মিডিয়া পাড়ার সাম্প্রতিক সংকট: দায় কার?

লেখক
কাবিল সাদি  © টিডিসি ফটো

এক. করোনার ভয়াবহ প্রভাবে গোটা বিশ্ব এখন বিপর্যস্ত। একের পর এক রেকর্ড ভেঙে লাশের মিছিলে প্রতিদিন যোগ হচ্ছে হাজারো মানুষ। মহামারী আর লকডাউনে মানুষের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে তৈরি হয়েছে এক হাহাকার অবস্থা। এর সাথে স্বজন হারানোর শোক ও বেদনায় হাসপাতাল, শ্বশ্মান কিংবা গোরস্তানে চলছে অবিরাম আহাজারি। অথচ ঠিক এমনই এক পরিস্থিতিতে আমরা সবকিছু ভুলে আলোচনামূখর থাকছি মিডিয়া পাড়ার মুখরোচক কিছু খবর নিয়ে!

করোনাকালীন সময়ে ঘরবন্ধি মানুষ বিভিন্ন স্যোশাল মিডিয়ার পূর্বের যেকোন সময়ের তুলনায় অধিক সক্রিয় থাকছে। ফলে একদিকে যেমন তাদের নানা কর্মকাণ্ডে সৃজনশীলতা প্রকাশ পেয়েছে ঠিক একইভাবে তাদের মানসিক দীনতাও লক্ষ্যণীয়।

সম্প্রতি চিত্রনায়িকা পরিমণিসহ বেশ কয়েকজন মিডিয়াকর্মী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক গ্রেফতার হয়েছেন। অভিযুক্ত ব্যাক্তিগণ অপরাধ করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সাজা হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্ত আমরা সেই সহজ ও নিয়মতান্ত্রিক বিষয় নিয়ে যেভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রল করছি মনে হচ্ছে এই প্রথম দেশে কোন আজব ধরনের অপরাধ শনাক্ত হয়েছে!

আমাদের দেশীয় নেটিজেনরা সবাই যেন একটাই চিন্তায় আবদ্ধ রয়েছে, যার প্রভাব আমরা দেখি প্রশাসন ও প্রথম সারির মিডিয়া গুলোতেও। মিডিয়ার কল্যাণে 'রাতের রাণী' নামে মুখরোচক ও আপত্তিকর একটি শব্দও ইতোমধ্যে ছড়িয়ে গিয়েছে। আমাদের পুরুষতান্ত্রিক বাঙালি সমাজে এই শব্দটির পুরুষ লিঙ্গ এখনও ব্যাকরণভুক্ত হয়নি, তাই স্বাভাবিক ভাবেই 'রাতের রাজা' শব্দের ব্যবহার এখনও সেভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

দুই. আজকের লেখাটি মূলত একজন ক্ষুদ্র মিডিয়া কর্মী হিসেবে প্রাপ্ত বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে এই অবস্থার কিছু বিশ্লেষণ নিয়ে।

টিভি মিডিয়ায় নাটক-সিনেমা দেখে আমাদের অধিকাংশ তরুণ-তরুণীরই ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় ছোট থেকেই নায়ক-নায়িকা হওয়ার এক সুপ্ত বাসনা মনে কাজ করতে থাকে। অতি ইট্রোভার্ট না হলে সে সুযোগও খুঁজে সেই স্বপ্ন পূরণ করার, তা সে যত রক্ষণশীল পরিবার থেকেই আসুক না কেন।

যাইহোক, সবার পরিবেশ,পরিস্থিতি বা সুযোগ সমান ভাবে আসে না, ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই একটা সময় গিয়ে সেই সুপ্ত বাসনার ইতি ঘটে। তবে এদের মধ্যে যারা এই সুযোগগুলো পান তাদের সাফল্য পেতে পাড়ি দিতে হয় এক লম্বা পথ। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সংগ্রাম করতে হয় নারীদের।

আমাদের সমাজে যেখানে নারীদের পড়াশোনা বা চাকুরী করার অনুমোদনই এখনো পরিবারে সন্তুষজনক ভাবে স্বীকৃত নয় সেখানে চলচ্চিত্র বা নাট্যকর্মী তো দূরের কথা গণমাধ্যমকর্মী হতে গেলেও মন ও পরিবারের সাথে এক প্রকার যুদ্ধ বা চ্যালেঞ্জ করে আসতে হয়। এমন কি এক সময় জনপ্রিয় হলেও সে আগের মতো স্বাভাবিক ভাবে পরিবার বা সমাজে ফিরতে পারে না। সত্যি বলতে এদেশের সমাজ ব্যবস্থা এখনও সেভাবে গড়ে ওঠেনি।

পরিবার ছেড়ে আসা এই নবাগতদের প্রতিটি পা ফেলতে হয় হিসেব করে। কিন্ত সফল হওয়ার যুদ্ধে টিকে থাকতে হলে কখনও স্বেচ্ছায় আবার কখনও অনিচ্ছায়ও ভুল হয়ে যায়। ব্যতিক্রম ছাড়া এবং পারিবারিক ভাবে প্রভাবশালী মিডিয়া সম্পৃক্ততা না থাকলে খুব সামান্যই হয়তো এ থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখতে পারেন। এসব কারণে মিডিয়ার ব্যক্তিদের সংসার ভাঙন বা বিবাহ-বিচ্ছেদ তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। এই বাস্তবতা শুধু এদেশেই নয়, বৈশ্বিক মিডিয়া পাড়ার বাস্তবতাও তাই। সম্প্রতি "মি টু" আন্দোলনের ফলে তার খবরও সবাই ইতোমধ্যে পেয়েছে। রেহাই পায় না পুরুষও। নারীদের থেকে কম চ্যালেঞ্জিং হলেও পুরুষকেও এ পথে অনেক অনিশ্চিয়তার মধ্য দিয়ে পা বাড়াতে হয়।

এবার আসুন বাস্তবতায়।

চলচ্চিত্রের যে সোনালী দিন আমরা দেখে এসবে যুক্ত হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বড় হয়েছি সে যুগ যে নেই তা প্রায় অধিকাংশ দর্শক বা চলচ্চিত্র বিশ্লেষক নির্দ্বিধায় স্বীকার করবেন। এক এক করে সিনেমা হলগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতীয় অন্যন্য চলচ্চিত্রের অবাধ প্রবেশ, প্রযুক্তিগত অবাধ সুযোগ, সিনেমার মান, বাজেট ও স্বচ্ছতার অভাব এবং সর্বশেষ করোনা মহামারীর ভয়াল থাবার চ্যালেঞ্জ নিতে না পারায় এদেশের চলচ্চিত্র শিল্প ও তার প্রধান সংস্থা বিএফডিসি যেন মৃত নদীর রূপ ধারণ করেছে। ফলে চলচ্চিত্র শিল্পের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের অনেকেই পেশা পরিবর্তন করতে এক প্রকার বাধ্যই হয়েছেন। যে সকল প্রযোজক বা অর্থ লগ্নীকারী প্রতিষ্ঠান বার বার চেষ্টা করেছিলেন এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে তারাও এখন লাভ তো দূরের কথা ক্ষতিপূরণ দিয়ে প্রায় সর্বস্বান্ত।

এমন অনিশ্চিত অবস্থায় এখনো টিকে আছে ছোট পর্দার নির্মাতা ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা। তবে এখানেও বিড়ম্বনার শেষ নেই। টেলিভিশন মালিকপক্ষ চুক্তি করেন কোনো এজেন্সির সাথে, আর সেই এজেন্সির সাথে চুক্তিবদ্ধ হন নির্মাতা বা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। ফলাফল, সরাসরি প্রোগ্রাম দেয়ার জায়গায় অনেকটা দেয়াল তৈরি হয়ে গেছে। এই তিন পক্ষের মাঝে অর্থনৈতিক ঝামেলা যেন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। প্রায়ই দেখা যায় নির্মাতারা লগ্নি করা টাকা না পেয়ে সামাজিক মাধ্যমে তাদের কষ্ট শেয়ার করে বিচার চাইছেন। ভাবা যায়, কতটা নিম্ন পর্যায়ে চলে গেছে আমাদের এই শিল্প!

