২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:৩৪

প্রাথমিক শিক্ষকদের যে কারণে ১০ম ও ১১তম গ্রেড দিতেই হবে

  © ফাইল ফটো

বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই শিক্ষকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা সব সময়ই শিক্ষকদের যে কোন যৌতিক ও ন্যায্য দাবির প্রতি আন্তরিক ও শ্রদ্ধাশীল।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের ১০গ্রেড ও সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১১গ্রেড বাস্তবায়ন হলে- প্রাথমিক শিক্ষায় অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হবে বলে আমার বিশ্বাস।

যেমন:-
ক) প্রাথমিক শিক্ষকদের মধ্যে থেকে হতাশা ও বঞ্চনা দূর হবে।

খ) প্রাথমিক শিক্ষার গুনগত মান বৃদ্ধি পাবে।

গ) শিক্ষকদের কাজে গতি সঞ্চার হবে।

ঘ) মেধাবীরা শিক্ষকতা পেশার প্রতি আকৃষ্ট হবে ।

ঙ) শিক্ষকগন কাজের প্রতি অধিক মনোনিবেশ করতে পারবেন ।

চ) শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে ।

ছ) প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে পারস্পারিক সম্পর্ক মজবুত হবে।

এ সকল বিষয়ের প্রতি বিবেচনা করে আমরা শিক্ষকদের দাবি আদায়ে আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন প্রদান করছি।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ও সচিব মহোদয় বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন সভা সেমিনারে ও সাক্ষাৎকারকালে আমাদের দাবি পুরনের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছেন, যা আমাদের সবারই জানা।

এরই ধারাবাহিকতায় আমাদের মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদয় গত ২৯ জুন প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১০ম গ্রেড ও সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১২তম গ্রেড প্রদানের জন্য একটি পত্র অর্থমন্ত্রণালয়ে প্রেরন করেন। অর্থমন্ত্রণালয় গত ৮ সেপ্টেম্বর জানিয়ে দিয়েছেন যে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান ও সহকারী শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির কোন সুযোগ নেই।

এ সংবাদ প্রকাশ হবার পর সমগ্র শিক্ষক সমাজে হতাশা নেমে আসে। এখন শিক্ষকগন অনুধাবন করতে পেরেছে যে, আন্দোলন ছাড়া তাদের দাবি আদায় করা সম্ভব নয়। তাই আমি সকল প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠন গুলোকে অনুরোধ করছি সবকিছু ভুলে দাবি আদায়ে ঐক্য বদ্ধ হতে হবে। আমাদের প্রধান শিক্ষক সমিতির কথা অতন্ত্য সুস্পষ্ট ও স্বচ্ছ।

আমি আবারও বলছি যে, আমরা সব সময়ই শিক্ষকদের যেকোন দাবির প্রতি আন্তরিক ও শ্রদ্ধাশীল। এবং শিক্ষকদের দাবি আদায়ে আমরা সার্বিক ভাবে সাহায্য সহযোগিতা, পরামর্শ, দিক নিদর্শনা দিতে প্রস্তুত ও তাদের পাশে আছি।

তবে একটি কথা সবাইকে মনে রাখতে হবে যে, আমাদের মধ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্ক, শ্রদ্ধাবোধ যেন বজায় থাকে এবং প্রত্যেকে যেন নীতি, নৈতিকতা শিষ্ঠাচার বজায় রাখি ও শুদ্ধাচার মেনে চলি। তাহলে আমাদের পথচলা সহজ হবে।

আমার কথাগুলো ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করবেন। আবার কেউ যদি মনে কষ্ট পেয়ে থাকেন তাহলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

লেখক: সভাপতি,
বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতি (কেন্দ্রীয় কমিটি)