পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেই পুরোদস্তুর রাজনীতিবিদ হয়ে উঠেন শিক্ষকরা

  © টিডিসি ফটো

এই দেশে আজ পর্যন্ত কোন ভালো মানের পিএইচডি ডিগ্রী হয়নি। পিরিয়ড! কেউ যদি বলে এখানেও কিছু ভালো পিএইচডি হচ্ছে সে তাহলে ভালো মানের পিএইচডি কাকে বলে তার সংজ্ঞাই জানেনা। আমার জানার বাহিরে একজন দুজন থাকলে সেটাকে ব্যতিক্রম হিসাবে নেওয়া যেতে পারে উদাহরণ হিসাবে না।

একটি ভালো পিএইচডি মানে সে সেই ডিগ্রী দিয়ে বিদেশে ভালো কোন প্রতিষ্ঠানে পোস্ট-ডক্টরাল ফেলোশিপ পাবে। বাংলাদেশে পিএইচডি করে কেউ বিদেশে কোথাও পোস্ট-ডক ফেলোশিপ কি আজ পর্যন্ত কেউ পেয়েছে? ভারতে পিএইচডি করে স্ট্যানফোর্ড, প্রিন্সটন, হার্ভার্ডে পোস্ট-ডক করেছে এইরকম আমার নিজের পরিচিত ৬ জনের নাম এখনই বলতে পারব। এছাড়া অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বা জার্মানির হুমবোল্ডত ফেলোশিপ পেয়েছে অসংখ্য ভারতীয়। বাংলাদেশে পিএইচডি করে কেউ Humboldt ফেলোশিপ বা পোস্ট-ডক্টরাল ফেলোশিপ পেয়েছে এইরকম উদাহরণ অন্তত আমার জানা নাই। কারো জানা থাকলে জানাবেন।

মান যাই হউক বস্তা বস্তা পিএইচডি থিসিস লিখিয়ে শত শত পিএইচডি ডিগ্রী ঠিকই আমরা দিচ্ছি। আসলে আমাদের সমস্যা অনেক। পিএইচডি ডিগ্রীর আগে পিএইচডি ডিগ্রী দেওয়ার মত শিক্ষক আছে কিনা সেইটা দেখতে হবে। আমাদের অনেকেই দেশের বাহিরে মোটামুটি একটা পিএইচডি করে অনেকেই দেশে ফিরে আসে। সেই পিএইচডিকে অনেকেই মঞ্জিলে মাকসুদ কায়েম হয়ে গেছে মনে করে।

তারপরই শুরু হয় রাজনীতি করা। সেই পিএইচডিকে তারা কেবল অর্নামেন্ট হিসাবে ব্যবহারই করে। এই পিএইচডিকে ব্যবহার করে তারা না নিজে গবেষণা করে না ছাত্রদের গবেষণা করায়। সরকারও গবেষণা পরিবেশ সৃষ্টি করার ব্যাপারে সহায়ক কোন ভূমিকা পালন করে না। আমি এমন মানুষদেরও জানি যে, বিদেশ থেকে পিএইচডি করে আসার পরপরই পুরোদস্তুর রাজনীতিবিদ হয়ে উঠেছেন এবং তার ফলও পেয়েছেন অতিদ্রুত। কেউ ছোট কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হয়েছে, কেউ পিএসসির সদস্য হয়েছে বা ইউজিসির সদস্য হয়েছে। অর্থাৎ বিদেশ থেকে এসে পিএইচডি করার লাভটা ছাত্রছাত্রীরা পেল না। সে নিজেও শিক্ষকতা করার সুযোগও পেল না। নতুন নতুন বিববিদ্যালয় হওয়াতে এর মাত্রা দিনদিন কেবল বাড়ছে।

সরকার দেশের মানুষদের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে একেকজনের পেছনে কোটি কোটি টাকা খরচ করে পিএইচডি করাচ্ছে। কই আমাদের পেছনেতো সরকারকে এক পয়সাও খরচ করতে হয়নি। এমনকি বাবা-মাকেও একটি পয়সা খরচ করতে হয়নি। উল্টো বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে দেশে এসেছি। পৃথিবীতে এমন কোন দেশ কি আছে যেই দেশ সাধারণ মানুষের টেক্সের টাকা দিয়ে গণহারে দেশের আমলাদের ও কিছু শিক্ষককে অন্য দেশে পিএইচডি করায়? ব্যতিক্রম হিসাবে বিশেষ কোন প্রয়োজনে দুয়েকজনকে বিশ্বসেরা প্রতিষ্ঠান থেকে হয়তো করিয়েছে। কিন্তু ব্যতিক্রম উদাহরণ না। আমাদের সাধারণ মানুষের টাকা দিয়ে অন্য দেশে গবেষণা এটা কি কল্পনা করা যায়?

এই কোটি কোটি টাকা এইভাবে অন্য দেশে গবেষণায় খরচ না করে নিজ দেশে বিনিয়োগ করে কিছু আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠান তৈরী করে সেখানে বিশ্বমানের দেশি এবং বিদেশী গবেষকদের নিয়োগ দিয়ে নিজ দেশেই গবেষণার পরিবেশ তৈরী করা যেত। তাতে দিন যত যেত গবেষণার মান বাড়তো, পরিবেশ উন্নত হতো, দেশের সুনাম বৃদ্ধি পেত। শুধু লাভই লাভ। কিন্তু এইগুলা হবার লাই। কারণ আমাদের আমলারা বিদেশ ভ্রমণের জন্য চাতক পাখির মত মুখিয়ে থাকে। এরা কেবল বিদেশ ভ্রমণেই যায়। কিছু শিখে বলে মনে হয়না। যেইসব হাস্যকর জিনিস শিখতে এরা বিদেশ যায় তা দেখেও এরা জীবনে কি শিখেছে তা নিয়ে সন্দেহ জাগে। এত এত ভ্রমনে গিয়ে কত শত ট্রেনিং নিয়ে আসলো কিন্তু কোন লাভতো দেখছি না।

লেখক: অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়


সর্বশেষ সংবাদ