তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি’র ভূমিধস বিজয়
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) যে অভূতপূর্ব এবং ভূমিধস বিজয় অর্জন করেছে, তা কেবল একটি সাধারণ নির্বাচনী ফলাফল নয়; বরং এটি বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী মোড় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাস জীবন শেষে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন, দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণজনিত আবেগীয় প্রেক্ষাপট এবং বিএনপির রাষ্ট্র সংস্কারের সুনির্দিষ্ট ৩১ দফা কর্মসূচি—এই তিনটি উপাদানের সমন্বয়ে যে রাজনৈতিক রসায়ন তৈরি হয়েছিল, তার চূড়ান্ত প্রতিফলন ঘটেছে এই নির্বাচনের ফলাফলে । ১৩ ফেব্রুয়ারি সকাল পর্যন্ত পাওয়া বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভ করে দীর্ঘ ২০ বছর পর সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। বিজয়ী হওয়ার পথে তারেক রহমান দেশের মানুষের উদ্দেশ্যে এবং গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। তারেক রহমান স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন যেন জয়ের পর কোনো ধরনের বিজয় মিছিল বা হাঙ্গামা করা না হয়। তিনি নেতাকর্মীদের কোনো বিজয় মিছিল না বের করার অনুরোধ জানিয়েছেন, যাতে সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন না ঘটে। বরং শুক্রবার জুম্মাবারে দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণের অনুরোধ জানান। অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে দূরে থেকে সবাইকে শান্ত থাকতে এবং দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বলেছেন। তিনি যারা দীর্ঘ সংগ্রাম করেছেন, তাদের সবাইকে নিয়ে দেশ চালানোর আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন।
২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাস জীবন শেষে বাংলাদেশে ফিরে আসা ছিল বিএনপির জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট। ঢাকা বিমানবন্দরে লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতি কেবল একজন রাজনৈতিক নেতার ফিরে আসা ছিল না, বরং এটি ছিল বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের জন্য এক বিশাল মনস্তাত্ত্বিক অনুপ্রেরণা । দেশে ফেরার পর ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান যে জনসমাবেশে ভাষণ দেন, সেখানে তিনি “সবার আগে বাংলাদেশ” এবং “নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার” প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন । বিশ্লেষকদের মতে, তার এই ভাষণের মূল বৈশিষ্ট্য ছিল প্রতিশোধমূলক রাজনীতির পরিবর্তে রাষ্ট্র সংস্কার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির ডাক দেওয়া । তিনি মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের আদলে “আই হ্যাভ অ্যা প্লান” বা “আমার একটি পরিকল্পনা আছে” বলে যে বক্তব্য প্রদান করেন, তা বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে বিশেষ আবেদন তৈরি করে । এই ভাষণে তিনি অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, এবং বিচারবিভাগের স্বাধীনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যা ভোটারদের মনে বিএনপির প্রতি একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করতে সক্ষম হয়।
অর্থাৎ ভাষণের মূল বিষয় ছিল সবার আগে বাংলাদেশ, জাতীয়তাবাদকে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া, নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার প্রতিজ্ঞা, সংখ্যালঘু ও নারী সুরক্ষা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার-বেকারত্ব দূরীকরণ ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি। রাজনৈতিক সহাবস্থান-প্রতিশোধের রাজনীতির অবসান ঘটানোর ঘোষণা। তারেক রহমানের এই কৌশলগত নমনীয়তা এবং ভবিষ্যৎমুখী পরিকল্পনা তাকে একজন কেবল ‘উত্তরাধিকারী’ নেতা থেকে একজন ‘রাষ্ট্রনায়ক’ হিসেবে তুলে ধরতে সাহায্য করেছে ।
৩০ ডিসেম্বর (২০২৫) বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মহাপ্রয়াণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গভীর শূন্যতা তৈরি করলেও, এটি বিএনপির জন্য একটি বিশাল আবেগীয় সংহতির ক্ষেত্র তৈরি করে। ৩১ ডিসেম্বর তার জানাজায় উপস্থিত বিপুল জনসমাগম প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের মধ্যে তার প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা এবং বিএনপির প্রতি ঐতিহাসিক আনুগত্য বিদ্যমান ছিল। খালেদা জিয়ার জানাজায় কেবল বিএনপি নেতাকর্মী নয়, বরং সাধারণ মানুষের ঢল নেমেছিল, যা অনেক বিশ্লেষকের মতে একটি “নীরব গণভোটে” পরিণত হয়েছিল। এই আবেগীয় মুহূর্তটি তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি কতটা গভীরে প্রোথিত, তা স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান করে তোলে। তারেক রহমান তার মায়ের মৃত্যুর পর অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে শোকাতুর জনগণকে নেতৃত্ব দেন এবং সেই শোককে একটি গঠনমূলক রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করতে সক্ষম হন। আসলে ৩০ ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু, বিএনপির নেতৃত্বে একটি নতুন যুগের সূচনা ঘটায়। ৩১ ডিসেম্বর সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজায় সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে সাংগঠনিক শক্তির বহিঃপ্রকাশ হয়। ১ জানুয়ারি( ২০২৬) থেকে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সাথে বিএনপির রাজনৈতিক সমন্বয় দৃশ্যমান।
নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপির সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার ছিল তাদের ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি । এটি কেবল একটি নির্বাচনী ইশতেহার ছিল না, বরং এটি ছিল বাংলাদেশের প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক কাঠামো পরিবর্তনের একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা । বিএনপির ৩১ দফার মধ্যে প্রধান ছিল অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী পদের মেয়াদ দুই মেয়াদে সীমাবদ্ধ রাখা এবং উচ্চকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্ট গঠনের প্রস্তাব ছিল অত্যন্ত যুগান্তকারী । প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমা ক্ষমতার এককেন্দ্রিকতা কমানো এবং স্বৈরতন্ত্র প্রতিরোধ দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ-বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবীদের রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণে অন্তর্ভুক্ত করা; নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার-অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা; ডিজিটাল অধিকার- নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট এবং ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রভৃতি দফাগুলো যখন মাঠ পর্যায়ে প্রচার করা হয়, তখন সাধারণ ভোটারদের মধ্যে একটি আস্থা তৈরি হয় যে, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর গুণগত পরিবর্তন আসবে । পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যেসব এলাকায় ৩১ দফার বিস্তারিত প্রচারণা বেশি হয়েছে, সেখানে বিএনপির ভোটের ব্যবধান অন্যান্য এলাকার তুলনায় বেশি ছিল ।
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের আগে তারেক রহমান ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় সরাসরি সফর এবং নির্বাচনী জনসভা করেন। বাংলাদেশের নির্বাচনী সংস্কৃতিতে নেতার সরাসরি উপস্থিতি ভোটারদের মধ্যে একটি বিশাল প্রভাব ফেলে। তারেক রহমান তার নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন সিলেট থেকে, যেখানে তিনি হযরত শাহজালালের (র.) মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে প্রচারণা শুরু করেন। এরপর তিনি চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ এবং উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জনপদে সফর করেন। এই সফরগুলোর মাধ্যমে তারেক রহমান দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রচারণা চালাতে সক্ষম হন। প্রার্থীদের পরিচিতি সভা এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় নেতৃত্বের প্রতি আস্থাকে আরও দৃঢ় করে ।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি মৌলিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে । অতীতে ধর্মীয় আবেগ একটি বড় হাতিয়ার হলেও, ২০২৬ সালের নির্বাচনে ভোটাররা “সুশাসন” এবং “অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে” বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ভোটাররা ধর্মের নামে বিভাজন পছন্দ করেননি, বরং উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং কর্মসংস্থানই ছিল তাদের প্রধান দাবি। জামায়াতে ইসলামীর মতো ধর্মীয় দলগুলো তাদের প্রচারণায় দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের কথা বললেও, বিএনপি তাদের জাতীয়তাবাদী ও উন্নয়নমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সমর্থন আদায় করতে সক্ষম হয়। ভোটারদের একটি বড় অংশ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম (জেন-জেড), মনে করেছে যে ধর্মের বাণিজ্যিকীকরণ বা রাজনৈতিক ব্যবহার রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর । তারা বিএনপির ৩১ দফার মধ্যে থাকা সুনির্দিষ্ট সংস্কার কর্মসূচির প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়েছে।
ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রশাসন এবং বিচার বিভাগ সংস্কারের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের অবকাশ ছিল। অভিযোগ উঠেছিল যে, কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হয়েছে। ড. ইউনূসের সরকার অনেকগুলো সংস্কার কমিশন গঠন করলেও মাঠ পর্যায়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল । এই সময় আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং বিচার বিভাগের রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকার প্রশ্নটি সামনে আসে। তবে নির্বাচনের সময় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ এবং গণমাধ্যমের নজরদারি মিলিয়ে একটি মোটামুটি স্বচ্ছ চিত্র তৈরি হয়, যা ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট দিতে উৎসাহিত করে। কিছু এলাকায় বিশৃঙ্খলা ও মব ভায়োলেন্স বিদ্যমান ছিল সেখানে বিএনপির সুশাসন ইমেজের সুযোগ তৈরি করে। ৩১ দফার গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়, ভোটারদের পরিবর্তনমুখী করে তোলে।
ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি এই নির্বাচনের চরিত্র সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছিল । আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ বা নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় রাজনৈতিক ময়দানে প্রতিযোগিতার জন্য একটি বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়। তবে এই শূন্যতা বিএনপিকে স্বস্তিতে রাখেনি, কারণ জামায়াতে ইসলামী এবং ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে গড়ে ওঠা ‘জাতীয় নাগরিক কমিটি’ (NCP) শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়। ফলে বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে অত্যন্ত দৃঢ় হতে হয়েছে কারণ এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল মূলত বহুমুখী। প্রতিদ্বন্দ্বীদের চাপের মুখেও বিএনপি নিজেকে কেন্দ্রীয় বিকল্প শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়, কারণ তাদের ছিল দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং বিশাল তৃণমূল কর্মী বাহিনী। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি এবং তার জোট অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করে । প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপি প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আসন লাভ করতে সক্ষম হয় । তারেক রহমান বগুড়া-৬ এবং ঢাকা-১৭ আসন থেকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন । বিশেষ করে বগুড়া-৬ আসনে তিনি ১ লাখ ১৮ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করেন।
এই বিজয় কেবল আসন সংখ্যা বা ক্ষমতার প্রশ্ন নয়, বরং এটি একটি গভীর রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। জনসমর্থন আদায়ের ক্ষেত্রে আবেগ এবং কর্মসূচির যে সমন্বয় বিএনপি করেছে, তা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য একটি মডেল হতে পারে । বিজয়ের কারণ হলো- ১. সুশৃঙ্খল প্রচারণা: তারেক রহমানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে সংগঠিত প্রচারণা ভোটারদের আস্থাকে ফিরিয়ে আনতে কাজ করেছে। ২. নীতি-নির্ভর রাজনীতি: ৩১ দফার মতো সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি সাধারণ মানুষের কাছে রাজনৈতিক দলের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায়। ৩. আবেগ ও নেতৃত্বের দৃশ্যমানতা: শোকের মুহূর্তকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর এবং নেতার সরাসরি উপস্থিতি তৃণমূলকে ঐক্যবদ্ধ রাখে।
ভূমিধস বিজয় অর্জন করা এক বিষয়, কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনা করা এবং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা আরেকটি কঠিন চ্যালেঞ্জ। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো হলো: ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়ন । নির্বাচন পরবর্তী দুই বছরের মধ্যে এই সংস্কারগুলো সম্পন্ন করার যে অঙ্গীকার ছিল, তা পূরণ করা। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা: মুদ্রাস্ফীতি কমানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি করা। রাজনৈতিক সহাবস্থান: প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে আনা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। প্রশাসনিক ও বিচারিক সংস্কার: দলীয়করণের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা ।
বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে ২০২৬ সালের নির্বাচন এবং বিএনপির বিজয় একটি রাজনৈতিক পুনরুত্থানের মহাকাব্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে । তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি একটি আধুনিক, সংস্কারমুখী এবং জাতীয়তাবাদী দল হিসেবে নিজেকে পুনঃআবিস্কার করেছে । “সবার আগে বাংলাদেশ” এবং “নিরাপদ বাংলাদেশ” গড়ার যে স্বপ্ন তিনি দেখিয়েছেন, তার বাস্তবায়নের ওপরই নির্ভর করছে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা । যদি বিএনপি তাদের ঘোষিত ৩১ দফা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারে, তবে এই বিজয় কেবল একটি রাজনৈতিক জয় হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশের সামগ্রিক রাষ্ট্র সংস্কারের একটি সোপান হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেবে। নেতৃত্ব, সংগঠন, আবেগ এবং নীতির যে বিরল সমন্বয় এই নির্বাচনে দেখা গেছে, তা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
লেখক: সাবেক চেয়ারম্যান, থিয়েটার এন্ড পরফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়