২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০১:৪৫

ডাকসু নির্বাচন: স্বপ্ন বনাম বাস্তবতা

ডাকসু ভবন  © ফাইল ছবি

আগামী ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতিক্ষিত ও আলোচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন। ইতোমধ্যে এই নির্বাচনে নিজেদের দলীয় প্রার্থীদের নামের তালিকা প্রকাশ করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও স্বতন্ত্র প্যানেল। তার মধ্যে ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, বামপন্থী দলের পাশাপাশি আলোচনায় উঠে এসেছে কোটা আন্দোলনকারীদের প্যানেল। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটা আবাসিক হলেও হল ছাত্র সংসদের জন্য প্রার্থীতা ঘোষণা করেছে দলগুলো।

এখন দেখবার বিষয় ডাকসু নির্বাচন কতটা স্বচ্ছ ও অবাধ হবে। এ নির্বাচনকে নিয়ে সচেতন শিক্ষার্থীদের মত আমার ভাবনাটাও এখন নির্বাচনের স্বচ্ছতার প্রশ্নে। ঢাবি প্রশাসন কি পারবে দেশের সর্বোচ্চ এই বিদ্যাপীঠের ২৮ বছরের হারানো ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে দিতে? প্রশ্নটা এখন পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটা সাধারণ শিক্ষার্থীর। স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে, নাকি বাস্তবে রূপ নিবে সেটাই এখন দেখবার বিষয়।

ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগ ‘স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ শিরোনামে তাদের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ ও প্রচার করেছে। তাদের ইশতেহারে প্রতিটা বিষয় যুগোপযোগী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনের চাওয়া ও প্রাণের দাবির ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে বলে আমি মনে করি। প্রশ্নটা হচ্ছে বিজয়ী হলে ছাত্রলীগ রাজনৈতিক  দলের খোলস ভেঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দলে পরিণত হতে পারবে কি? আর যদি না পারে তবে ডাকসু নির্বাচনের বাস্তবতা কি হবে? আর যদি ছাত্রলীগ ব্যতীত অন্য কোন প্যানেল ঢাকসুতে বিজয়ী হয় তাহলে সেই প্যানেলে কারা আসবে সেটাও ভাববার বিষয়।

আবার একাধিক প্যানেল থেকেও ডাকসুর নেতৃবৃন্দের নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যদি সেটা হয় তাহলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থের প্রশ্নে তাদের মধ্যে মতের ঐক্য ঘটবেতো? ঢাকসু নির্বাচনে যে প্যানেলই নির্বাচিত হোক না কেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা চায় একটা সুস্থ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ। যেখানে সকল দলের সকল মতের শিক্ষার্থীরা স্বাধীনভাবে তাদের মূল্যবোধের চর্চা করতে পারবে, গণতান্ত্রিকভাবে তাদের চাওয়া পাওয়ার কথা ব্যক্ত করতে পারবে, শিক্ষার্থীদের সাথে যে কোন বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদ করবে। সর্বোপরি সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের হয়ে কাজ করবে এমন একটা কমিটি সকলের চাওয়া। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভূমিকাই এখানে প্রধান হিসেবে আমি মনে করি। কেননা তাদের প্রত্যক্ষ ভোটেই নির্বাচিত হবেন ডাকসুর ভিপি, জিএসসহ সব নেতৃবৃন্দ। আর তাই ডাকসুর হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে ও প্রকৃত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি নির্বাচনে সাধরণ শিক্ষার্থীরাই মুখ্য ভুমিকা পালন করবে বলে আমার বিশ্বাস।

একজন বাস্তববাদী ও আশাবাদী মানুষ হিসেবে এতটুকু আশা করতেই পারি যে, আগামী ১১ মার্চ ডাকসু নির্বাচনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ ভোটে এমন একটা কমিটি আসবে যারা কিনা সত্যিকার অর্থেই সবার হতে পারবে। সকল দল ও মতের হয়ে কাজ করে আলো ছড়াবে ২৮ বছরের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে।                                          

লেখক: শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
Email: rudrojalal@gmail.com