা সমাধান করছে। পাশাপাশি জীবন ও পরিবেশের উন্নতি এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমাদের সাহায্য করার জন্য বিভিন্ন শ্রেণীর গবেষক এবং প্রাকটিশনারদের একত্রিত করে একটি প্রিমিয়ার আন্তর্জাতিক ফোরাম তৈরি করতে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনে অন্তর্ভুক্ত থাকবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স এবং অটোমেশন, আইওটি এবং স্মার্ট এগ্রিকালচার, ডেটা বিশ্লেষণ এবং ক্লাউড কম্পিউটিং, যোগাযোগ ও নেটওয়ার্ক সিগনাল এবং ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং।
তবে বিভিন্ন বৈশ্বিক সূচকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র্যাঙ্কিং তেমন ভালো না হলেও আমরা কৃষি, অটোমেশন, ইলেক্ট্রনিক্স ইত্যাদিতে ক্রমবর্ধমান উন্নত গবেষণা করছি। সেখান থেকে ভালো মানের যথেষ্ট প্রকাশনাও হচ্ছে। কিউএস এশিয়া র্যাঙ্কিংয়ে এ বছর দেশের ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয় তালিকাভুক্ত হয়েছে।
ডিজিটাল বাংলাদেশে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় উচ্চশিক্ষা রূপকল্পে আমাদের নিম্নলিখিত বিষয়গুলোতে জোর দেওয়া উচিত-
বর্ধিত ডিজিটালাইজেশন: বাংলাদেশ ইতিমধ্যে ডিজিটাল শিক্ষার প্রথম পর্যায়, অর্থাৎ ফেস-টু-ফেস ডিজিটাল পার করেছে। এখন আমরা ডিজিটাল শিক্ষার দ্বিতীয় পর্যায়, অর্থাৎ ব্লেন্ডেড ডিজিটাল এ আছি। যার জন্য ইউজিসি সম্প্রতি ব্লেন্ডেড লার্নিং পলিসি ২০২১ অনুমোদন দিয়েছে। পরবর্তী ধাপ হল অনলাইন ডিজিটাল শিক্ষা। বাংলাদেশ এখনও বৈশ্বিক অনলাইন শিক্ষা ইন্ডাস্ট্রিতে তার উপস্থিতি বোঝাতে পারেনি, যার বাজার মূল্য ২০২৬ সালের মধ্যে ৩৭৫ বিলিয়ন ডলার। এটি সহজেই রেমিট্যান্স এবং গার্মেন্টসের পরে আমাদের আয়ের তৃতীয় সর্বোচ্চ উৎস হতে পারে, যদি চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রযুক্তিগুলো (যেমন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক এলএমএস, লার্নিং এনালিটিক্স) সিস্টেমের মধ্যে কার্যকরভাবে যোগ করা যায়। এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতও অনলাইন ডিগ্রিকে স্বীকৃতি দেওয়া শুরু করেছে, যা উন্নত বিশ্ব অন্তত ১০ বছর আগে থেকে করে আসছিল।
বৃত্তিমূলক শিক্ষার অন্তর্ভুক্তিকরণ: প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকদের তাদের পাঠ্যক্রমের অংশ হিসাবে একটি বৃত্তিমূলক উপাদান, যেমন অটোমোবাইল, ইলেকট্রিক ওয়ারিং, গ্রাফিক্স, ভিডিও সম্পাদনা, অ্যানিমেশন, ইত্যাদি থাকা উচিত যাতে তারা ভবিষ্যতের কাজের জগতের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে পারে। অনেক স্নাতক বেকার আছে সত্যি, কিন্তু তাদের বৃত্তিমূলক দক্ষতা থাকলে চাকরির জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। বরং তারা অন্যদের জন্য চাকরির সুযোগ তৈরি করতে পারবে। এমনকি অনলাইন ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থায় টিচিং এসিস্ট্যান্ট, লার্নিং এডভাইজর, ইন্সট্রাকশনাল ডিজাইনার, লার্নিং টেকনোলজিস্ট এর মতো হাজারো চাকরির পথ উন্মুক্ত হতে পারে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের আবির্ভাবে অনেক চাকরি হারিয়ে যাবে, কিন্তু তার চেয়ে বেশি নতুন চাকরি তৈরি হবে।
প্রয়োজন ভিত্তিক এবং সময়োচিত পাঠ্যক্রম: আমাদের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম পুরানো এবং প্রায়শই ইন্ডাস্ট্রির প্রয়োজনের উপর ভিত্তি করে সেটা তৈরি বা হালনাগাদ হয় না। বিসিএস কেন্দ্রিক শিক্ষা আমাদের দীর্ঘমেয়াদে সাহায্য করবে না। একাডেমিয়া ও ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে একটি বড় ব্যবধান স্পষ্ট এবং আমাদের পাঠ্যক্রমে এটির সমাধান করতে হবে। একটি স্নাতক বা স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামের শেষ বছরে শিক্ষার্থীরা ইন্ডাস্ট্রিতে অনুশীলনের সাথে আরও বেশি যুক্ত হওয়া উচিত। সেখানে একটি ক্যাপস্টোন প্রোজেক্ট বা থিসিস অপশন থাকতে পারে। ঐ সময়ের প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বা দুটি কোর্স সম্পূর্ণ অনলাইনে অফার করা যেতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগের পৃষ্ঠপোষকতায় সরকারি ও বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে।