আমার পরিচিত একজন প্রযোজক গত তিন বছরেও তার ধারাবাহিকের টাকা উঠাতে পারেনি দেশের একটি স্বনামধন্য টেলিভিশন চ্যানেল থেকে। অথচ প্রোগ্রাম অন ইয়ার হয়ে গেছে অনেক আগেই। এরকম অনেক গল্পই মিডিয়া পাড়ায় প্রতিনিয়ত ঘটছে। যারা একবার নতুন কাউকে ধরে টাকা বিনিয়োগ করাচ্ছেন তারা আর দ্বিতীয় বার এ পথে আসছেন না তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে। এরপর রয়েছে সিন্ডিকেট।

এখন আর নির্মাতারা স্বাধীন ভাবে শিল্পী নির্ধারণ করতে পারেন না। টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ বা এজেন্সির পছন্দেই শিল্পী নির্ধারণ করা হয়। একারণে কাজের মান ও অন্যদের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। ফলে প্রায় সব চ্যানেলেই একই শিল্পীর অনুষ্ঠান দেখা যায়। আবার অনেক নির্মাতাও  নির্দিষ্ট শিল্পীদের নিয়ে জোট করেন। তারাও এই জোটের বাইরের কাউকে তার কাজে সুযোগ দেন না। ফলে নতুন মুখ অথবা সৃষ্টিশীল দক্ষ শিল্পী সুযোগ পায় না।

অন্যদিকে আগের তুলনায় কমেছে নির্মাণ বাজেট। শোনা যায়, এই বাজেটের প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ বা তারও বেশি টাকা দিতে হয় প্রধান দুই শিল্পীকে। ফলে অন্যান্য জায়গায় বাজেট সমন্বয় ঠিক না রাখতে পেরে নির্মাতারা বাধ্য হন নাটকের অন্যান্য চরিত্র কমিয়ে নিতে। ফলে আজকাল গল্পে মা-বাবা বা ভাই-বোনের চরিত্র (ক্যারেক্টার) নাই বললেই চলে। অর্থ্যাৎ দুজন বা তিনজন দিয়েই গল্পে ইতি টানা হচ্ছে।

আবার বাজেট স্বল্পতায় গল্পের চাহিদা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় লোকেশনও ব্যবহার করা হয় না। ফলে একদিকে স্বল্প সংখ্যক চরিত্র ও  অন্যদিকে চাহিদা মাফিক লোকেশনের অভাবে গল্পগুলোও দর্শক টানতে ব্যর্থ হচ্ছে। ইচ্ছা ও মানসম্মত স্ক্রিপ্ট থাকা সত্ত্বেও শুধু বাজেট সীমাবদ্ধতার কারণে নির্মাতারা করছেন মানহীন কাজ। অনেক নির্মাতা আছেন যারা শিল্পকে ভালোবেসে কারও হাতে পায়ে ধরে টাকা বিনিয়োগ করাচ্ছেন, কিন্ত অনইয়ার হলেও তাকে এজেন্সি বা টেলিভিশন চ্যানেল কর্তৃপক্ষের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে বকেয়া তুলতে।

তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নে দেশের তরুণ নির্মাতা ও শিল্পীর প্রসার ঘটেছে ইউটিউব বা ফেইসবুকের কল্যাণে। কিছু দক্ষ মেধাবী উঠে আসলেও শুধু ভিউ বাণিজ্য বাড়াতে এই জগতে রাতারাতি নেমে এসেছে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ কাজের হিড়িক। আর্থিক বাস্তবতায় অনেক গুণী শিল্পী ও নির্মাতাও সেই স্রোতে গা ভাসিয়েছেন। এখানে দক্ষতা ও মানের মানদণ্ড হলো ভিউয়ের উপর। ফলাফল- উদ্ভট নাম ও গল্পের ছড়াছড়ি ইউটিউব চ্যানেলগুলোতে। দর্শকরাও কাজের মান না বুঝে অশ্লীল কন্টেন্ট দেখেই হামলে পড়ছে এসবে। সামাজিক সমস্যার পাশাপাশি এই মিডিয়া জগত যেন বাস্তবতা বিবর্জিত অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সম্মুখীন।

তিন. এবার আসি আমাদের সেই 'রাতের রাণী' গল্পে। এই যে মিডিয়ার এই অনিশ্চিয়তার জায়গা, যেখানে বয়স্ক শিল্পীরা কাজ পাচ্ছে না, ব্যক্তিত্ববোধ সম্পন্ন শিল্পীরা মানহীন কাজে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন, নির্মাতারা চ্যানেলের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন এবং প্রডিউসার তার বিনিয়োগ হারিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন, অনেক সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির আগেই পাইরেসির কবলে পড়ছে, সেখানে যারা শিল্পী তারা তাদের প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে এবং জীবিকার তাগিদে সকল কিছু ভুলে 'রাতের রাণী' হবেন এটাই তো স্বাভাবিক।

অন্যদের মতো স্বপ্ন নিয়ে আমিও মিডিয়া শিল্পী হবো ভেবেছিলাম, কিন্ত এ বাস্তবতায় নিজেকে মেলাতে পারিনি। আমি আমার বর্তমান ব্যাংক পেশায় যোগ দেয়ার আগে পাঁচটি স্ক্রিপ্ট হাতে পাই, যেগুলোর সবকটিতে আমার কাজ করার কথা ছিল। অথচ স্ক্রিপ্ট পড়ে আমি হতবাক! প্রতিটি গল্পই অশ্লীল। এমনকি সবগুলো গল্প যিনি লিখেছেন তিনি দেশের বিখ্যাত একজন চিত্রনাট্যকার এবং শতাধিক চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য তার লেখা!

আমি পরিচালক ও প্রডিউসারকে চিত্রনাট্য পড়েই না করে দেই এবং বুঝাতে সক্ষম হই, যে কাজ আমার ভাই-বোন বা আত্মীয় এক সাথে দেখতে পারবো না আমি সে কাজ করবো না।তারা নিজেরাও আমার কথা মেনে নিয়ে পাঁচটি চিত্রনাট্যই বাতিল করে। আমরা হয়তো এটা করতে পেরেছিলাম তাই এই জায়গা থেকে সরে এসেছি, কিন্ত যাদের বেঁচে থাকার তাগিদে অর্থ দরকার বা একমাত্র জীবিকাই এই শিল্প, তারা কিভাবে এসব এড়িয়ে সুস্থ্য সংস্কৃতি দর্শককে উপহার দেবে?

গত বছর আমার লেখা নাটক প্রচার হয়েছে অথচ এখনও সম্মানীর টাকা বাকী। আমি হয়তো জব করি বলে এতে নির্ভর্শীল নই, কিন্ত বাকীরা কী করবে? এই অনিশ্চিত ভবিষ্যতের জন্যই যে যেভাবে পারছে অর্থ আয়ে নেমেছে, কাজের মান বিচার করছে না। যে চিত্রনাট্যকার পাঁচটি অশ্লীল স্ক্রিপ্ট দিলেন আমার বিশ্বাস তাকে অনুরোধ করলেও এসব করতেন না, কিন্ত এই শিল্পের মন্দা তাকে বাধ্য করেছে এমন মুখরোচক অখাদ্য খাওয়াতে। অন্যদিকে যেসব তরুণ-তরুণী এ পথে ক্যারিয়ার গড়বে বলে পা বাড়িয়েছে তারা সমাজে স্বাভাবিক অবস্থায় যেমন ফিরতে পারছে না একইভাবে এখানে টিকে থাকতে এসব কাজ তারা বিচার বিশ্লেষণ ছাড়াই করছে। কারণ, বাজার মন্দা।

