৯/১১, পৃথিবীর ইতিহাস বদলে দেয়া দিন
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর টেলিভিশন খুলে সিএনএনের খবর দেখছিলাম। হঠাৎ দেখি ব্রেকিং নিউজ! টুইন টাওয়ারের প্রথম টাওয়ারে একটা বিমান আছলে পড়েছে। সরাসরি সেই নিউজ আমি দেখছিলাম। খানিক বাদে সরাসরিই দেখতে পেলাম আরেকটা বিমান এসে পাশের টাওয়ারে ঢুকে পড়েছে!
বাদ বাকী ইতিহাস বোধকরি সবারই জানা। আমেরিকা বদলা নিতে আফগানিস্তান আক্রমণ করে বসলো আলকায়দা এবং তালেবানকে ধ্বংস করার জন্য। কারণ টুইন টাওয়ার নাকি আক্রমণ করেছে লাদেন।
পুরো পৃথিবীতে মুসলমানরা ‘সন্ত্রাসীর’ তকমা পেল। ২০০১ সালের আগে ঘুরে বেড়াতে কখনো কোন দিন কোন এয়ারপোর্টে কোন রকম বাঁধার সম্মুখীন হইনি। সেই আমাকেই ২০০১ সালের পর প্রায় সব এয়ারপোর্টে অনেক বার করে চেক করেছে।
সেবার বেলজিয়াম থেকে ক্যানাডায় যাচ্ছিলাম। সবাই প্লেনে উঠে পড়েছে। কিন্তু আমাকে আঁটকে রেখেছে। আমি পরিষ্কার শুনতে পাচ্ছি যারা চেক করে, তাদের একজন আরেজনকে বলছে- ও মুসলিম দেশের নাগরিক। ভালো করে চেক করো।
আমরা সাধারণ মুসলিমরাও হয়ে গেলাম সন্ত্রাসী! পুরো পৃথিবীর এয়ারপোর্টগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হলো। যার কোন কিছুই নাইন-ইলাভেনের আগে ছিল না। আগে কতো সহজেই না প্লেনে চড়ে ঘুরে বেড়ানো যেত।
যেই আমেরিকা লাদেন এবং মুসলিমদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে আফগানিস্তানে গিয়েছিল। যেই আমেরিকা তালেবানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল। তারা আজ পর্যন্ত প্রমাণ করতে পারনি- কারা টুইন টাওয়ারে হামলা করেছে। যেই তালেবানদের উৎখাতের জন্য আফগানিস্তান গিয়েছিল। তাদের হাতেই ক্ষমতা তুলে দিয়ে এখন কেটে পড়েছে।
তালেবান কিন্তু আমেরিকাই তৈরি করেছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য এমনকি অস্ত্র দিয়ে সাহায্যও করেছে এক সময়। এরপর এই তালেবানরাই আবার আমেরিকার কাছে সন্ত্রাসী হয়ে গেছে!
সন্ত্রাসবাদের জন্ম আমেরিকায়। আমেরিকাতেই লেখা হয়- কে হবে পরবর্তী সন্ত্রাসী। এরপরও ওরাই পৃথিবী নামক গ্রহের সন্ত্রাস দমনের দায়িত্ব আছে।
লেখক: শিক্ষক, ক্রিয়েটিভিটি অ্যান্ড ইনোভেশন বিভাগ, এস্তনিয়ান এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ ইউনিভার্সিটি