সফ্ট স্কিলগুলোর জন্য নিয়োগদক্ষতা এবং পরামর্শ: সফ্ট স্কিল, যেমন- যোগাযোগের ক্ষমতা, ভাষা দক্ষতা, জ্ঞানীয় বা মানসিক সহানুভূতি, সময় ব্যবস্থাপনা, দলগত কাজ, নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি কর্মসংস্থানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি মূলত চাকরির স্থান (স্থানীয় বা আন্তর্জাতিক), ফ্রিল্যান্সিং, কনসালটেন্সি প্রোফাইল ডেভেলপমেন্ট, বিজনেস ডেভেলপমেন্ট গাইডেন্স এবং আইজিএ (ইনকাম জেনারেটিং অ্যাক্টিভিটিস) নিশ্চিত করতে পারে। বাংলা এবং ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষার দক্ষতা চাকরির ক্ষেত্রে অনেক সময় অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হতে পারে।
উচ্চশিক্ষার ঋণ কর্মসূচি: উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন স্কীম যেমন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে, সরকারী-ভর্তুকিপ্রাপ্ত এবং সম্পূর্ণ ফি থাকতে পারে যা করদাতার আয়ের উপর ভিত্তি করে প্রদান করা যেতে পারে। স্থানীয় চাকরির বাজারে তাদের চাহিদার উপর ভিত্তি করে সরকার চতুর্থ শিল্প বিপ্লব সম্পর্কিত কোর্স এবং প্রোগ্রামগুলিতে আরও ভর্তুকি প্রদান করতে পারে। স্নাতক শেষ করার পর শিক্ষার্থীরা যখন চাকরি পাবে বা অনট্রপ্রিনিউয়ার হবে, তখন তাকে ধীরে ধীরে শিক্ষা ঋণ পরিশোধ করতে হবে। সরকারি ঋণ বা ভর্তুকি পেতে ছাত্রদের মা-বাবা বা অভিভাবকদের আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে, এমনকি তা শূন্য হলেও।
নিজস্ব তহবিল তৈরিকরণ: আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দুর্বল র্যাঙ্কিংয়ের একটি প্রধান কারণ হল আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম। দেশের শীর্ষ দুটি প্রতিষ্ঠানে একটিতে মাত্র ৩ শতাংশ এবং অন্যটিতে শূন্য শতাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আছে, যেখানে বেশিরভাগ অস্ট্রেলিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী থাকে। এর ফলে প্রতি বছর বিলিয়ন ডলার আয় হয় এবং র্যাঙ্কিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। নিজস্ব অর্থায়নের ব্যবস্থা থাকলে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলি বিদেশ থেকে ভিজিটিং অধ্যাপক এবং পণ্ডিতদের আনতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত শিক্ষক, যাদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিক্ষা ও গবেষণায় একাডেমিক উৎকর্ষতা রয়েছে তাদের আনা যেতে পারে। এর ফলে শিক্ষার গুণগত মানে পরিবর্তন আসবে।
প্রতিযোগিতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ: টাইমস হায়ার এডুকেশন বা কিউএস র্যাঙ্কিং অনুসরণ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি জাতীয় র্যাঙ্কিং সিস্টেম থাকা উচিত। ফলে শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি প্রতিযোগিতামূলক কিন্তু অনুকূল একাডেমিক পরিবেশ তৈরি হবে। প্রাতিষ্ঠানিক পদোন্নতি এবং বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের মানদণ্ড যেমন একাডেমিক শ্রেষ্ঠত্ব, পেশাগত উন্নয়ন, মানসম্পন্ন প্রকাশনা এবং গবেষণা অনুদানকে স্বচ্ছতার সাথে একটি নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে অনুসরণ করা এবং সেটি আরো শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম এর একটি প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, আজকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রবেশকারী ৬৫ শতাংশ শিশু শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ নতুন চাকরিতে কাজ করবে, যা এখনও বিদ্যমান নেই। সুতরাং শিক্ষা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নেওয়া কোনো ভ্যাকসিন নয়, বরং সারাজীবনের জন্যে অর্জন। ভবিষ্যত কাজগুলো হবে এমন যা মেশিন করতে পারে না। একই সাথে সৃজনশীল প্রচেষ্টা, সামাজিক মিথস্ক্রিয়া মতো ক্ষেত্রগুলি যেখানে মানুষ মেশিনকে হারাতে পারে, সেসব ক্ষেত্র চাকরি সৃষ্টির জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
বাংলাদেশ ২০২৫ সালের মধ্যে আইটি সফটওয়্যার রপ্তানি থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার আয়ের পথে রয়েছে। এটি হয়তো একদিন আমাদের গার্মেন্টস শিল্পকে ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টাও। তাই এখন আমাদের নীতি নির্ধারকদের উচিত চতুর্থ শিল্প বিপ্লব সম্পর্কিত গবেষণা ও উদ্ভাবনকে অগ্রাধিকার দিয়ে শিক্ষানীতি পুনর্বিবেচনা করা, যাতে বৈশ্বিক শিক্ষার বাজারে বাংলাদেশ একটি ব্র্যান্ড হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।
লেখক: ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির ব্লেন্ডেড লার্নিং সেন্টারের পরিচালক এবং বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির আইসিটি ও শিক্ষা বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান।