০৯ জানুয়ারি ২০২৪, ১৬:১৮

নতুন বছরে যেমন শিক্ষাব্যবস্থা চান গবি শিক্ষার্থীরা

  © টিডিসি ফটো

সময় স্রোতে প্রতিনিয়ত হারাতে থাকে আগামী। হতাশা ও অপ্রাপ্তিকে ছাপিয়ে নতুন আলোকবর্তিকা নিয়ে আসে নববর্ষ। শিক্ষাব্যবস্থা হলো সেই আলোর দিশারি৷ নতুন বছরে শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কি ভাবছেন তা জানাচ্ছেন হুমায়রা রহমান সেতু। 


শিক্ষা, শিক্ষার্থী ও সুস্থ রাজনীতির মিথস্ক্রিয়া চাই
আমাদের ব্যাক্তিগত ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা আমাদেরকে ২০২৩ এর সকল বাঁধা পেরিয়ে নিয়ে এসেছে ২০২৪ এ। আমরা নতুন লক্ষ্য নিয়ে একটি নতুন অধ্যায় শুরু করার জন্য প্রস্তুত। ছোটবেলা থেকেই আমরা জেনে এসেছি, “শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড”। শিক্ষার যথাযথ প্রয়োগ ও সুষ্ঠু বাস্তবায়নই একটি দেশের উন্নয়নের মূলমন্ত্র । এছাড়া দেশের বর্তমান অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই জনসাধারণের পাশাপাশি সকল শিক্ষার্থীদের জন্যেও ভাবনার বিষয়। এর ফলে শিক্ষানীতি, শিক্ষার মান, প্রশাসনিক জবাবদিহিতা এবং জনমতের স্বাধীনতায় বিরুপ প্রভাব দেখা দেয়। কাজেই, একটি সুষ্ঠ শিক্ষাব্যবস্থার নিমিত্তে গঠনমূলক রাজনীতি ও স্থিতিশীল সামাজিক আবহাওয়া অপরিহার্য ভূমিকা রাখে।

মো: মেরাজ হোসেন 
শিক্ষার্থী, অণুজীববিজ্ঞান বিভাগ

 

প্রযুক্তিভিত্তিক আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা চাই
যুগের সঙ্গে টেক্কা দিতে চাই উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা। যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারা বাঁধা কাঠামোগত সিলেবাস অনুসরণ করা শিক্ষার্থীদের মেধা বিকশিত না হওয়ার অন্যতম কারণ। তাই প্রযুক্তিভিত্তিক আধুনিক শিক্ষা নিশ্চিতের লক্ষ্যে নতুন বছরে বাস্তবসম্মত সমসাময়িক কারিকুলাম বা আউটকাম বেসড কারিকুলাম প্রণয়ন প্রয়োজন। এজন্য নতুন বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম শিক্ষার ওপর আরো জোর দেয়া হোক। এছাড়াও প্রয়োজন আরো উন্নত ল্যাবরেটরী স্থাপন। এদিকে নতুন বছরের শুরুতেই দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা শুরু, যার প্রভাব পড়ছে শিক্ষাব্যবস্থায়। হরতালের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা কোনোটিই ঠিকমতো হচ্ছে না। যার দরুন শিক্ষার্থীরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সকল রাজনৈতিক বিপর্যয় কাটিয়ে নতুন বছরে আমার বিশ্ববিদ্যালয় কে আবার নতুন করে দেখতে চাই। 

সুমাইয়া ইসলাম কলি
শিক্ষার্থী, বায়োকেমেস্টি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি


ডিগ্রী অর্জন নয় প্রকৃত জ্ঞান অর্জনের সূচনা হোক
পালাবদলের চক্রে আবারও হারিয়ে গেলো একটি বছর। পেছনের সমস্ত না পাওয়া কে ভুলে নিজেদের এগিয়ে যেতে হবে সম্মুখে। পুঁথিগত বিদ্যায় নিজেকে সীমাবদ্ধ না রেখে চিন্তাশক্তির প্রসার ঘটতে হবে। শুধু ধর্মীয় বেড়াজালে আবদ্ধ না হয়ে প্রকৃত জ্ঞান অর্জন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় হলো উম্মুক্ত জ্ঞান অর্জনের অন্যতম একটি প্ল্যাটফর্ম। এখান থেকেই আমরা একাডেমিক জ্ঞান সহকারে অর্জন করি নেতৃত্বগুণ ও রাজনৈতিক গুরুমন্ত্র। প্রকৃত এই শিক্ষার জন্য শিক্ষাকে সামগ্রিক বিষয়ে আবদ্ধ না রেখে গবেষণাধর্মী করতে হবে। সমৃদ্ধ লাইব্রেরীর সাথে বিভিন্ন ক্লাব, সংগঠনের চর্চা গড়ে তুলতে হবে। বিভিন্ন সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবীমূলক কাজে অংশ নেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করা ও সুস্থ রাজনৈতিক বিকাশে কাজ করার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

হোসেন মাহমুদ শিহাব
শিক্ষার্থী, রাজনীতি ও প্রশাসন


গণ বিশ্ববিদ্যালয় একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান 
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বো এটা আমার স্বপ্ন ছিল, নতুন বছরে এসে যা পূর্ণ হয়ছে। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে গণ বিশ্ববিদ্যালয় ছিল আমার প্রথম পছন্দ। এখানে নেই সেশন জট। বৃত্তির ব্যবস্থা থাকাতে দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা লাভের সুযোগ পাচ্ছে। একেবারে প্রকৃতি মায়ের কোল ছুঁয়ে নৈসর্গিক এক পরিবেশ রয়েছে এখানে। তাই গর্ব করে বলতে হয় গণ বিশ্ববিদ্যালয় আমার ভাঙা স্বপ্নকে পুনর্জীবন দান করেছে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যখন  র‍্যাগিং এর শিকার হয় তখন আমরা এমন শিক্ষক এবং বড় ভাই-বোন পাচ্ছি যারা খুবই অমায়িক। তাদের সাফল্য আমাদের অনুপ্রেরণা। গণ বিশ্ববিদ্যালয় কম খরচে পড়াশুনার মান ঠিক রেখে সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা দিয়ে শিক্ষার্থীদের সফলতায় ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়টির লাইব্রেরীতে বইয়ের সংকট রয়েছে। যা এখানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত নয়। 

ফাহমিদা আফরিন
শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