০৯ মে ২০২১, ১০:৪৯

যারা ভিসি হবেন, এই লিস্টটা তারা অনুসরণ করতে পারেন

লেখক  © টিডিসি ফটো

আমার ম্যাসেঞ্জেরে মাঝে মাঝেই ম্যাসেজ পাঠিয়ে জানতে চায় আমি যে ভিসিদের নিয়ে এত সমালোচনা করি আমি ভিসি হলে কি করতাম। আজকেও একজন জানতে চেয়েছে। তাই উত্তরটা ইনবক্স করে শুধু একজনকে না জানিয়ে সকলকে জানালাম।

তার অর্থ এই না যে আমি ভিসি হতে চাই। আমার ধারণা আমার এইসব দাবির কথা শুনলে আমাকে কেউ ভিসি বানাবে না। আর যদি বানায়ই তাহলে আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলছি উচ্চশিক্ষার মান অনেক উন্নত করে ছাড়ব। ভবিষ্যতে যারা ভিসি হবেন তারাও আমার এই লিস্ট অনুসরণ করতে পারেন।

১) আমি ভিসি হলে প্রথম যেই কাজটি করব তা হলো ভিসির ক্ষমতা কমানোর ব্যবস্থা করব। দুনিয়ার কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের এত ক্ষমতা নাই যত ক্ষমতা আমাদের ভিসিদের। শিক্ষক নিয়োগ ও প্রোমোশনের দায়িত্ব থেকে ভিসিদের অব্যাহতি দিয়ে এটি সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও ডিনের হাতে ছেড়ে দিলেই হয়। হার্ভার্ড এমআইটি কিংবা ক্যামব্রিজের ভিসি কে কেউ জানেনা এবং জানার প্রয়োজন নেই। এই একটি কাজ করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আকাম কুকাম অর্ধেক কমে যাবে।

২) শিক্ষক ছাত্রদের নিয়ে সরকারের কাছে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি জানতাম যাতে ছাত্ররা ন্যূনতম একটা পড়ার টেবিল পায়, ঘুমানোর বিছানা পায়, কাপড় রাখার একটা ওয়ার্ডরোব পায় এবং মানসম্পন্ন খাবার পায়।

৩)আমি প্রথমবর্ষের সকল ছাত্রদের হলে থাকার ব্যবস্থা করতাম। শেষ বর্ষের ছাত্রদের চেয়ে প্রথম বর্ষের ছাত্রদের হলে জায়গা দেওয়া বেশি জরুরি।

৪) শিক্ষক নিয়োগে আন্তর্জাতিক মানের সার্চ কমিটি করতাম।

৫) গবেষণার জন্য যথেষ্ট বরাদ্দের দাবি জানতাম।

৬) যোগ্য শিক্ষকদের যোগ্যতার আলোকে প্রমোশন ও রিওয়ার্ড এর ব্যবস্থা করতাম। সবাই সমান না। যে যত বেশি যোগ্য তাকে বয়স কিংবা অভিজ্ঞতার অজুহাতে আটকে না রেখে দ্রুত প্রমোশনের ব্যবস্থা করতাম।

৭) বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসকে গাছগাছালি আর পাখপাখালির কলতানে যেন মুখরিত থাকে সেই ব্যবস্থা করতাম।

৮) লাইব্রেরিকে আধুনিকায়ন করতাম যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেষ্ঠ দর্শনীয় ভবনটি হয় লাইব্রেরি।

৯) সরকারের কাছে দাবি জানতাম ছাত্র-শিক্ষক তথা আপামর জনতা বিদেশ থেকে বই কিনতে বা আনতে যেন ট্যাক্সের ঝামেলায় পরতে না হয়। এমপিরা কোটি কোটি টাকার ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি আনতে পারে আর আমি শিক্ষক হয়ে নিজের লেখা প্রকাশক থেকে প্রেরিত সৌজন্য কপি পেতেও টেক্স দিতে হবে? যা হোক সেই সময় ফেসবুকে লেখার কারণে কয়েকজন ট্যাক্স কর্মকর্তার সহযোগিতায় বিনা টেক্সেই বইটা পাই। তাতেতো সমস্যার সমাধান হলো না। মাত্র এক মাস আগেই এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আমাকে ফোন করে জানতে চেয়েছে আমি কিভাবে আমার বই এয়ারপোর্ট থেকে এনেছি। ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকরা যদি বিদেশ থেকে বিনা শুল্কে বই না আনতে পারে তাহলে পড়াশুনা করবে কিভাবে? খোঁজ নিয়ে জেনেছি ইউরোপের কোন দেশ ব্যক্তিগত বইয়ে কোন শুল্ক প্রদান করতে হয় না। সেটা যতগুলো বই হউক। ছাত্র শিক্ষকদের পড়ার বইয়ে ট্যাক্স বসাতে পারে কেবল অসভ্য দেশ যারা চায় না দেশের মানুষ শিক্ষায় শিক্ষিত হউক।

১০) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন পদ্ধতির পরিবর্তন করতাম এবং দ্বিতীয় পরীক্ষক সিস্টেম বাদ দিতাম।

লেখক: অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়