পরিমণি বা অন্যন্য যে 'রাতের রাণীদের' কথা বলা হচ্ছে তারাও এই মন্দার শিকার। অথচ তাকে নিয়ে যেভাবে বার বার মিডিয়া ও প্রশাসনিক ফলোয়াপ দেয়া হচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে দেশের মোস্ট ওয়ান্টেড কোন অপরাধীকে আমরা আটক করেছি। তা নাহলে এত পুলিশ-র‍্যাব দিয়ে মিডিয়ায় প্রচার কেন করা হবে? ঢাকা শহরের উচ্চবিত্তদের প্রায় অধিকাংশ ফ্লাটেই এসব মদের বার পাওয়া যাবে। মদের লাইসেন্স নবায়ন না করা এদেশে সে মানের অপরাধ নয় যে, র‍্যাবের এত বড় অভিযান করে পরীমণিকে ধরতে হবে। এসব কাজের থেকেও বড় কাজ র‍্যাব, পুলিশ, বিচারবিভাগ এবং মিডিয়ার রয়েছে। তাদের উচিৎ সেসব নিয়ে চিন্তা করা বা সময় দেয়া।

শিল্প সংশ্লিষ্ট এই মানবিক ও অর্থনৈতিক হতাশা ও অনিশ্চিয়তা আগে দূর করুন। মিডিয়ায় এসব নিয়ে আগে কথা বলুন। আপনার টেলিভিশন চ্যানেল কতটা স্বচ্ছ? তারা শিল্পী নির্মাতাদের সম্মানী ঠিকমতো দিচ্ছে কি না, এজেন্সির হাতে নির্মাতাদের অপদস্থ করছে কি না, শিল্পী সিন্ডিকেট করছে কি না- এসব ভয়ানক অপরাধ নিয়ে আগে কথা বলুন। তারপর আসুন 'রাতের রাণীর' খোঁজ নিতে।

রাতের রাণীরা যখন না খেয়ে থেকে দেহ ব্যবসায় জীবনের অস্তিত্ব খুঁজে তখন আপনাদের ক্যামেরা কেন চালু রাখেন? সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে বলবো, মদের লাইসেন্স এর মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে কি না সেটা আগে না দেখে ভাতের অভাবে বিনা চিকিৎসায় কোন মিডিয়া শিল্পী বস্তিতে মারা যাচ্ছে কি না তার খোঁজ আগে নিন।

গণমাধ্যমক সংশ্লিষ্টদের বলবো, বিচার বিভাগের উপর আস্থা রাখুন, বিচারের আগেই অশ্লীল কন্টেন্টে ঝাপিয়ে পড়া দর্শকদের কাছে ‘রাতের রাণীর’ বিচার তুলে দেবেন না। সুস্থ্য, সুন্দর ও সৃজনশীল কাজের পরিবেশ যেন বাধাগ্রস্ত না হয় সে জন্য আইন প্রয়োগ করুন। যদি একই প্রাসাদে রাতের রাণীদের সাথে রাতের রাজাদের না রাখতে পারেন তাহলে রাজারা নতুন 'রাতের রাণী' দিয়ে অন্দরমহল সাজাবে। ফলে মিডিয়া পাড়ার সংকট বাড়বে বৈ কমবে না।

লেখক: নাট্যকার ও ব্যাংক কর্মকর্তা


মন্তব্য

x